রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পড়ালেখার মান কমছে : নানা সমস্যায় জর্জরিত টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ

Giasuddin - teknaf news 11-08-15গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :

কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের একমাত্র ডিগ্রী কলেজটি নানান সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। নেই কোন লেখাপড়ার মান। কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের হোস্টেলটি লক্কর-ঝক্কর হয়ে গিয়ে ছাত্রদের থাকার কোন পরিবেশ নেই। বিজ্ঞান বিভাগের ভবনটিও দীর্ঘ ২ বছর ধরে আনসার বাহিনীদের দখলে। তাই এই বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অতি সামান্য। আকর্ষণীয় খেলাধুলার মাঠটিও এখন খানাখন্দকে ভরা হওয়ায় সবসময় পানিতে নিমজ্জিত হয়ে থাকে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এই ডিগ্রী কলেজটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬’শ ৫০ জন। এর মধ্যে নিউ ফাস্ট ইয়ারে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে ৭৪ জন, এদের মধ্যে বিএ-তে ৩০ জন, বি.এস.এস-তে ৩১ জন, বি.বি.এস-তে ১৩ জন, ২০১৩-২০১৪ বর্ষে বিএ-তে ৬জন, বি.এস.এস-এ ৩১ জন, বিবিএস-এ ১৩ জন ও ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে বিএ-তে ১০, বি.এস.এস-এ ৩৩ জন, বি.বি.এস-এ ১১জন। ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে বিএ-তে ১২ জন, বি.এস.এস-এ ৩২ জন, বি.বি.এস-এ ২০ জন।

উচ্চ মাধ্যমিক ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে মানবিকে রয়েছে ১৫৬ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষায় রয়েছে ৭৮ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ৬ জন, ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে মানবিকে রয়েছে ১০৩ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষায় রয়েছে ৩৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ১ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ২৮ জন। আইসিটি বিভাগে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও তা নেই।

এসব সমস্যাগুলোর মধ্যে সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া এইচ.এস.এস রেজাল্ট নিয়ে অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তার কারণ হচ্ছে, পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৬২ জন, পাশ করে মাত্র ৭৬ জন। এমনকি বিজ্ঞান ও ব্যবসায়ী বিভাগে ১জনও পাস করেননি। যারা পাস করেছে তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পায়নি। অথচ এই কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদির চেষ্টার শেষ নেই। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। বরং দিনের পর দিন পাসের হার কমছে।

এদিকে গতকাল সরেজমিনে কলেজে গিয়ে অকৃতকার্য হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ জয়নাল আবেদীন একবারও হল পরিদর্শন করেননি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজ খবর নেননি। এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেওয়া শিলবুনিয়া পাড়ার ইমান হোসেনের পুত্র মোঃ আলম অভিযোগ করে বলেন, এমনও দিন গেছে শিক্ষকরা অফিসে এসে বসে থাকলেও আমাদের ক্লাস নেননি। আবার এমনও দিন গেছে শিক্ষকদের অফিস থেকে ডেকে এনে আমরা ক্লাস আদায় করেছি। ম্যানেজম্যান্ট বিভাগে অনেকদিন ধরে নির্দিষ্ট কোন শিক্ষক নেই। তাই এই বিভাগের ২৯ জন পরীক্ষার্থী সবাই ফেল করেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, কলেজে সবকটি বিভাগে শিক্ষক নেই জানলে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের এই কলেজ ভর্তি করতাম না। আর যে ক’জন শিক্ষক আছেন তারাও ঠিকমত ক্লাস করেননি। তাই এইচ.এস.সি’র ফলাফলে ভয়ংকর অবস্থা। এদিকে কলেজপাড়া এলাকার স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বী অভিযোগ করে বলেন, কলেজে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া করতে দেখা যায়, কিন্তু ঠিকমত ক্লাস হচ্ছে না বিধায় লেখাপড়ার মান ও পাসের হার দিন দিন কমে যাচ্ছে।

কলেজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ জয়নাল আবেদীনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমাদের কলেজের বিজ্ঞান ভবনটি আনসার সদস্যদের সরিয়ে খালি করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক ভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, কেন তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না তা আমাদের জানা নেই।

ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি আরো বলেন, অনেক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহন করে না। ঠিকমত লেখা পড়া না করলে কিভাবে তারা পাস করবে এরপরও অন্যান্য কলেজের চেয়ে টেকনাফ কলেজের রেজাল্ট ভাল হয়েছে।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com