শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ২১ একর জমি প্রভাবশালীদের দখলে

safari-mukul-chakaria-11-11-16-news-2pic-f1-1

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অধিগ্রহণ করা অন্তত ২১একর সরকারি জমি ৯ বছর ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নানা ধরণের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে এসব জায়গা দখলে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা এসব জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করলেও পরে প্রভাবশালী মহল আবারো সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। এতে করে বড় ধরণের জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সাফারি পার্কের উন্নয়নে নেয়া উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সাফারি পার্কের বেদখল হওয়া এসব জায়গা উদ্ধারে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে চলতি বছরের প্রথমদিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা একটি চিঠি প্রেরণ করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পার্কের এসব জায়গা উদ্ধারে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এখনো পার্কের সেই জায়গায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন দখলবাজ চক্র।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বগাচত্বর এলাকায় প্রায় ৯শত হেক্টর বনভূমি অধিগ্রহন করে প্রথম ধাপে ৬শ হেক্টর বনভুমিতে শতকোটি টাকার উন্নয়নের মাধ্যমে সরকার দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি গড়ে তুলেন। এরপর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চারিদিকে বাউন্ডারী দিয়ে পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও নানা কারনে ওইসময় পার্কের সামনের এলাকায় অন্তত ৩৯ একর জায়গা অধিগ্রহনের পরও বেদখল রয়ে যায়।

সুত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সাফারি পার্কের কর্মকতারা অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বেদখলে থাকা ৩৯ একর জায়গা অবশেষে উদ্ধার করেন। কিন্তু সেই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ না থাকার কারনে পার্কের চারিদিকে সীমানা ওয়াল তৈরী করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ অবস্থার সুযোগে উদ্ধার করা জায়গার মধ্যে ২১একর জায়গা ফের অবৈধ দখলে চলে যায়। বেদখল থাকা জায়গার মধ্যে অবৈধ বসতির পাশাপাশি বেশ ক’টি শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে।

জানতে চাইলে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মোরশেদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আমি সবে মাত্র সাফারি পার্কে যোগদান করেছি। তবে জানতে পেরেছি, বেদখলে থাকা জায়গা সমুহ উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা একটি চিঠি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com