Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জীব ও প্রকৃতি / ফুলের মতো প্রাণী সি অ্যানিমোন

ফুলের মতো প্রাণী সি অ্যানিমোন

ek_fulel

সি অ্যানিমোন রঙ-বেরঙের পাপড়ি ছড়িয়ে সমুদ্রের বুকে ঘুরে বেড়ায়। দেখতে অবিকল ফুলের মতো হলেও এগুলো আসলে এক ধরনের প্রাণী। রাক্ষুসে এই প্রাণীগুলোর মাথায় রঙ-বেরঙের যে পাপড়ি থাকে, সেগুলোর সাহায্যে এরা শিকার ধরে খায়। এগুলোকে বলা হয় টেনটাকল্স।

সি অ্যানিমোনের কোনো কোনো প্রজাতির চোখ থাকে আবার কোনো কোনো প্রজাতির চোখ থাকে না। তবে চোখ না থাকলেও শিকার ধরতে কোনো সমস্যা হয় না এদের। কারণ সি অ্যানিমোনের ত্বক ইন্দ্রিয় খুবই অনুভূতিপ্রবণ। ছোট-বড় যে কোনো প্রাণী এদের কাছাকাছি এলে এরা তা বুঝতে পারে। তখন তারা রঙিন পাপড়ি মেলে প্রাণীটিকে প্রলুব্ধ করে কাছে টেনে এনে এক ধরনের বিষ ছড়িয়ে দেয়। সেই বিষের বিক্রিয়ায় প্রাণীটি সঙ্গে সঙ্গে অসাড় হয়ে পড়ে। সি অ্যানিমোনের পাপড়িগুলো তখন চিমটের মতো ওদের কাছে টেনে নিয়ে স্বচ্ছন্দে গিলে ফেলে। কোনো কোনো সময় এরা নিজেদের দেহের চেয়ে বড় প্রাণীকেও শিকার করে খেতে চেষ্টা করে। তখন এদের শরীর চিড়ে দুভাগ হয়ে যায়। তবে দু’ ভাগ হলেও কিন্তু এরা মারা যায় না। দেহের প্রতিটি অংশ থেকে নতুন করে একটি পরিপূর্ণ সি অ্যানিমোন জন্ম নেয়। আবার এরা ডিমও পাড়ে। শরীরের ভেতরে রয়েছে ফাঁপা নলের মতো একটি অঙ্গ। তার ভেতরে ডিম উত্পন্ন হয়। সেই ডিম মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে আর নতুন অ্যানিমোনের জন্ম দেয়।

সি অ্যানিমোনকে দেখা যায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে। মজার ব্যাপার হলো নিজেদের ক্ষমতায় এরা খুব একটা ঘোরাঘুরি করতে পারে না। ঘোরাঘুরি করার জন্য নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়ে তাদের পিঠে চড়ে বসে। যেমন—সি অ্যানিমোনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হলো ‘হারমিট ক্র্যাব’ নামের এক ধরনের কাঁকড়া। এদের লেজ রয়েছে। সেই লেজ পিঠের ওপর সওয়ার হয়ে সি অ্যানিমোনরা শিকার ধরতে সারাটা সমুদ্র চষে বেড়ায়। আরো বিস্ময়কর হলো যে, যে হারমিট ক্র্যাবের সঙ্গে সি অ্যানিমোনের বন্ধুত্ব হয় সেই বন্ধুত্ব এরা আজীবন টিকিয়ে রাখে। এ কারণে প্রাণীবিদরা রসিকতা করে এদের জুটিকে বলেন ‘মেসার্স ক্র্যাব অ্যানিমোন অ্যান্ড কোম্পানি’।

অবাক হতে হয় ভেবে যে, সি অ্যানিমোন সবসময় বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে। সে তার ধরা শিকার থেকে সামান্য অংশ হারমিট ক্যাবকেও খেতে দেয়। হয়তো এটুকু হৃদ্যতা আছে বলেই অদ্ভুত এ দুটো প্রাণীর বন্ধুত্ব আজীবন টিকে থাকে।

সূত্র: amardeshonline.com

Leave a Reply