Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / রাজাখালীতে শিক্ষক নির্যাতনে মুমূর্ষু ছাত্র সাইফুর অবশেষে মারা গেছে : শোকের ছায়া এলাকায়

রাজাখালীতে শিক্ষক নির্যাতনে মুমূর্ষু ছাত্র সাইফুর অবশেষে মারা গেছে : শোকের ছায়া এলাকায়

Lash

 

নিজস্ব প্রতিবেক; পেকুয়া :

পেকুয়ার রাজাখালীতে শ্রেনী শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনে ব্রেইন স্ট্রোক আক্রান্ত নির্বাক ৭ম শ্রেনী পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র সাইফুর (১৬) দীর্ঘ দেড় বছর মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগের পর অবশেষে মারা গেছেন। তার এ অকাল মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয় পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

জানা যায়, উপজেলার রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যলয়ের ৭ম শ্রেণী ছাত্র পড়ুয়া এ মেধাবী ছাত্র।ওই ইউনিয়নের মিয়া পাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী আবু তালেবের পুত্র সন্তান। ২০১৪সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ব্রাজিল দলের ক্ষুদে সমর্থিত ক্রীড়া প্রেমিক ছিল সে। হরিণের মতো চঞ্চল আর ডানপিটে স্বভাবের ছিল বিদ্যালয়ের এ মেধাবী ছাত্রটি। বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্রাজিল দলের সুদক্ষ খেলোয়াড় নেইমার ছিল শিক্ষার্থী সাইফুরের প্রিয় খেলোয়াড়। একদিন সে প্রিয় খেলোয়াড় নেইমারের অনুকরনে চুলের কাটিং দেয়। পরে, ওই চুলের কাটিং নিয়ে স্কুলে গিয়ে শ্রেনী শিক্ষকের প্রকাশ্য মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে নির্বাক হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর যাবত মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ শেষে ১৪মার্চ সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় সে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে।

উল্লেখ্য, তার চুলের কাটিং সাট দেয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় শিক্ষকের বেত্রাঘাত আর অমানসিক নির্যাতনে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় ওই মেধাবী ছাত্রটি। শ্রেনী শিক্ষকের অমানসিক নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী সাইফুরের ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক ও অসুস্থ্য হওয়ার ঘটনায় পত্র পত্রিকায় সবিস্তার সংবাদ পেয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশিদ খান ও রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল বিএ। তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খান অসুস্থ্য এ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ তার মায়ের হাতে তুলে দেন লক্ষাধিক টাকা। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরও আর বিদ্যালয়ে ফিরে লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি তার। অবশেষে ১৪মার্চ সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় তার নিজ বাড়িতে দীর্ঘ নির্বাক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নামাযে জানাযা শেষে তার মরদেহ সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় সহপাঠি ও পরিবার পরিজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।

এদিকে এ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু হলেও নামাযে যানাজায় বিদ্যলয়ের পক্ষ থেকে কোন শিক্ষক বা এস.এম.সি সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি না দেখায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Leave a Reply