শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের ভ্যান গাড়ি বিড়ম্বনা

শহীদুল্লাহ্ কায়সার, সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে 

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। শীত মৌসুম এলেই ক্ষুদ্র এই দ্বীপটি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়। দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও রয়েছেন এই তালিকায়। নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যাঁদের প্রতিনিয়ত শিকার হতে হচ্ছে নানান বিড়ম্বনার। জাহাজে উঠা থেকে শুরু করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সবক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্যানগাড়ি চালকদের যন্ত্রণায় অতীষ্ট ভ্রমণে আসা লোকজন।

ভ্যান চালকদের কারণে বর্তমানে দ্বীপটিতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন না। যেদিকেই যান ভ্যান চালকরা উৎপাত করতে থাকে। ক্ষুদ্র দ্বীপ হলেও ভ্রমণে আসা অধিকাংশ পর্যটকের এই দ্বীপ সম্পর্কে পূর্ব ধারণা থাকে না। আর সেটিকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে গুটি কয়েক তিন চাকার ভ্যান গাড়ি চালক। দর্শনীয় স্থান দেখানোর লোভনীয় প্রস্তাব দেখিয়ে হয়রানি করে ভ্রমণকারীদের।

দ্বীপের আকর্ষণীয় স্থান দেখানোর প্রলোভন দিয়ে পর্যটকদের কাছে টানলেও কিছুক্ষণ পর হয় হিতে-বিপরীত। মাত্র আধা কিলোমিটার ভ্যান চালিয়ে পর্যটকদের নামিয়ে দেয় একটি স্থানে। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাঁদের আর দেখাই মিলে না। পর্যটকদের যাওয়ার প্রাক্কালেই আবার চলে আসে। এরপর শুরু করে বাক-বিতণ্ডা। পর্যটকরা কম টাকা দিতে চাইলেই অশ্লীল বাক্য ছুড়ে দেয়। ফলে আত্মসম্মাানের ভয়ে ভ্রমণকারীরা ভ্যান চালকদের টাকা দিতে বাধ্য হন।

৯ ডিসেম্বর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকবাহী জাহাজ ঘাটে নোঙর করতেই তেড়ে আসে একদল ভ্যান চালক। স্থানীয় স্বরে আধো আধো বাংলা ভাষায় কথা বলে তারা। পর্যটক দেখলেই আর পিছু ছাড়ে না। প্রথমেই হাতে থাকা বাক্স-পেটরার দিকে চোখ দেয়। সেগুলো তুলে আনে নিজেদের ভ্যানের উপর। আশ্বাস দেয় দ্বীপের আকর্ষণীয় চারটি স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর। এরপরই শুরু হয় প্রতারণা ধাপ।

দরদাম করতে চাইলে ভ্যান চালকরা প্রথমদিকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পর্যটকদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত একটি দফা-রফা হয়। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের ৩’শ থেকে ১ হাজার টাকা গুণতে হয় ভ্যানের ভাড়া। ভ্যানে তুলেই যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় আধা কিলোমিটার দূরের সমুদ্র সংলগ্ন একটি এলাকায়। এরপর তাঁদের কাছে ভ্যান চালকরা দেয় নিজেদের মোবাইল নম্বর। জানায় ফোন করলেই তারা আবার নির্দিষ্ট স্থানে এসে অন্য একটি পর্যটন স্পটে নিয়ে যাবে।

এরপর দ্রত ভ্যান চালকরা আবার ঘাটে ফিরে আসে। সেখানে এসে আরো একদল পর্যটককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার পর্যটকদের হয়রানি করে ভ্যান চালকরা। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও পর্যটকরা দেখা পান না তাঁদের বহনকারী ভ্যান আর চালকের। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সেটি থাকে বন্ধ। পরবর্তীতে রাস্তায় বের হলেই সেই ভ্যান চালক তাঁদের কাছে আসে। ঠিক করে দেয় অন্য একটি ভ্যান। আর বলে দেয় ভ্যান ভাড়া যেন তাকে দিয়ে দেয়া হয়। এরই মাঝে পর্যটকদের অনেক দিনের আানন্দেও ভ্রমণ পরিণত হয় নিরানন্দে।

৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যান ইয়াছিন নামে এক তরুণ আইনজীবী। সেখানে পৌঁছেই চারশ টাকার বিনিময়ে একটি ভ্যান ভাড়া করেন তিনি। ভ্যানটি তাঁদের সৈকত সংলগ্ন একটি জায়গায় পৌঁছে দিয়েই লাপাত্তা হয়ে যায়। এরপর অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও তিনি আর ভ্যান চালকের সন্ধান পাননি। কিন্তু বিকেলের দিকে হটাৎ করে ভ্যান চালকের দেখা পান। ভ্যান চালক ভাড়া দাবি করলে ইয়াছিন ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক বাক-বিতণ্ডার পর এক পর্যায়ে সম্মানের ভয়ে তিনি ভ্যান চালককে টাকাও দিয়ে দেন।

ইয়াছিনের মতো প্রায় সব পর্যটকের ভাগ্যেই ঘটে এমন বিড়ম্বনার ঘটনা। প্রতারিত হওয়ার পরই পর্যটকরা যা বুঝতে পারেন। কিন্তু তখন করার আর কিছুই থাকে না। শুধু ভবিষ্যতের শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ এবং অদূর ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ইচ্ছুক নিকটজনদের পরামর্শ দেয়া ছাড়া।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com