Home / প্রচ্ছদ / লামার ইয়াংছা মরণ বাঁকে বছরে ২৮ বার দুর্ঘটনা : প্রাণহানী ১৬

লামার ইয়াংছা মরণ বাঁকে বছরে ২৮ বার দুর্ঘটনা : প্রাণহানী ১৬

Accident - Rafiq - Lama 20-12-2015 (news & 1pic) f1মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা :

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার চকরিয়া-লামা সড়কে মরণ বাঁক নামে পরিচিত ইয়াংছা বাকেঁ চলতি বছরে ২৮ বার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটক, মালবাহী ও যাত্রী পরিবহন গাড়ী দুর্ঘটনার কবলিত হয় বাকঁটিতে। প্রাণ হারায় সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও গাড়ী শ্রমিক সহ ১৬জন। আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, চকরিয়া হতে লামা আসার পথে ৬মাইল নামক স্থান থেকে প্রায় পুনে এক কিলোমিটার রাস্তা হালকা ঢালু ও সোজা। ঢালু সরল রাস্তাটিতে গতিতে গাড়ী চালায় অপরিচিত সকলে। অতি গতিতে এসে হঠাত্ সামনে ইউটার্ন বাঁক পড়লে কিছুই বুঝার আগে নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়ী। বিশেষ করে অপরিচিত ড্রাইভাররা দ্রুত ও সহজে আসতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাঁকটিতে চলতি বছরে সার ও মালবাহী ট্রাক ৩টি, তামাক বাহী ট্রাক ৫টি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শিশু খাদ্য বহনকারী কার্গো ট্রাক ১টি, জীপ ৪টি ও বাস ২টি, সিএনজি মাহিন্দ্র ৬টি এবং মোটর সাইকেল ৭টি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। অতিমাত্রায় যাত্রী ও মাল পরিবহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানায় এলাকাবাসী।

ইয়াংছা বাঁকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মোটর সাইকেল চালক ১ ও মিনি পিকআপ গাড়ীর ধাক্কায় পথচারী ১জন নিহত হয়। ২২ এপ্রিল ২০১৫ বাস গাড়ীর ধাক্কায় এক নিরীহ আইসক্রীম বিক্রেতাসহ প্রাণ হারায় ২জন। জুলাই/২০১৫ দিকে ট্রাক উল্টে ড্রাইভার হেলপার সহ প্রাণ হারায় ২জন। মাহিন্দ্র ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ৩জন। সর্বশেষ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ভোরে ট্রাক উল্টে প্রাণ হারায় ৭ শ্রমিক।

লামা, চকরিয়া ও আলীকদম বাস মালিক সমিতি’র সভাপতি নুর হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে এক বছরে ইয়াংছা বাঁকে ২৮ বার গাড়ী দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাণ হারায় সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও গাড়ী শ্রমিক সহ ১৬জন। আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক।

অপরদিকে লামা, চকরিয়া ও আলীকদম জীপ মালিক সমিতি’র সভাপতি মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিপদজনক এই মোড়টিতে প্রতিনিয়ত ট্রাক, বাস, জীপ, মাইক্রোবাস, কার ও সিএনজি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উদাসীনতার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। বাঁকে আগে ও পরে স্প্রীড ব্রেকার না থাকায় এবং রাস্তার দু’পাশের গাছের ডাল-পালা, ঝোঁপ-জঙ্গল না কাটার কারণে বার বার ঘটছে প্রাণহানী।

ইয়াংছা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ত্রিপল চাকমা বলেন, দ্রুত গতিতে সরল রাস্তা পেরিয়ে এসে ইউটার্ন বাঁকটিতে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অনেকে। বিশেষ করে অন্যান্য জায়গার ড্রাইভাররা এই রাস্তায় এসে বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, অতি দ্রুত দুর্ঘটনা রোধে রাস্তার ট্রাফিক চি‎হ্নগুলো সংযুক্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতিমাত্রায় মালামাল পরিবহনকৃত গাড়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহমুদ বলেন, অতি শীঘ্রই গাড়ী পরিবহন শ্রমিক ও ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবহিত বলা হযেছে। মোড়ে হর্ণ বাজান সাইনবোর্ড ও আয়না দিয়ে বিপরীত দিকের গাড়ী সহজে দেখতে আয়না স্থাপন করা হবে। এছাড়া সওজ অধিদপ্তরকে রাস্তা প্রস্থ্ করতে বলা হয়েছে।

%d bloggers like this: