মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

রামুতে সংঘবদ্ধ জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ব্যবসায়ী চক্র আবারও সক্রিয় : মূলহোতা বিশেষ ক্ষমতায় জামিনে মুক্ত

রামুতে সংঘবদ্ধ জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ব্যবসায়ী চক্র আবারও সক্রিয় : মূলহোতা বিশেষ ক্ষমতায় জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, রামু:

কক্সবাজার জেলার রামুতে সংঘবদ্ধ জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ব্যবসায়ী চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, এই চক্রের অন্যতম সদস্য রামু চৌমুহনীস্থ মেসার্স হক লাইব্রেরীর সাবেক কর্মচারী ও দলিল লেখক সুবল শর্মার সহকারি, জাল স্ট্যাম্প বিক্রির অন্যতম হোতা আবদুর রহিম জামিনে বেরিয়ে আসার পর সংঘবদ্ধ চক্রের সকল সদস্যরা গোপনে ফের সক্রিয় ভাবে এই ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে।

রামুতে দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নির্দিধায় জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্পের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ঢাকার বাংলাবাজার এলাকার শাহাজান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প রামুতে সংগ্রহ করত এই চক্রের অন্যতম হোতা আবদুর রহিম। এসব রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে সার্বিকভাবে তাকে সহযোগিতা করত রামু চৌমুহনীস্থ মেসার্স হক লাইব্রেরীর মালিক হোমিও চিকিৎসক মৌলবী ফয়েজুল ইসলাম।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রামুতে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রি করে আসার বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সরকারের নজরে গেলে এরই প্রেক্ষিতে (২০ জুন-২০১৫ইংরেজী) রামু থানা পুলিশ এক অভিযান পরিচালনা করেন। থানা’র ওসি তদন্ত মোঃ কায় কিসলুর নেতৃত্বে অভিযানের ভিত্তিতে ঐ দিন রাতে রামু চৌমুহনীস্থ মেসার্স হক লাইব্রেরীর সাবেক কর্মচারী ও দলিল লেখক সুবল শর্মার সহকারি, জাল স্ট্যাম্প বিক্রির অন্যতম হোতা আবদুর রহিম, ওই লাইব্রেরির মালিক হোমিও চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম ও কর্মচারী সাইফুল ইসলাম, স্কুল লাইব্রেরির মালিক শামসুল আলম, দলিল লেখক সুবল শর্মা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড রামু শাখার পিয়ন রুবেলকে পুলিশ আটক করেন। আবদুর রহিমকে আটকের পর তার স্বীকারোক্তি মতে পুলিশ সুবল শর্মার অফিস ও রামু চৌমুহনী হক লাইব্রেরীর ভেতর থেকে ২৩৩৯২০পিছ কোর্ট ফিঃ ও জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প উদ্ধার করে। ওইদিন রামু হক লাইব্রেরী থেকে শফিকুল ইসলাম ও রামু স্কুল লাইব্রেরী মালিক শামশুল আলমকে আটক করা হলেও মূলতঃ তারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলনা বলে সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে চৌমুহনী হক লাইব্রেরীর মালিক ফয়েজ কৌশলে আগে ভাগে দোকান থেকে সরে যায়। এই ফয়েজই রামুতে সর্ব প্রথম জাল রেভিনিউ ব্যবসা শুরু করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তাদের আটকের পরই পুলিশ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করলেও বাকিদের রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এই জালিয়াত চক্র মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে কিভাবে আবদুর রহিমকে অল্পদিনের মধ্যে জামিনে বের করে আনেন তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে রামু এবং কক্সবাজারে আরও যারা এই চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের মধ্যে, রামুর জসিম উদ্দিন, রামু রূপালী ব্যাংকের কর্মচারী শ্যামল মল্লিক, ইমরু, চাকমারকুলের আবু রাজিব, কক্সবাজারের ইসমাইল মুন্সী, জয়নাল বেন্ডার, হামিদুল হক।

এদিকে রামুতে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসা জাল রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যদের মধ্যে মুবিনুল হক রুবেল সোনালী ব্যাংকের পিয়ন ও শ্যামল মল্লিক রূপালী ব্যাংকের কর্মচারী এবং আবদুর রহিম দলিল লেখক সুবল মুন্সীর কর্মচারী। ফলে এসব ব্যাংক ও দলিল লিখক সুবল শর্মা’র দুই-এক বছর পূর্বের প্রতিটি কাজে যে সমস্থ রেভিনিউ ব্যবহার করা হয়েছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে নিমিষেই বেরিয়ে আসবে এই চক্রের সদস্যরা কি পরিমান সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

এব্যাপারে রামু থানার ওসি তদন্ত মোঃ কায় কিসলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ জাল রেভিনিউ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে তদন্ত করে সিন্ডিকেটের আরো অনেক সদস্য আবদুর রহিমের সাথে জড়িত থাকার বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, মামলা মামলার স্বার্থে যা বলা যাচ্ছে না।

রামুর সচেতন মহলের দাবী, দীর্ঘদিন ধরে রামুতে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গোপনে চালানো জাল রেভিনিউ ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক যথযথ শাস্তির আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এসব দেশদ্রোহী কর্মকান্ড চালাতে আরো অনেকে উৎসাহিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com