Home / প্রচ্ছদ / বিনামূল্যে বীজ, সার প্রদানের দাবি কৃষকদের : জেলায় কৃষিতে ১১ কোটি টাকার ক্ষতি

বিনামূল্যে বীজ, সার প্রদানের দাবি কৃষকদের : জেলায় কৃষিতে ১১ কোটি টাকার ক্ষতি

Bizএম.বেদারুল আলম :
পর পর ২ দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না কৃষকরা। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলছে ফসলী জমিতে জোয়ার-ভাটা। কোন কোন এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে বোরো আবাদের আশা ছেড়ে দিয়েছেন কৃষকরা। বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে চলছে চারা সংকট। যাদের চারা আছে তারাও সুযোগে বিক্রি করছে চড়া দামে। কৃষি কর্মকর্তারা ‘নাভী’ জাতের চারা রোপনের পরামর্শ প্রদান করলে ও কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শংকা রয়েছে।
২৬ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় প্রবল বর্ষণ, পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন কৃষির ক্ষতি নিরুপণ করেছে নিবিড় ভাবে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রণীত কৃষির ক্ষয় ক্ষতির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, জেলায় বন্যা ও কোমেনর আঘাতে ৮ হাজার ১শ ৫১ একর ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ১১ কোটি, ১১ লাখ ১৯ হাজার ১‘শ টাকা। তত্মধ্যে ৫১৩১ হেক্টর ফসলের সম্পূর্ণ ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫’শ টাকা। ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩০২০ হেক্টর যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৯ হাজার ৬’শ টাকা।
উপজেলা ভিত্তিক সম্পূর্ণ ক্ষতি অর্থাত্ ফসলের বেশি ক্ষতির পরিমান ও আর্থিক মূল্য যথাক্রমে সদর উপজেলায় ১০৫ হেক্টরে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। রামুতে ৪৬৭ হেক্টরে ৪ কোটি ৫০ হাজার টাকা। চকরিয়ায় (পৌরসভাসহ) ২৯১২ হেক্টরে ৪ কোটি ১০ লাখ ৭০ হাজার ৫শ টাকা, পেকুয়ায় ৩১০ হেক্টরে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কুতুবদিয়ায় ১০৩৫ হেক্টরে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা।  উখিয়ায় ২ হেক্টরে ২৯ হাজার টাকা, টেকনাফে (পৌরসভাসহ) ৩’শ হেক্টরে ১০ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে মহেশখালীতে সম্পূর্ণ ক্ষতির স্থান নেই।
এদিকে জেলার উপকূলীয় এলাকাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নদীর রক্ষাবাধসমূহ কোমেনের আঘাতে লন্ডভন্ড হওয়ায় চলছে জোয়ার ভাটা। বিশেষ করে পেকুয়া, চকরিয়া, সদরের ২৮টি ইউনিয়নের এবং রামুর ৫টি ইউনিয়নের নদী বেষ্টিত ফসলী জমিতে প্রতিদিন পানি প্রবেশের কারণে বোরো আবাদ সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ইউনিয়নের বীজতলার ক্ষতির কারণে পুনরায় বীজতলা তৈরী করে বোরো আবাদের আশা ছেড়ে দিয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক একেএম শাহারিয়ার কৃষকদের নাভী জাতের বীজ বপনের পরামর্শ প্রদান করলেও কৃষকরা আর্থিক সংকটের কারণে বীজ ক্রয় করতে পারছে না। কৃষকদের দাবী সরকার যেন দ্রুত বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: