বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১০ অপরাহ্ন

বেতনের টাকা জমিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ!

নির্মাণাধীন স্মৃতিস্তম্ভ ও শিক্ষক মেহেদী হাসান সিরাজ

নির্মাণাধীন স্মৃতিস্তম্ভ ও শিক্ষক মেহেদী হাসান সিরাজ

নির্মাণাধীন স্মৃতিস্তম্ভ ও শিক্ষক মেহেদী হাসান সিরাজ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পুরনো স্কুল হিসেবে পড়ালেখা পরীক্ষার ফল ও খেলাধুলায় বরাবরই সুনাম রয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে স্কুলকে ঘিরে একটি বিষয় উদিত সূর্যের মতো জ্বলজ্বল করছে। তাহলো উপজেলার মুক্তিযুদ্ধে তিন শহীদই এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান সিরাজ আজীবন স্বপ্ন বোনেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবেন। আর্থিক টানাপোড়েনে তা আর হয়ে উঠে না। এদিকে চাকরির মেয়াদ প্রায় শেষ। নিজের জমানো টাকা দিয়ে তিনি শুরু করেছেন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ। কিন্তু অর্থাভাবে শেষ করতে পারছেন না। মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে কাজ।

মেহেদী হাসান সিরাজ ভেজা চোখ আড়াল করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল সামনের ১৬ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের সাথে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে তিন শহীদকে শ্রদ্ধা জানাবো। তা পারব কিনা জানি না।’

তিন শহীদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা হলেন সহোদর আম্মদ হোসেন, মহম্মদ হোসেন ও আবীর হোসেন। তাদের বাড়ি স্কুল সংলগ্ন নাগড়ীপাড়া ও কাশিপুর গ্রামে। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সম্মুখযুদ্ধে আহম্মদ হোসেন, মহম্মদ হোসেন ১৯ নভেম্বর উপজেলা সদরে ও ১৬ অক্টোবর  উপজেলার নহাটার জয়রামপুর যুদ্ধে আবীর হোসেন শহীদ হন।

২০১০ সালে মেহেদী হাসান সিরাজ পাল্লা স্কুলের সহকারি থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। স্কুলের সাবেক ছাত্র তিন শহীদের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীসহ সবার কাছে তুলে ধরতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। ৩১ ডিসেম্বর তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাবেন।

স্থাপত্যবিদের কাছ থেকে নকশা করান। নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ হয় ৪ লাখ টাকা। নিজের বেতন থেকে দেড় লাখ টাকা জমিয়ে তিনি এ বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করেন। অর্ধেক কাজ হওয়ার পর অর্থাভাবে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে।

বসুরধুলজুড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ডা. তিলাম হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে এ এলাকার শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যক্তি উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ঘটনা তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে।’

কথা হয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহাজাবিন সুইটি, লামিয়া আলম, হাসিবুল ইসলাম ও আরমান মোল্যার সাথে। তারা জানান, ‘মুক্তিযুদ্ধে বিদ্যালয়ের তিন শহীদ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা গর্ব করি। স্যার (প্রধান শিক্ষক) নিজের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করেছেন। আমরা চাই স্যারের স্বপ্ন বাস্তবে রুপ পাক।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খাঁন জানান,‘ দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন তিন শহীদের স্মৃতি রক্ষায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হোক। এ বিষয়ে তিনি সবার সহযোগিতা চান।’

সূত্র: মো. আনোয়ার হোসেন শাহীন/risingbd.com,ডেস্ক।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com