Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে শিবচর্তূদর্শী পূঁজা ও মেলা শুরু

মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে শিবচর্তূদর্শী পূঁজা ও মেলা শুরু

Puza - Adinat Mondir - Himu 7-3-16 news 1picঅজিত কুমার দাশ হিমু; কক্সভিউ :

উপমহাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম তীর্থ স্থান মহেশখালীর মৈনাক পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত আদিনাথ মন্দির। ৭ মার্চ সোমবার দুপুর ১২টা ৩০মিনিট থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মহাব্রতানুষ্ঠান “শিব চর্তুদশী” ও সপ্তাহ ব্যাপী মেলা। এ উৎসব আগামী ১০মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ উপলক্ষে মহেশখালীতে দেশী বিদেশী হাজারো পূণ্যার্থী পুজারীরা আসা শুরু করেছে।

৭মার্চ দুপুর ১২টা ৩০মিনিট হতে শিব দর্শন ও পূজা অর্চণা শুরু হয়ে পরদিন সকাল ১০টা ৩০মিনিট পর্যন্ত চলেবে শিব দর্শন। এর পর থেকে পুজারীরা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে গয়াধামে পিন্ডদানের মাধ্যমে তর্পন, শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করবেন বলে পূণ্যর্থীরা জানান।

জানা যায়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, শিবলিঙ্গ (অঙ্গ) রুপে অবস্থান করে এবং সেখানে তিনি সদাজাগ্রত। হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে এ ধারণা প্রবল রয়েছে যে, পুণ্য তিথি শিব-চর্তুদশীতে এই ধামে স্নান, শিব পূজা এবং ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও শ্রবণ করলে জাগতিক পাপ মুছে গিয়ে পূণ্যের সঞ্চার হয়।

এদিকে, কক্সবাজারের মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে শিব চর্তুদশী পূজা পালন করতে দেশীয় সনাতন ধর্মালম্বী ছাড়া ও পার্শ্ববতী দেশ ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পুজারিদের সমাগম ঘটবে জানান আদিনাথ মন্দিরের কর্মরত পুরহিত। শিব চতূদর্শী পূজা পালন শেষে পূণ্যর্থীরা মন্দিরের পাদদেশে স্থাপিত মেলা থেকে বাড়ীর জন্য বিভিন্ন নিত্যপণ্য সামগ্রী কিনে নিয়ে যায়। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দোকানীরা আসে তাদের পণ্য সামগ্রী বিক্রির জন্য। প্রতিবছর এ মেলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল যাত্রাগান, ভ্যারাইটি শো, র‌্যাফেল ড্র’র নামে জুঁয়া খেলা, পুতুল নাচ, সার্কাস, মোটরসাইকেল (মৃত্যুকূপ) সহ বিভিন্ন প্রকার বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান এর মাধ্যামে বিশাল বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে থাকে। ফলে এ নিয়ে ঘটতে থাকে বিভিন্ন প্রকারের অপ্রীতিকর ঘটনা। ৎ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায় এবারের মেলা আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় অশ্লীল নাচ গান বর্জন করে শুধুমাত্র পুজারী ও স্থানীয় দর্শনাথীদের প্রয়োজনী পণ্য ক্রয় করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আদিনাথ মেলা করতে তারা আগ্রহী।

এদিকে আদিনাথ মন্দিরে যুগ যুগ ধরে শিব চর্তুদশী পুজা হলেও পিন্ড দান করতে হতো সুদূর ভারতের গয়াকাশি গিয়ে। যা অনেক গরীব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা সম্ভব হতো না। এ ভাবনা থেকে শিব চর্তুদশী পুজায় পূর্ণ্যর্থীদের জন্য আদিনাথ মন্দিরের পাদদেশে মহেশখালীর ভূমি আফিসের এম,এল,এস,এস, কুতুবদিয়াদ্বীপের অধিবাসী ধর্মপ্রাণ রাম হরি দাশ সম্পূর্ণ নিজের অর্থ ও পরিশ্রমে ১টি গয়াকাশির আদলে গয়া ধাম, ১টি গঙ্গাবিষ্ণু মন্দির, ১টি গঙ্গা পুকুর ও ১টি মহা শ্মশান নির্মাণ করে দেন পুজারীদের সুবিধার্থে।

অপরদিকে দেশ বিদেশ থেকে আগত পূণ্যর্থী ও মেলার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন জোর তৎপর রয়েছে বলে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বণিক জানান।

তিনি আরও জানান, মেলায় আগত পূজার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজায় আগত তীর্থ যাত্রীদের সুবিধার্থে মন্দিরের ১কিলোমিটার দূরে মহেশখালী কলেজ মাঠ, পশু হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ চত্তর, ডাক বাংলোস্থ পুরাতন হাসপাতালের মাঠ, বড় রাখাইন পাড়া মন্দিরের সামনে গাড়ী পার্কিএর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি একাধিক স্বেচ্ছা সেবক দল নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদিনাথ মেলায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সব সময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। পুজারিদের নিরাপত্তার জন্য কক্সবাজার থেতে পযাপ্ত পুলিশ ফোর্স আনা হয়েছে। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে স্থানীয় জন-সাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আদিনাথ মিন্দর পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি পূর্ণ চন্দ্র দে জানান, আদিনাথ মন্দিরে শিব দর্শনের জন্য তীর্থযাত্রীরা সরাসরি গাড়িযোগে চকরিয়ার বদরখালী হয়ে মহেশখালীর আদিনাথে আসতে পারবেন এবং পর্যটন শহর কক্সবাজারের ৬নং জেটি ও কস্তুরাঘাট হয়ে সমুদ্র পথে স্পীড বোট ও লঞ্চে করেও আদিনাথ মন্দিরে আসা যায়।

মন্দিরের পূরোহিত সুনীল চক্রবর্তী জানান, শিব চতূর্থদর্শী পূজার মূল দর্শণ ৭ মার্চ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ৮ মার্চ সকাল ১০টা ৩০মিনিট শেষ হবে।

মহশেখালী উপজলো নির্বাহী অফিসার মো: আবুল কালাম বলেন, দেশী বিদেশী হাজার হাজার পুজারীর আগমনে মহেশখালীর আদিনাথ মেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। এই পুজা ও মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ স্পীড বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

%d bloggers like this: