শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গাদের জীবন বিপন্ন

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

মিয়ানমারের রাখাইন আরাকান সেনাবাহিনীর তান্ডবে মিয়ানমার মুসলিমরা বর্বরতার শিকার হয়ে এদেশে দলে দলে পাড়ি জমালেও এখানে এসেও তারা শান্তিতে নেই। ওপারে নির্যাতন চললেও এপারে তাদের জীবন বিপন্ন।

জানা গেছে, রাখাইন প্রদেশে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। শনিবার ভোর রাতে মংডুর বড় গৌজবিল ও ছোট গৌজবিল দুটি গ্রাম থেকে ১৮ পরিবারের আরো শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে বালুখালী নতুন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের অভিযোগ সীমান্তে অরাজক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশী কোন পণ্য সামগ্রী সীমান্ত অতিক্রম করতে পারছে না। তাই ছেলে মেয়ে নিয়ে জীবন বাঁচাতে এদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকার ফলে ২বস্তিতে ঝুঁপড়ির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত কুতুপালং ও বালুখালীর সংরক্ষিত ও রক্ষিত প্রায় ২শ’ একর বনভূমিতে ৬শতাধিক রোহিঙ্গা বসতি গড়ে উঠেছে বলে বনবিভাগ দাবী করছে।

শনিবার সকালে বালুখালীর বনাঞ্চলে গড়ে উঠা নতুন বস্তি এলাকা ঘুরে সদ্য অনুপ্রবেশকারী বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে আলাপ করা হলে তারা এসব কথা বলেন। এসময় মংডুর বড় গৌজবিল গ্রামের আসমা খাতুন (৩২) জানায়, চাল, ডাল, তেল, পিয়াজ সহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের অভাব, টাকা থাকলেও জীবন রক্ষায় যেসব জিনিসের প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছে না। একই গ্রামের বনি আলম (৪৫) জানায়, সায়েরা (১৫), রাশেদা (১২), আরফাত (১০), লাইলা (৮), মুফিজ (৬) ও পুতিয়া (২) সহ এক স্ত্রী, ৬ ছেলে মেয়ে নিয়ে শনিবার ভোর রাতে তারা ধামনখালীর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই রোহিঙ্গা আরো জানায়, মংডু এলাকায় রোহিঙ্গা বাসিন্দারা যুগযুগ ধরে বাংলাদেশের নিত্যপণ্য দিয়ে জীবনধারণ করে আসছে। বর্মী সেনা তান্ডবের কারণে এদেশের কোন পণ্য সামগ্রী ওপারে যেতে পারছে না। যে কারণে এতদিন যারা লুকিয়ে পাহাড় জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটিয়েছে তারাও চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

বালুখালী নতুন বস্তির ১নং ব্লকের মাঝি করম আলী জানায়, রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত থাকার কারণে প্রতিদিন নতুন নতুন ঝুঁপড়িঘর তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন ঝুঁপড়িঘর তৈরির স্থান দখল দেওয়ার নামে টাকা আদায় করছে। বনভূমি দখল অব্যাহত থাকার ব্যাপারে বালুখালী বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলী জানায়, পশ্চিম বালুখালী এলাকায় ১০৫ একর বনভূমি এখন রোহিঙ্গাদের দখলে।

স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় এসব রোহিঙ্গারা বনভূমি দখল করে আশ্রয় নিয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

উখিয়া সদর বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তারা দু’দফায় প্রায় ১২০টি ঝুঁপড়ি ঘর উচ্ছেদ করেছে। দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্তের ইন্ধনে রোহিঙ্গারা বনকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এঘটনায় ৫ জন বনকর্মী আহত হয়েছে। তিনি বলেন, কুতুপালং বস্তি এলাকায় প্রায় শতাধিক একর বনভূমি দখল করে রোহিঙ্গারা ঝুঁপড়ি নির্মাণ করেছে। উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মুনিরুল ইসলাম জানান, নতুন করে গড়ে উঠা ঝুঁপড়িঘর উচ্ছেদের ব্যাপারে তিনি বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

বালুখালী ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত জায়গা দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা দাবী করেছে। তাছাড়া বনকর্মীরা তাদের ঝুঁপড়িঘর গুলো উচ্ছেদ করে দেওয়ার কারণে ওইসব রোহিঙ্গারা বালুখালী পশ্চিমপাড়া এলাকার বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়ার নেপথ্যে তার কোন ইন্দন বা সহযোগীতা নেই বলে দাবী করেন।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com