Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / ভ্রমণ ও পর্যটন / ভ্রমণে আসুন কক্সবাজারে…

ভ্রমণে আসুন কক্সবাজারে…

ভ্রমণে কক্সবাজারে...কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্যটন শহর। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মত্স্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশান।

কক্সবাজার চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কি.মি.। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র। দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে এবং বাসযোগে কক্সবাজার যাওয়া যায়ত্ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার অবধি রেললাইন স্থাপনের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা চট্টগ্রাম প্রশাসনিক বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। এটি ২০০ ৩০´´ থেকে ২১০ ৫৬´´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১০ ২৩´´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ২,৪৯১.৮৬ বর্গ কিঃ মিঃ। এর উত্তরে চট্টগ্রাম, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মায়ানমার, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর বিস্তৃত। কক্সবাজারে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত (১১১ কিঃ মিঃ) রয়েছে।

ভ্রমণে কক্সবাজারে... (লাবণী পয়েন্ট:)

আধুনিক কক্সবাজারের নাম রাখা হয়েছে ল্যাঃ কক্স (মৃত্যু ১৭৯৮) এর নামানুসারে যিনি ব্রিটিশ আমলে ভারতের সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। এককালে কক্সবাজার পানোয়া নামেও পরিচিত ছিল যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে হলুদ ফুল। এর আরো একটি প্রাচীন নাম হচ্ছে পালংকি।

নবম শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে ১৬১৬ সালে মুঘল অধিগ্রহণের আগে পর্যন্ত কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের একটি বড় অংশ আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিলো। মুঘল সম্রাট শাহ সুজা পাহাড়ী রাস্তা ধরে আরাকান যাওয়ার পথে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং এখানেই ক্যাম্প স্থাপনের আদেশ দেন। তার যাত্রাবহরের প্রায় একহাজার পালঙ্কী কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা নামের স্থানে অবস্থান নেয়। ডুলাহাজারা অর্থ হাজার পালঙ্কী। মুঘলদের পরে ত্রিপুরা এবং আরকান তার পর পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশরা এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

কক্সবাজার নামটি এসেছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম থেকে। কক্সবাজারের আগের নাম ছিল পালংকি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধ্যাদেশ, ১৭৭৩ জারি হওয়ার পর ওয়ারেন্ট হোস্টিং বাঙলার গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তখন হিরাম কক্স পালংকির মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। ক্যাপ্টেন কক্স আরাকান শরণার্থী এবং স্থানীয় রাখাইনদের মধ্যে বিদ্যমান হাজার বছরেরও পুরানো সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করেন। এবং শরণার্থীদের পুণর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেন কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ করার আগেই মারা (১৭৯৯) যান। তার পূর্নবাসন অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এর নাম দেয়া হয় কক্স সাহেবের বাজার। কক্সবাজার থানা প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।

পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক হোটেল, বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই দু’টি পাঁচতারা হোটেল রয়েছে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম – বার্মা),থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট।

কক্সবাজারে বিভিন্ন উপজাতি বা নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বাস করে যা শহরটিকে করেছে আরো বৈচিত্র্যময়। এইসব উপজাতিদের মধ্যে চাকমা সম্প্রদায় প্রধান। কক্সবাজার শহর ও এর অদূরে অবস্থিত রামুতে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বৌদ্ধ মন্দির। কক্সবাজার শহরে যে মন্দিরটি রয়েছে তাতে বেশ কিছু দুর্লভ বৌদ্ধ মূর্তি আছে। এই মন্দির ও মূর্তিগুলো পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ও কেন্দ্রবিন্দু। কক্সবাজারে শুধু সমুদ্র নয়, আছে বাঁকখালী নামে একটি নদীও। এই নদীটি শহরের মত্স্য শিল্পের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান হিসেবে বিখ্যাত।

সীমানা:  উত্তরে-চট্টগ্রাম, পূর্বে-বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মিয়ানমার, পশ্চিম ও দক্ষিনে-বঙ্গোপসাগর ।

প্রধান নদ-নদী:  মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ ।

প্রধান দ্বীপ:  মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ্পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন

উপজেলা:  ১৮৫৪ সালে বৃটিশ সরকারের মহকুমা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে কক্সবাজারকে মহকুমায় পরিণত করা হয়। ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৮৬৯ সালে কক্সবাজার মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয় এবং ১৯৭২ সালে কক্সবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার জেলার উপজেলা গুলো হলঃ কক্সবাজার সদর উপজেলা, উখিয়া উপজেলা, কুতুবদিয়া উপজেলা, চকোরিয়া উপজেলা, টেকনাফ উপজেলা, মহেশখালী উপজেলা, রামু উপজেলা, পেকুয়া উপজেলা। মোট ইউনিয়ন ৭১টি, গ্রাম প্রায় ৯৯২টি।

জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৪টি :  কক্সবাজার- ১ (চকরিয়া-পেকুয়া), কক্সবাজার- ২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া), কক্সবাজার- ৩ (কক্সবাজার সদর-রামু), কক্সবাজার- ৪ (টেকনাফ-উখিয়া)।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র:  ১ টি হাসপাতাল, ৭ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১ টি মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, যক্ষা ক্লিনিক ৩৫ টি, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৫ টি বেসরকারি হাসপাতাল। এছাড়া চৌধুরী জোসেনের পরিচালনায় বিডি এইড নামে একটি এনজিওকার্যক্রম শুরু করছে।

নাট্য সংগঠন:  কক্সবাজার থিয়েটার, ঝিনুক নাট্য কেন্দ্র, গণমুখ থিয়েটার, রিঙ্গন থিয়েটার, থিয়েটার আর্ট, হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক সংসদ, উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী, ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ

আবৃত্তি ও শিশু সংগঠন:  শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমী, অ-আ আবৃত্তি সংসদ, লোক গবেষণা প্রতিষ্ঠান: লোক বাংলা

শিশু কিশোর সংগঠন:  ঝিনুকমালা খেলাঘর আসর, সৈকত খেলাঘর আসর, ঝাউবিথি খেলাঘর আসর, বেলাভূমি আসর

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান:  কক্সবাজার ইন: ও পাবলিক লাইব্রেরী, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জেলা শিশু একাডেমী।

লাবণী পয়েন্ট:  কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ছোট বড় অনেক দোকান যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(রাডার স্টেশন ও লাইট হাউস)

রাডার স্টেশন ও লাইট হাউস :  ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এ দেশে নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ আঘাত হানে। এই রাডার স্টেশন থেকেই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়। এটি হিলটপ সার্কিট হাউসের দক্ষিণ পাশের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। রাডার যন্ত্রটি সুইডিশ শিশুকল্যাণ সংস্থা ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় ১৯৬৮ সালে স্থাপন করা হয়। লাইট হাউসের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে চলাচলরত জাহাজ ও অন্যান্য নৌযান দিক নির্দেশনা পায়। অর্থাত্ রাতের অন্ধকারে গভীর সমুদ্র থেকে যে দিকে লাইট দেখা যায় সে দিককে কক্সবাজার উপকূল হিসেবে ধরে নৌযানগুলো তাদের চলাচলের পথ নির্ধারণ করে। রাডার ষ্টেশনের দক্ষিণে অপর একটি পাহাড়ের চূঁড়ায় এর অবস্থান। এটিও পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত যাতে বহুদূর থেকে দেখা যায়।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(লবণ উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা: )

লবণ উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা:  ইসলামপুর, নাপিতখালী এলাকা থেকে বাংলাদেশের চাহিদার ৮৫% লবণ উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের নামকরা লবণ বিক্রয় ও বিপণন প্রতিষ্ঠান গুলো এখান থেকেই লবণ সংগ্রহ করে। কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কি:মি: দূরে এর অবস্থান। টেক্সী কিংবা মাইক্রোবাস যোগে বেড়ায়ে আসা যাবে। তা’ছাড়া চট্টগ্রামগামী বাসে চড়ে ইসলামপুর ষ্টেশনে নেমেও যাওয়া যাবে।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( দুলাহাজরা সাফারী পার্ক:)

দুলাহাজরা সাফারী পার্ক:  সাফারী পার্ক হলো সরকার ঘোষিত এলাকা যেখানে বণ্যপ্রানীদেরকে তাদের প্রাকৃতিকভাবে প্রতিপালন করা হয়। এর মধ্যে দেশী-বিদেশী বন্য প্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও অবাধ বিচরণের সুযোগ থাকে এবং যাতে পর্যটকগণ পায়ে হেঁটে বা যানবাহনে ভ্রমণ রে টিকিটের বিনিময়ে শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ থাকে। সাফারী পার্ক চিড়িয়াখানা থেকে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীব-জন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে আর সাফারী পার্কে মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে। এর আয়তন ৯০০ হেক্টর।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( দুলাহাজরা সাফারী পার্ক:)

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে ডুলাহাজারা রিজার্ভ ফেরেষ্টে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিতবনাঞ্চলে সাফারী পার্কটি অবস্থিত। কক্সবাজার জেলা সদর হতে উত্তরে পার্কটিরদূরত্ব ৫০ কি:মি: এবং চকরিয়া সদর হতে দক্ষিণে ১০ কি:মি:। জেলা সদর হতে সাফারী পার্কে পর্যটকদের যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকভাবে এ অঞ্চল টারসিয়ারি পিরিয়ডের প্লিওসিন যুগের অন্তর্ভূক্ত যা ২৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে গঠিত হয়েছে। এটি ডুপিটিলা সিরিজের অন্তর্গত যা সেন্ডস্টোন, সিল্টস্টোন ও স্যালন দ্বারা গঠিত।প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত নির্জন উঁচুনিচু টিলা, প্রবাহমান ছড়া, হ্রদ, বিচিত্র গর্জন এর মত সু-উচ্চ ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক বৃক্ষ চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-গাছালি, ফল-ভেষজ উদ্ভিদ, লতার অপূর্ব উদ্ভিদ রাজির সমাহার ও ঘন আচ্ছাদনে গড়ে উঠেছে সাফারী পার্ক।

চারদিকে বেষ্টনী রয়েছে যাতে বন্যপ্রানী পার্কের বাইরে যেতে না পারে। পার্কের ভিতরে আভ্যন্তরীন বেষ্টনীও রয়েছে। আভ্যন্তরীন বেষ্টনীর ভিতরে বাঘ, সিংহ ও তৃণভোজী প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাস করে।

সাফারী পার্

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( দুলাহাজরা সাফারী পার্ক:)

ক সম্পর্কে অতি অল্প সময়ে এক পলকে এর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে ধারনার জন্য রয়েছে প্রধান ফটকের বাম পাশে ডিসপ্লে ম্যাপ। পর্যটকদের পার্কের ভিতরে অনায়াসে বাঘ-সিংহসহ অন্যান্য প্রাণী পর্যবেক্ষণ করার জন্য পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, প্রহরা পোষ্ট রয়েছে।

প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র:  সাফারী পার্কের অভ্যন্তরেই স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র। বাংলাদেশের প্রায় সবধরণের বনাঞ্চলের গাছপালা, বন্যপ্রাণীর মডেল, মুরাল ও ষ্টাফিং করে আলো ও শব্দ প্রবাহের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সম্পর্কে দর্শকদের সম্যক ধারণাদেয়া হয়। এখানে প্রায় ১০০ ধরণের বন্যপ্রাণী ও অসংখ্য গাছপালারমডেল মুরাল তৈরী করা হয়েছে। প্রায় ২৫ মিনিটের দীর্ঘ স্বব্যখ্যায়িত অডিও-ভিস্যুয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে দর্শকগণ আনন্দ লাভ করবেন।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( দুলাহাজরা সাফারী পার্ক:)

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( দুলাহাজরা সাফারী পার্ক:)

প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে:  বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, হাতি, নীলগাই, জেব্রা, জিরাফ, সাম্বার হরিণ, বাঁশভালুক, বন্যশুকর, চিত্রা ও মায়াহরিণ, প্যারাহরিণ, অজগর, বনমোরগ, গয়াল, বিভিন্ন প্রজাতির বিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, ভারতীয় বনরুই, সজারু, স্প্রংবক, কুদু, উল্লুক, খেঁকশিয়াল, উড়ন্ত কাঠবিড়ালী, বড়বেজী, সাপের বিভিন্ন প্রজাতি, মিঠা পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির কাছিম, হাজারো রকমের বিরল গাছপালা আরো অনেক প্রাকৃতিক জীবজন্তু।

কৃত্রিম হ্রদ:  ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের অভ্যন্তরে বন্যপ্রাণীর পানীয় জলের জন্য ২টি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে। কৃত্রিম হ্রদের পাশদিয়ে হাতির পিঠে চড়া আপনাকে অন্যরকম আনন্দে ভাসিয়ে তুলবে। আরো দেখেতে পাবেন।

অসংখ্য অতিথি পাখি ও জলজ পাখি। প্রাকৃতিক লীলাভূমি বঙ্গোপসাগর বিধৌত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক কার্পেট বিচানো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আসা পর্যটকগন সাফারীপার্ক পরিদর্শন করে নির্মল আনন্দ লাভ করা ছাড়াও প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে বেশকিছু সময় বন্য পরিবেশে থাকার সুযোগ পাবেন।

মিউজিয়ামে রয়েছে:  অজগর সাপের চামড়া, উড়ন্ত কাঠ বিড়ারীর চামড়া, হরিণের চামড়া, বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান ও ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মান আমাদের প্রয়োজন। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ডুলাহাজারা বন্যপ্রাণী মিউজিয়াম’ স্থাপন করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম বন্যপ্রাণী মিউজিয়াম। এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা সড়কের পূর্ব পার্শে ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের প্রবেশ গেটের পাশে অবস্থিত।

ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম:  বাংলাদেশের বনাঞ্চল বন্যপ্রাণীর সমারোহ সমৃদ্ধ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্র হরিণ, মায়া হরিণ, হাতি, বানর, সজারু, হনুমান, ভাল্লুক, কুমির,ময়না, টিয়া, পেঁচা, মাছরাঙ্গা, সাপ, কচ্ছপ প্রভৃতি বিরল বন্যপ্রাণী বিচরণে বাংলার বনাঞ্চল ও প্রকৃতি মুখরিত।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি চাহিদা মিটাতে গিয়ে অনেক বনাঞ্চল রূপান্তরিত হয়েছে ঘরবাড়ী ও কৃষি জমিতে। কোথাও বনাঞ্চলে গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ, শিল্প-কারখানা, হাট-বাজার ও শহর-বন্দর। এমনি পরিস্থিতিতে আবাসস্থলে ধ্বংস হয়ে গ্রামীণ ও পাহাড়ী বন জংগল হতে অনেক বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চলেও বন্যপ্রাণী আশংকাজনকভাবে কমে গেছে।

১৯৬০ সনে কক্সবাজারের বনাঞ্চল হতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মিঠাপানির কুমির সুন্দরবন হতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান ও ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মান আমাদের প্রয়োজন। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি,শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ডুলাহাজারা বন্যপ্রাণী মিউজিয়াম’ স্থাপন করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম বন্যপ্রাণী মিউজিয়াম। এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা সড়কের পূর্ব পার্শে ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের গেটের পাশে অবস্থিত।

পরিদর্শন ফি:

১। প্রাপ্ত বয়স্ক (১৫ বত্সরের উর্ধে): ১০/=

২। ছাত্র-ছাত্রী (১৫ বত্সরের নীচে): ৫/=

৩। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থী গ্রুপ: (৩০-১০০জন) ১০০/=

৪। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থী গ্রুপ: (১০০জনের উর্ধে) ২০০/=

৫। বিদেশী পর্যটক: ৪ ইউ এস ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা।

৬। মিনিবাসে পরিভ্রমণ: ২০/=

৭। প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন: ১০/=

৮। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম পরিদর্শন: ৫/=

৯। ব্যক্তিগত পরিবহনে পার্ক পরিদর্শন: ৫০/=

১০। গাড়ী পার্কিং ফি: ক) বাস প্রতিটি- ২৫/=

১১। কার/ মাইক্রোবাস-১৫/=

রাবার বাগান: 

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( রাবার বাগান:)

সৌন্দর্য্যের মধ্যে রামু রাবার বাগান ভিন্ন আমেজের অপরূপ দর্শনীয় স্থান। ২৮,৮৮৬ একর জায়গার উপর বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থার পরিকল্পনায় স্থাপিত কক্সবাজার জেলা তথা বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহত্ রাবার বাগান। বেড়িয়ে আসুন প্রকৃতির সাথে মিতালি করে।

নাইক্ষ্যংছড়ি:  সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টিত নাইক্ষ্যংছড়ির প্রাণ কেন্দ্রে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ঘেঁষে প্রায় আধা কিলো মিটার দীর্ঘ কার্পোটিং সড়ক যুক্ত প্রাকৃতির অপরূপ শোভায়শোভিত উপবন লেকটি অবস্থিত। একে আরো সৌন্দর্য্যমন্ডিত করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ পাতার গাছগুলো। রয়েছে পাহাড়কন্যা নাইক্ষ্যংছড়ির মনোরম ছায়ানিবিড় সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ। যা ভ্রমণার্থীদের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। এ লেকে এখন শৌখিন মত্স্য শিকারিরা উপজেলা পরিষদ থেকে নির্দিষ্ট ফি হারে টিকেট সংগ্রহ করে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে।

এ উপজেলাতে উপবন লেক ছাড়াও বিনোধনের জন্য বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউট, বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা কুমির প্রজনন কেন্দ্র, উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টার, দেশের বৃহত্ রাবার বাগান, আশারতলী গ্রামের চা-বাগান, সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ির সোসং ও কোয়াসং ঝর্ণা অন্যমত। রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেকের চারপাশে বাঙ্গালী ও পাহাড়ি অধিবাসীদের বসতি দেখে পর্যটকদের মন জুড়িয়ে যায়। সারি সারি কাঠের বাড়ি আর তাদের ভাষা-সংস্কৃতি আদি এ জনগোষ্ঠির জীবনচিত্রের ভিন্নতা তুলে ধরেছে সকলের কাছে। তরুণ এ ছাত্রনেতা আরো বলেন, আসলেই নাইক্ষ্যংছড়ির লেকটি খুবই সুন্দর। ঝুলন্ত ব্রীজ, এটির পাশেই একটি ছোট্ট উপজাতীয় পল্লী।

পর্যটকদের আর্কষণের অন্যতম উপকরণ দীর্ঘ লেক। ছোট ছোট বিশ্রাম ঘর, আর উচুঁ-নিচু পিচঢালা পথ। বিশেষ করে রাতের নাইক্ষ্যংছড়ি দেখতে খুবই দারুন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, উপজেলার দর্শণীয় স্থান গুলোর আধুনিকায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে উনার নির্দেশে লেকের উন্নয় কাজ চলছে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনষ্টিউট:  ১৯৮৮ সালে প্রাণিসম্পদ নিয়ে গবেষণার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিছামারা এলাকায় ১৬২ একর জমির ওপর স্থাপিত হয়েছিল প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউট। বর্তমানে এ ইনষ্টিটিউটে প্রাণী নিয়ে গবেষণার কাজে নিয়োজিত আছেন প্রতিষ্ঠানের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারি। এখানে ছয়টি গয়াল, পাঁচটি হরিণ, ৪৭টি ভেড়া, ১৪৮টি ছাগল, ৪৫টি বন্য ও ১৯০টি দেশি মোরগ-মুরগি আছে। এসব পাহাড়ী পশু-প্রাণীকে সরাসরি দেখার জন্য পর্যটকরা নাইক্ষ্যংছড়িতে আসছেন।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(কুমির প্রজনন কেন্দ্র:)

কুমির প্রজনন কেন্দ্র:  উপজেলার দুর্গম ঘুমধুম ইউনিয়নের পাহাড়ে ২৫ একর ভূমিতে ২০১০ সালের শেষের দিকে মালয়েশিয়া থেকে অর্ধ শতাধিক লোনা পানির কুমির দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা কুমির প্রজননকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। কুমিরের দৌড়ঝাঁপ দেখতে সেখানে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা। এই দুর্গম পাহাড়ের ওপর পানির কুমিরের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনটা জুড়িয়ে যায় পর্যটকদের। এই খামারটা আসলেই অত্যন্ত মন-মুগ্ধকর।

সোসং ও কোয়াসং ঝর্ণা:  উপজেলার সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়িতে অবস্তিুত সোসং ও কোয়াসং ঝর্ণা। ঝর্ণা দুটির মধ্যে একটির উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট ও অপরটি ২০ ফুট। এসব ঝর্ণা দেখলে সৌন্দর্য পিপাসুরা মুগ্ধ হবেন এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। মনোমুগ্ধকর এ দুটি ঝর্ণার সংবাদ পেয়ে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন পাহাড় ঘেরা নাইক্ষ্যংছড়ির জারুলিয়াছড়িতে। এ দুটি ঝর্ণা অনেকের কাছেই অপরিচিত। উচু খাড়া পাহাড় হতে ঝর্ণার পানি শো শো শব্দ করে নিচের দিকে পতিত হচ্ছে।

অসংখ্য প্রজাতির গাছপালা আর জঙ্গলে ঝর্ণার চারপাশ আচ্ছাদিত হয়ে আছে। সেগুলো যেন সবুজের সমারোহ। সেই সাথে পাখির কিচিরমিচির বনের নিস্তব্ধতাকে জাগিয়ে রাখে সারাক্ষণ।

দেশের বৃহত্ রাবার বাগান:  বাণিজ্যিক রাবার চাষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন দ্বিতীয় মালয়েশিয়া হিসাবেই পরিচিত সকলের কাছে। ১৯৮৭ সাল থেকে এখানে দেশের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে তোলা রাবার বাগান ব্যবসায়িকভাবে লাভের মুখ দেখছে। বাইশারী এলাকা রাবার শিল্প সম্ভাবনাময় হওয়ায় স্থানীয়রা এখানকার উত্পাদিত রাবার ল্যাটেক্স’কে তরল ‘সাদা সোনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ উপজেলায় উত্পাদিত রাবার দেশের রাবার শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। বাইশারীতে রাবার চাষ করে ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়েছে চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও রুবেল। অন্যদিকে দেশের এ বৃহত্ রাবার বাগানে ঈদের ছুটিতে আগমন ঘটছে প্রচুর পর্যটকের।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(আইসোলেটেড নারিকেল বাগান)

আইসোলেটেড নারিকেল বাগান:  রামু চৌমুহনী হতে দক্ষিণে ৫ কি:মি: দুরে রাজারকুলের পাহাড়ে মনোরম পরিবেশে ২৫০ একর জায়গায় এটি অবস্থিত। বাগানটি ‘এ’ এবং ‘বি’ ব্লকে বিভক্ত। প্রত্যেকটি ব্লকে ৪টি করে সাব ব্লক রয়েছে। বাগানে নারিকেল গাছের সংখ্যা প্রায় ৯,১১২টি।

রামকোট তীর্থধাম:  এটি রামকোট বনাশ্রমের পাশের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাসকালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিলেন। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটি বৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দুটি ধর্ম পাশাপাশি শান্তিতে সহাবস্থানের প্রমাণস্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এই মূর্তি স্থাপিত হয়। এর অদূরেই রামকোট বৌদ্ধবিহার।

রামু থানার রাজারকুল ইউনিয়নে পাহাড়ের চূড়ায় এর অবস্থান। মন্দিরটি প্রায় ২ হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। শোনা যায়, কলিঙ্গ যুদ্ধের পর সম্রাট অশোক অস্ত্র ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম থেকে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়ে এখানে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রামু চৌমুহনী থেকে রামকোট বনাশ্রমে রিকশায় যাওয়া যায়।

কক্সবাজারে এমন বৌদ্ধ বিহার আরো রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ছেংখাইব ক্যাং ও লামার পাড়া। রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে ছেংখাইব ক্যাং বৌদ্ধ বিহারের অবস্থান। এই বিহারে নানা রকম নকশাখচিত কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও বেশি পিতল এবং আরো অনেক শ্বেত পাথরের বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের রামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে শতাধিক মূল্যবান বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহারের অবস্থান ফতেখাঁর কুল ইউনিয়নে লামার পাড়া গ্রামে। এখানকার পিতলের তৈরি বুদ্ধ মূর্তিটি দেশের সর্ববৃহত্ বুদ্ধ মূর্তি।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(হিমছড়ি ঝর্ণা)

হিমছড়ি:  হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। ভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে সাগরের দৃশ্য অপার্থিব মনে হয়। হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ এখানকার ক্রিসমাস ট্রি। সম্প্রতি হিমছড়িতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র ও

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(ইনানী সমুদ্র সৈকত)

ইনানী সমুদ্র সৈকত:  দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারে সৈকত সংলগ্ন আরও অনেক দর্শনীয় এলাকা রয়েছে যা পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণের বিষয়। সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছ, ইনানী সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার থেকে ৩৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে রাস্তায় মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পরিষ্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের জন্য উত্কৃষ্ট বলে বিবেচিত।

কানা রাজার সুড়ংগ:  উখিয়া থানার জালিয়া পালং ইউনিয়নেপাটুয়ার টেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের মধ্যে এ সুড়ংগ বা গর্ত। সুড়ংগেরব্যাস ১২ও ১২ একটা বড় ট্রাক অনায়াসে সুড়ংগ পথে প্রবেশকরতে পারবে। কথিত আছে, জনৈক মগ সম্প্রদায়ের কানা রাজার (এক চোখ অন্ধ) শাসন আমলে আত্মরক্ষার জন্যেএই সুড়ংগ নির্মাণ করেছিল।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(সেন্ট মার্টিন দ্বীপ)

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ:  সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। কবে প্রথম এই দ্বীপটিকে মানুষ শনাক্ত করেছিল তা জানা যায় না। প্রথম কিছু আরব বণিক এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জিঞ্জিরা।

উল্লেখ্য এরা চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যাতায়াতের সময় এই দ্বীপটিতে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতো। কালক্রমে চট্টগ্রাম এবং তত্সংলগ্ন মানুষ এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামেই চিনতো। ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কিছু বাঙালি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এই দ্বীপের বসতি স্থাপনের জন্য। এরা ছিল মূলত মত্স্যজীবী। যতটুকু জানা যায়, প্রথম অধিবাসী হিসাবে বসতি স্থাপন ১৩টি পরিবার। এরা বেছে নিয়েছিল এই দ্বীপের উত্তরাংশ। কালক্রমে এই দ্বীপটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয়। আগে থেকেই এই দ্বীপে কেয়া এবং ঝাউগাছ ছিল। সম্ভবত বাঙালি জেলেরা জলকষ্ঠ এবং ক্লান্তি দূরীকরণের অবলম্বন হিসাবে প্রচুর পরিমাণ নারকেল গাছ এই দ্বীপে রোপণ করেছিল। কালক্রমে পুরো দ্বীপটি একসময় ‘নারকেল গাছ প্রধান’ দ্বীপে পরিণত হয়। এই সূত্রে স্থানীয় অধিবাসীরা এই দ্বীপের উত্তরাংশকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে অভিহিত করা শুরু করে।

১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসাবে গ্রহণ করে। জরীপে এরা স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্ট মার্টিন নাম প্রদান করে। এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে, দ্বীপটি সেন্ট মার্টিন নামেই পরিচিত লাভ করে।

দ্বীপটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে এখানে প্রতিদিন ৫টি লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড হতে আসা যাওয়া করে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বর্তমানে বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে।Teknaf একটি সরকারি ডাকবাংলো আছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল।

শাহ্ পরীর দ্বীপ:  পূর্বে এটি একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ছিল। কালক্রমে মূল ভূ-খন্ডের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০ মাইল। আপনি চাইলে মহেশখালীর দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপ থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। প্রতি বছর শীতে এখানে হাজার হাজার অতিথি পাখির ভিড় জমে। এটিকে অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্যও বলেন অনেকে। এ দ্বীপ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার টন শুঁটকি রপ্তানী হয়। এই দ্বীপে যেতে হলে ইঞ্জিনচালিত নৌযান বা স্পীড বোট ভাড়া নিয়ে যেতে হবে।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...(নাফ নদী, টেকনাফ)

টেকনাফ:  টেকনাফ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি সীমান্ত উপজেলা। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৮৬ কিলোমিটার। টেকনাফ উপজেলার পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে নাফ নদ; এই নাফ নদের থেকেই এই অঞ্চলটির নামকরণ হয়েছে।

টেকনাফের বহু পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টেকনাফের সমুদ্র সৈকত, নে-টং বা দেবতার পাহাড়, মাথিনের কূপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটিশ সৈন্যদের তৈরী করা বাংকার ইত্যাদি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের তুলনায় টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের পানি অধিক পরিষ্কার। টেকনাফ উপজেলায় ভ্রমণ করতে গেলে পর্যটকগণ মাথিনের কূপ দর্শন করতে কখনই ভুল করেন না।

মাথিনের কুপ টেকনাফ থানার সম্মুখে অবস্থিত। বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে কলকাতার ধীরাজ ভট্টাচার্য নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা টেকনাফ থানায় বদলী হয়ে আসেন। টেকনাফের নাম করা রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের একমাত্র আদুরে কন্য মাথিন থানার সামনের কুয়া থেকে নিয়মিত পানি নিতে আসতো। সকাল বিকাল পানি নিতে আসা ছিলমাথিনের সখ। পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিন থানার বারান্দায় বসে বসে অপূর্বসুন্দরী মাথিনের পানি নিতে আসা যাওয়া দেখতেন। আস্তে আস্তে ধীরাজ ভট্টাচার্যের সংগে চৌদ্দ বছর বয়সী মাথিনের চোখা চোখি এবং পরে তা’ প্রেমে পরিণত হয়। গোত্র আভিজাত্যের প্রতিবন্ধকতায় ধীরাজ-মাথিনের বিয়ে হয়নি। সমধুর প্রেমের করুণ বিচ্ছেদে মাথিন তিলে তিলে মৃত্যুবরণ করেন। এতে শাশ্বত অকৃত্রিম প্রেমের এক ইতিহাস বিরচিত হয়। মাথিনের অতৃপ্ত প্রেমের আমোঘ সাক্ষী এই মাথিনের কূপ দর্শনে এলে আরো অনেক অজানা কাহিনী জানা যায়।

এছাড়াও টেকনাফে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ বার্মিজ মার্কেট। এ মার্কেটে প্রতিদিন শত শত পর্যটক কেনাকাটা করে থাকেন।

ভ্রমণে কক্সবাজারে...( কুতুবদিয়া বাতিঘর)

কুতুবদিয়া বাতিঘর:  কুতুবদিয়া বাতিঘরের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। কিন্তু পুরাতন বাতিঘর এখন আর নেই। স্বাধীনতার পর পর সাগরের ক্রমাগত ভাঙ্গনের ফলে সে পুরাতন বাতিঘরটি সাগর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন একটি বাতিঘর কুতুবদিয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে যা আগের বাতিঘরের মতো নয়। এটি দক্ষিণ ধুরুং-এ অবস্থিত। কুতুবদিয়াতে সাগর পাড়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য বায়কূল স্থাপন করা হয়েছে যা থেকে বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদন করে জনগণের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

মালেক শাহের দরবার শরীফ:  শাহ্ আবদুল মালেক মহিউদ্দিন আল্-কুতুবী (রহ:) এক অধ্যাত্মিক সাধক। তাঁর দরবার শরীফ কুতুবদিয়া’র দক্ষিণ ধুরুং-এ অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য নর-নারী তাঁর আস্তানায় আসেন। নৌ-পথে মালেক শাহ্ হুজুরের সমাধি বা মাজারে যেতে মালেক শাহের ঘাটে নেমে অনায়াসে দরবার শরীফে যেতে পারেন।

অন্যদিকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপঘাটে নেমে রিক্সায় থানা সদরে এসে জীব বা রিক্সায় তাঁর সমাধি বা মাজারে যেতে পারেন। বড়ঘোপ থেকে দরবার শরীফের দূরত্ব আনুমানিক ৮ কি:মি:।

  • তথ্য: সংগ্রহ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: