Home / প্রচ্ছদ / শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

President & Prime Ministerরাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্ম শহিদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও পথকে অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এদিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি শহিদ বুদ্ধিজীবীদের, যাঁরা

১৯৭১ সালে বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদারবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন। আমি তাঁদের পরিবারবর্গের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।’

তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীরা দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপকার এবং সর্বকালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, উদার ও গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা জাতির অগ্রগতির সহায়ক। জাতির বিবেক হিসেবে খ্যাত বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি, যুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারকে পরামর্শ প্রদানসহ বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে সহায়কের ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদারবাহিনী পরিকল্পিতভাবে এদেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, চিকিত্সক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বহু গুণীজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

জাতিকে মেধাহীন করার হীন উদ্দেশ্য নিয়েই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এ বর্বরোচিত হত্যাকা- চালায়। জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ হোক জাতির ভবিষ্যত্ চলার পাথেয়।

তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের পথ বেয়ে বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক, প্রজ্ঞাময় সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত হোক, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে-এ হোক প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল-মত-নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে একাত্তরের ঘাতক, মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী জামাতচক্রের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই কুখ্যাত মানবতাবিরোধীদের যারা রক্ষার অপচেষ্টা করছে তাদেরও একদিন বিচারের আওতায় আনা হবে। এসব রায় বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।

জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ বিচারের কয়েকটি রায় কার্যকর হয়েছে। বাকি সকল রায় কার্যকর করা হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই জাতিকে এ পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান। আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

তিনি বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ এক কলঙ্কময় দিন। স্বাধীনতার উষালগ্নে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।”

তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত ও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা আলবদর, আলশামস ও রাজাকারবাহিনী গঠন করে পাক হানাদারবাহিনীকে সহায়তা করার পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে তারা দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিত্সক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদসহ দেশের সেরা সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে।

আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লাহ কায়সার, গিয়াসউদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, আবদুল আলীম চৌধুরী, সিরাজউদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, মুনীর চৌধুরী আরও অনেকে তার শিক্ষক ছিলেন।

তিনি বলেন,স্বাধীনতাবিরোধীরা এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়। তাদের সেই প্রতিশোধ-স্পৃহা আজও থেমে নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। মুক্তমনা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়। খুন-হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন চালায়। এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব চালায়। তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ায়। এতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে।

সূত্র: বাংলাদেশবাণীডটক,ডেস্ক।

%d bloggers like this: