শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

মিতু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত : পিবিআইয়ের তদন্ত 

http://coxview.com/wp-content/uploads/2022/08/Babul-Mitu.jpg

অনলাইন ডেস্ক :
সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলাটি অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে। অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবুল আক্তার এবং খুনিদের তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। নিজেকে আড়াল করতে প্রচার করেন জঙ্গি হামলা হিসেবে। মিতু হত্যা মামলায় প্রস্তুত হওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। যা আদালতে জমা দেওয়া হবে শীঘ্রই।

জানা গেছে, আড়াই বছরের তদন্ত শেষে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার জন্য তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকেই মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতা হিসাবে চিহ্নিত করেছে পিবিআই। শেষ পর্যন্ত নিজের দায়ের করা মামলাতেই অভিযুক্ত হলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে সাত জনের বিরুদ্ধে মামলায় করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম আসা অন্য ছয় আসামি হলেন মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া। এদের মধ্যে মুসা ও খাইরুল ঘটনার পর থেকে পলাতক। বাবুল, ওয়াসিম, শাহজাহান ও আনোয়ার কারাগারে আছেন। আর এহতেশামুল জামিনে আছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রে চারজনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এরা হলেন সাইদুল ইসলাম শিকদার ওরফে সাক্কু, নুরুন্নবী, মো. রাশেদ ও আবু নাছের। এদের মধ্যে রাশেদ ও নুরুন্নবী ঘটনার কয়েক দিন পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

সূত্র জানায়, মাহমুদা খানম মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের দায়েরকৃত মামলায় এনজিও কর্মী গায়ত্রী অমর সিংয়ের নাম উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে তার সাথে পরকীয়ার বলী হয়েছেন এই মিতু। ব্যক্তিগত জীবনে গায়ত্রী বিবাহিত এবং তার একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে সুইজারল্যান্ড বা পূর্ব আফ্রিকার কোনো দেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের প্রটেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত গায়ত্রী। এরপর পিবিআই বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক মামলার স্বার্থে ঘটনার অন্যতম প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিতুর সন্তান মাহিরের সাথে কথা বলেছেন।

পিবিআইয়ের প্রস্তুত করা অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাবুল কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার এক নারী কর্মকর্তার (গায়ত্রী) সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক হয়। ওই নারী তখন যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার নিরাপত্তাকর্মী সরওয়ার আলম ও গৃহকর্মী পম্পি বড়ুয়া গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। এতে দুজনই কক্সবাজারে ওই নারীর বাসায় বাবুলের যাতায়াতের বর্ণনা দেন। পরে মিতু এ ঘটনা জানতে পারলে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের একপর্যায়ে বাবুল আকতার তার বিশ্বস্ত সোর্স মুসার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে বলে তথ্য উদ্‌ঘাটন করেছে পিবিআই। অবশ্য স্ত্রী হত্যায় বাবুল আকতারের সম্পৃক্ততা তুলে ধরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল তিন আসামি ভোলা-ওয়াসিম এবং আনোয়ার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ওমর ফারুক আরো বলেন, অভিযোগপত্রে বাদী বাবুলসহ সাতজনকে আসামি করা ছাড়াও সাক্ষী রাখা হয়েছে ৯৭ জনকে। আগামী সপ্তাহে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত: ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় মিতুকে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতার নিজে। হত্যাকাণ্ডের বছর খানেক পর থেকেই মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন দাবি করে আসছিলেন, বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় ও নির্দেশে তার মেয়ে মিতুকে খুন করা হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে সেটি নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করেছিল। কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আকতারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ২০২১ সালের ১২ মে পিবিআই বাবুল আকতারকে গ্রেফতার করে।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com