Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের শোক : মুক্তিযোদ্ধা শমশের আলম চৌধুরী জাতীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন : জানাযায় শোর্কাত মানুষের ঢল

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের শোক : মুক্তিযোদ্ধা শমশের আলম চৌধুরী জাতীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন : জানাযায় শোর্কাত মানুষের ঢল

Janaja - Rafiq - Kutbazar 10.02.16 (news 1pic)f1রফিক মাহামুদ; কোটবাজার :
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, বর্ষিয়াণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক শমসের আলম চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে——রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। ১০ ফেব্রুয়ারী রাত ২.৪০ মিনিটের সময়  চট্টগ্রাম সার্জিস্কোপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্ষিয়াণ রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব মরহুম শমশের আলম চৌধুরীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে তাঁর বাস ভবনে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ। লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স রত্নাপালংস্থ বাসভবনে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে মরহুম শমশের আলম চৌধুরীর নামাজে জানাযা বিকাল ৫ টায় পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন পীরে কামেল আলমুদ্দিন ফকির (মঃজিঃআঃ)। নামাজে জানাযার পূর্বে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন ও উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শমশের আলম চৌধুরীকে জাতীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মরহুমের নামাজে জানাযায় উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণ করেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন। নামাজে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন মরহুমের সংক্ষিপ্ত স্মৃতি চারণ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা কক্সবাজার জেলা আ’লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, জেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট এ.কে আহমদ হোছাইন, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, রামু-কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি, জেলা আ’লীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোঃ শাহজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা (অবঃ) ক্যাপ্টেন আব্দুস সোবাহান, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহামুদুল হক চৌধুরী।
মরহুমের পরিবারের পক্ষে স্মৃতি চারণ করেন, মরহুমের ছোট পুত্র কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী। জানাযায়, উখিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরী, কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন) সম্পাদক আকতার চৌধুরী, দৈনিক আজকের দেশবিদেশের সম্পাদক এ্যাডভোকেট আয়ুবুল ইসলাম, দৈনিক ইনানীর সম্পাদক ও প্রকাশক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাহেদ সরওয়ার সোহেল, কক্সবাজার জেলা রিপোর্টাস ইউনিটের সভাপতি ও দৈনিক ইনানীর নির্বাহী সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয়, সাধারণ সম্পাদক ইমরুল রাশেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
মরহুম শমশের আলম চৌধুরীর কফিনে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একে একে পুস্পমাল্য অর্পন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উখিয়া উপজেলা প্রশাসন, উখিয়া উপজেলা পরিষদ, রামু উপজেলা প্রশাসন, রামু উপজেলা পরিষদ, উখিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উখিয়া উপজেলা আ’লীগ, উখিয়া উপজেলা যুবলীগ, জেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
এদিকে নামাজে জানাযা শেষে মরহুমকে খন্দকার পাড়া কবরস্থানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্ষীয়াণ রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর আলহাজ্ব মরহুম শমশের আলম চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর ভাবে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
এছাড়াও উখিয়ার কৃর্তিমান মহাপুরুষ শমশের আলম চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোঃ শফিউল আলম।
মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ৩ কন্যা, নাতি-নাতনি, আত্মীয় স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

শমসের আলম চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের আলম চৌধুরী ১৯২১ সালের ৮ ডিসেম্বর উখিয়া উপজেলা রত্নাপালং ইউনিয়নের রত্নাপালং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শমশের আলম চৌধুরী মরহুম হাকিম আলী চৌধুরী ও মরহুমা আমেনা খাতুনের পুত্র। তিনি ৬ ছেলে ও ৩ কন্যার জনক ছিলেন। তিনি রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেখান থেকে মেট্রিক পরীক্ষা না দিয়ে ব্রিটিশ আর্মিতে যোগদান করেন। পরে ব্রিটিশ আর্মিতে সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আর্মিতে প্রায় ৬ বছর চাকুরী করার পর ব্যবসা শুরু করেন। তিনি একজন প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ, সরকারী গুদাম নির্মাণ, ওয়াসার পানি সরবরাহ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি করেন।
১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আওয়ামী মুসলীম লীগের রাজনীতি শুরু করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী সমুদ্র পথ দিয়ে কক্সবাজার আসলে তিনি তাদের রিসিভ করেন। তার নেতৃত্ব মুক্তি সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। তিনি সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৫ বছর রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে উখিয়া-টেকনাফ আসন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী ছিলেন। কথিত আছে, ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচত হলেও তৎকালীন জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবেও দায়িত্বপালন করেন। মরহুম শমসের আলম চৌধুরী রাজনৈতিক জীবনে জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ, সহ-সভাপতি, উপদেষ্টা ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম রাইফেল্স ক্লাবেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়া তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সমাজ সংস্কার ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য।
এছাড়াও তিনি অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একজন সৎ, সাহসী, জনদরদি নেতা হিসাবে তাঁর ব্যাপক সুনাম ছিল।

%d bloggers like this: