Home / প্রচ্ছদ / শাস্তির দাবী চকরিয়া প্রেসক্লাবের : ছবি তুলতে গিয়ে সশস্ত্র হামলায় সাংবাদিক আহত, ক্যামরা মোবাইল ও টাকা লুট

শাস্তির দাবী চকরিয়া প্রেসক্লাবের : ছবি তুলতে গিয়ে সশস্ত্র হামলায় সাংবাদিক আহত, ক্যামরা মোবাইল ও টাকা লুট

Mukul - Chakaria - 12,08,15মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া:

গাছ ও পাহাড়খেকোদের নিরাপদ রাজ্যে রুপ পেয়েছে চকরিয়ার ফাঁশিয়াখালী। এ এলাকার কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র বনসহ পাড়াগাঁয়ের গাছ কাটার পাশাপাশি নিকটস্থ বন বিভাগের পাহাড় দখল করে অবৈধ বসতি নির্মাণপূর্বক বিকিকিনি করেই চলছে। পাশাপাশি পাহাড় খনন করে পাথর উত্তোলন ছাড়াও বালি-মাটি বেচাকেনা করছে প্রকাশ্যে। এই অবৈধ কর্মকান্ড থামাতে পারেনা প্রশাসন! পুলিশ প্রবেশে লাগে অনুমতি!! হামলা চালানো হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত টিমের উপর। এবার গাছ কাটার সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে চার সাংবাদিক। তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে ক্যামরা ও মোবাইল সেট। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশ অফিসারকে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করায় জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়েছে অপকর্মের উপনেতা স্থানীয় মেম্বার আলমগীর কবির রাজুর। এ নিয়ে পুরো চকরিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হামলার শিকার চকরিয়া কর্মরত সাংবাদিকরা হলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন ফারুক, আমাদের অর্থনীতির এম রায়হান চৌধুরী, সংবাদ প্রতিদিনের এম মনছুর আলম ও ভোরের ডাকের একেএম বেলাল উদ্দিন। তাদের কাছ থেকে একটি প্যানাসনিক ক্যামরা, নগদ ২৪ হাজার ৫শ টাকা ও দুটি মোবাইল সেট কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। আহত সাংবাদিকরা চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাংবাদিক জিয়াউদ্দীন ফারুক বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই নাজমুলকে। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ফাঁশিয়াখালীর আবুল কাশেমের ছেলে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলমগীর কবির রাজু, আক্তার আহমদের ছেলে আলী আজম, আশু প্রকাশ ল্যাং আশুর ছেলে মুজিবুল হক, মৃত আব্বাছ আহমদের ছেলে নুর ছমদ, জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ সোলেমান চৌকিদার ও আরো অজ্ঞাত ১৫-২০জন।

এজাহারে দাবী করা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফকির হাট বাজারের দক্ষিণ পাশে মাদ্রাসা সড়ক থেকে মেম্বারের নেতৃত্বে ও চৌকিদারের পাহারায় একদল দূর্বৃত্ত গাছ কেটে লুট করছে খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে ছুটে যায় সাংবাদিকরা। গাছ কাটার দৃশ্য ক্যামরাবন্দী করার সময় চৌকিদারসহ দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এখবর পেয়ে কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ মাসুদ আলম ও থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধরের নির্দেশে একদল পুলিশ ফোর্স নিয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। ঘটনার ব্যাপারে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে থানায় এজাহার দেয়া হলেও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়নি।

অভিযোগে প্রকাশ, গাছখেকোদের খপ্পর থেকে সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গেলে এসআই নাজমুলকে কেন বিনা অনুমতিতে এবং না জানিয়ে ফকিরা হাট এলাকায় প্রবেশ করেছে প্রশ্ন করে দূর্বৃত্ত চক্রের উপ-লিড়ার আলমগীর মেম্বার। থানার একজন অফিসারকে এমন প্রশ্ন করার সাহস দেখানোয় উপস্থিত লোকজন হতবাক হয়ে পড়েন।

প্রাণ সংশয়ের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, চকরিয়ায় অবৈধ গাছ, কাঠ ও ফার্ণিসারের দোকান বা বাজারে যেসব গাছ যোগান দেয়া হচ্ছে সবই ফাঁশিয়াখালীর গাছখেকোদের হাত দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফাঁশিয়াখালীসহ নিকটস্থ লামার বন বিভাগের পাহাড় দখল করে বসতি নির্মাণ, পাহাড় খনন করে পাথর উত্তোলন ও বালি-মাটি প্রকাশ্যে বেচাকেনা করছে একই সিন্ডিকেট।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিন গেলেই এসব অপকর্মের দৃশ্য সচক্ষে দেখতে পাবেন বলে তাদের অভিমত।

অন্যদিকে ইতিপূর্বে অবৈধ পন্থায় পাহাড়ী বালি বিক্রয়ের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালে তাদের উপর হামলা চালায় দূর্বৃত্তরা। বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও একাধিকবার অভিযান চালালেও দূর্বৃত্তের তৎপরতা রোধ করতে পারেনি। থানা ও আদালতে কয়েকটি মামলা হলেও অভিযুক্তরা রয়েছে বহাল তবিয়তে। ফলে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে ফাঁশিয়াখালী।

চকরিয়া প্রেসক্লাব

এদিকে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে লাঞ্ছিত ও ক্যামরা মোবাইলসহ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবী জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম জাহেদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এম আর মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক এএম ওমর আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি এমএইচ আরমান চৌধুরী, সহ সভাপতি জহিরুল আলম সাগর, কোষাধ্যক্ষ ছোটন কান্তি নাথসহ ক্রিড়া সম্পাদক জামাল হোছাইন, সদস্য রফিক আহমদ, মোস্তফা কামাল, আবদুল মতিন চৌধুরী, বিএম হাবিব উল্লাহ, অলি উল্লাহ রনি, আবদুল মজিদ, মুকুল কান্তি দাশ, শাহজালাল শাহেদ, ফেরদৌস ওয়াহিদ, সাঈদী আকবর ফয়সাল প্রমূখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: