সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

লাগিয়তের ৩০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

ভ্রমণে কক্সবাজারে... (লবণ উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা: )

পেকুয়ায় সাবমেরিন স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে লবণ চাষ না করতে মাইকিং

Salt - 1

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া :

সাবমেরিন ষ্টেশন স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা ৪৬৬ একর লবণ চাষের জমিতে চাষ না করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। গত তিনদিন ধরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সর্বত্র মাইকিং করে স্থানীয়দেরকে এ তথ্য জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ৩ নভেম্বর অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের টাকা প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সাগর উপকূলবর্তী লবণ উৎপাদনক্ষম ওইসব জমিতে একমাস পর থেকেই শুরু হবে লবণ চাষ। ওই জমিতে চলতি মৌসুমে চাষাবাদ না করার ঘোষনা দেয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে প্রান্তিক লবণ চাষি ও মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা, ২০১৩ সালে সরকার পেকুয়ার মগনামায় সাবমেরিন স্থাপনের জন্য স্থানীয় মালিকদের কাছ থেকে ৪৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করেন। কিন্তু এই জমির বিপরীতে মালিকদের কোন ক্ষতিপূরণ বা টাকা প্রদান করা হয়নি। ফলে ওই জমির মালিকরা বিভিন্ন চাষিকে জমি আগাম টাকায় লাগিয়ত (পত্থন) দিয়ে আসছিল। অল্পদিন পরেই শুরু হতে যাওয়া লবণ মৌসুমের জন্যও ২৫০ থেকে ৩০০ জন জমির মালিক আগাম টাকায় জমির লাগিয়ত করে। এতে চাষিরাও লবণ চাষ শুরু করতে প্রস্ততি নিচ্ছিল। একর প্রতি সাড়ে ৬২ হাজার টাকা করে ৪৬৬ একর জমির জন্য প্রায় ২’শ চাষি অন্তত ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে চাষিরা।

স্থানীয় লবণ চাষিরা জানায়, চাষাবাদের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর জমি মালিকদের কাছে লাগিয়তের টাকা ফেরত চাইলে ওই টাকা দিতে গড়িমসি শুরু করে তারা। ফলে আর একমাস পরেই শুরু হতে যাওয়া লবণ মৌসুমের জন্য জমির লাগিয়ত ও শ্রমিককে দেওয়া অগ্রিম টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

লবণ চাষি মিজানুর রহমান, রহমত উল্লাহ, কাইছার উদ্দিন, আবদুল কুদ্দুস, কবির হোসেন, বাদশা মাঝি বলেন, আমরা দুই কানি থেকে পাঁচ কানি পর্যন্ত আগাম টাকা দিয়ে জমি লাগিয়ত নিয়েছি। লবণ চাষ করতে মাঠ প্রস্তুতি করছি। ঠিক এসময়ে মাঠে লবণ চাষ না করতে বারণ করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একদিকে ধার-হওলাদ করে লাগিয়তের জন্য দেয়া টাকা ফেরত পাচ্ছিনা। অন্যদিকে, হঠাৎ করে লবণ চাষ করতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করতে হবে।

এদিকে, জমির মালিক সিরাজউদৌল্লাহ চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ মাসুম, নুরুল আমিন (সাবেক ডিপিও), মাস্টার বশির আহমদ, আকতার হোসেন, জোহানা বেগমসহ অনেকেই দাবি করেন, জমি অধিগ্রহণ হলেও আমরা ক্ষতিপূরণ পায়নি। ফলে, নিজেরা চাষাবাদের পাশাপাশি জমি লাগিয়ত দিয়ে আসছি। এবারও জমি লাগিয়ত করেছি। হঠাৎ করে চাষাবাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জমির লাগিয়ত বাবদ কয়েক মাস পূর্বে নেয়া টাকা আমাদের পক্ষে ফেরত দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। জমির ক্ষতিপূরণ পেলে লাগিয়তের টাকা ফেরত দেয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মগনামা ইউপি’র চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে অধিগ্রহণকৃত জমিতে চলতি মৌসুমে লবণ চাষিদের চাষাবাদ করতে দেওয়া প্রয়োজন। নয়তো চাষি ও মালিকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে, এই মৌসুমের কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো ৬ মাস আগে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা উচিত ছিল।

পেকুয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফুর রশিদ খাঁন বলেন, অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে আগামী ৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসক পেকুয়া আসছেন। ক্ষতিপূরণের চেক জমির মালিকরা পেয়ে গেলে লবণ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com