রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ফের বন্যা ভাসছে চকরিয়া ও পেকুয়া : উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে : যোগাযোগ বিপর্যয় : অঘোষিত বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

Flood - Mukul (2)মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া:

বানের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া। দু’উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ২৫ টি ইউনিয়নের ৭০ শতাংশ ঘর-বাড়ী পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ৬ লাখ মানুষ। ঢলের পানি সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ সম্পর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। দু’উপজেলার সরকারী-বেসরকারী অন্তত ৫’শত শিক্ষা-প্রতিষ্টানে বানের পানি প্রবেশ করায় প্রতিষ্ঠানগুলো অঘোষিত বন্ধ হয়ে পড়েছে। টানা দুই দিনের পাহাড়ি ঢল ও পূর্নিমার প্রভাবে অতি জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে থাকায় খাবার ও পানীয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। নৌ-যান সংকটের কারণে শুকনো খাবারও সংগ্রহ করতে পারছে না প্লাবিতরা।

চকরিয়ার পিআইও আহাসান উল্লাহ বলেন, চকরিয়া পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সাথে মনিটরিং এর মাধ্যমে বন্যার খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সরকারী ত্রাণ না আসায় জিআর বরাদ্দের ৪০ মেট্রিক টন চাউল প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বরাদ্দ করে দেয়া হয়েছে। জরুরী ত্রান বরাদ্দ পেতে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে । তিনি চকরিয়ার ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

Flood - Mukul (chakaria)অপরদিকে, পেকুয়া পিআইও অফিসের সহকারী ওমর আলী বলেন, এ উপজেলার ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। অন্তত ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এদিকে, দু’উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পাড়ি এলাকা স্কুল ভবন ও সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয নিলেও বসত ঘর ও মালামাল খোওয়ানোর ভয়ে প্লাবিত অন্তত সাড়ে ৫ লাখ মানুষ জীবন ঝুকি নিয়ে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছে। দু’উপজেলার প্লাবিত এলাকা থেকে ঢল ও জোয়ারের পানি নেমে গেলেই ক্ষতি পরিমান নিরুপন করা যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্লাবিত ইউনিয়নগুলো হলো, চকরিয়ার বুমবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, ঢেমুসিয়া, বদরখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা, খুটাখালী,কোণাখালী চকরিয়া পৌরসভা ও পেকুয়ার সদর, মগনামা, উজানটিয়া, শিলখালী, বারবাকিয়া, টৈটং, রাজাখালী। প্লাবিত ইউনিয়গুলোর মধ্যে উজানের পাহাড় ঘেষা এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে সামদ্রিক জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় মাত্র ১ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যার সৃষি।ট হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বানের পানি বেড়েই চলছিলো এ রিপোর্ট লেখার সময়। প্লাবিত হচ্ছিল নতুন নতুন এলাকা।

বন্যা কবলিত এলাকায় খাবার ও পানীয় জলের জন্য আহাজারীর পাশাপাশি পুরো বসতঘর নিমিজ্জিত পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে কান্নাকাটি করছিলো বলে এলাকাবাসী জানায়।

Flood - Mukul (1)আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যলয়ের শিক্ষক ফিরোজ আহমদ জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় লাম ও আলীকদমে ভারী বর্ষণ হয়েছে।এখনো অব্যাহত বৃষ্টিপাত। পাহাড়ি দু’উপজেলার প্রধান বাজারসহ আশপাশে ব্যাপক পাহাড়ি ঢল জমে রয়েছে। সরু দুইখ্যা ও সুইখ্যার পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় পার্বত্য জেলার লামা-আলীকদম প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য দু’উপজেলার পানি মাতামুহুরী নদী হয়ে মধ্য রাতের দিকে ভাটির দিকে নামলে চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটতে পারে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী জানায়।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com