Home / প্রচ্ছদ / শিশু সুমির খুনী সত্ পিতার ফাঁসি

শিশু সুমির খুনী সত্ পিতার ফাঁসি

shafiq - 01780099800, Cox'sBazar, Bangladesh.

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশু সুমি আক্তারকে হত্যার দায়ে ঘাতক সত্ পিতা আব্দুল গফুরকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ১০ আগস্ট সকালে জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাদিকুল ইসলাম তালুকদা’র জনাকীর্ণ আদালত এ রায় ঘোষনা করেন।

মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আব্দুল গফুর মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা গ্রামের আবু শামার পুত্র। রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল সে। নিহত সুমি আক্তার ছিল ঘাতক গফুরের দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম স্বামীর ঔরসজাত সন্তান। ২০১৩ সালের ১৯ এপ্রিল কুতুবজোমের ঘোনারপাড়াস্থ ভাড়া বাসা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঘাতক গফুর সুমি আক্তারকে নিয়ে বের হয়। এরপর তাজিয়াকাটা বেড়িবাঁধের উপর তুলে খুন করে। হত্যা পরবর্তী একটি বড় নিহত শিশু সুমি আক্তারের শরীরের উপর একটি বড় পাথর চাপিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন ২০ এপ্রিল সত্ পিতা আব্দুল গফুরকে একমাত্র আসামী করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সুমি আক্তারের মা তৈয়বা বেগম। ওই মামলার সূত্র ধরে ২২ এপ্রিল হত্যাকারী গফুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে সে। ঘোষিত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, সুমি আক্তারের মতো অবুঝ শিশুর অন্তরে মিথ্যা পিতৃত্বের স্নেহ, মায়া ও আদরের বিশ্বাস জন্মিয়েছিল ঘাতক গফুর। সুস্থ মস্তিস্কে, ঠান্ডা মাথায় নির্মম, নিষ্ঠুর ও নৃশংস এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে প্রকৃত পিতা মাতার কোল খালি করেছে সে। হত্যা পরবর্তী লাশ লুকিয়ে রেখে আলামত নষ্ট করার অপচেষ্টা যে অপচেষ্টা আসামী করেছিল, তাতে অপরাধের দায়ে দন্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আসামী আদালতের কাছ থেকে কোন রূপ দায়, অনুকম্পা ও সহানুভ‚তি পেতে পারে না, তা দেখানোও উচিত নয়। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হলেই বলা যেতে পারে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি দীলিপ কুমার ধর। আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন শামশুল আলম কুতুবী।

Leave a Reply

%d bloggers like this: