বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

সাফারি পার্ক ঘুরে বাড়ি ফেরা হলোনা পিতা-কন্যার

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কুতুবজুম এলাকার মোহাম্মদ কালু। তার বড় মেয়েকে বিয়ে দেয় চকরিয়ার পালাকাটায়। ঘরের শিশু ছেলে-মেয়েদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বছরের শেষ মাসে শীতের মৌসুমে স্ত্রী-সন্তানসহ শীত পিঠা নিয়ে মেয়ে কোহিনুর আক্তারের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

একরাত থাকার পর বাড়ি ফেরার আগে সন্তানদের বিনোদন আহরণের বায়না পুরণ করতে শুক্রবার সকালে চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঘুরতে যায় কালু। তার সাথে ছিল স্ত্রী সাবেকুন্নাহারা, শিশু কন্যা রীনা আক্তার (১১), সাকেরা আক্তার (৮), সাহেদুল ইসলাম (৫), শ্যলকের স্ত্রী খাইরুনেচ্ছা, ভাবী কালা খাতুন।

তারা কয়েক ঘন্টা সাফারি পার্ক ঘুরে দেশি-বিদেশি পশু-পক্ষী দেখে দীর্ঘদিনের খায়েশ মেটায় সন্তানদের সাথে বাবা-মা। আনন্দ ভাগাভাগি করে ফের মেয়ের শ্বশুর বাড়ি ফিরতে একটি ম্যাজিক গাড়িতে উঠে। গাড়িটি দুপুর একটার দিকে মহাসড়কের ফাঁসিয়াখালী ঢালার সেগুনবাগান এলাকায় পৌঁছলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমূখি যাত্রীবাহি সৌদিয়া পরিবহণের বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ম্যাজিক গাড়িটি অপর একটি গাড়িকে ওভারটেক করে চিরিংগায় আসতে গিয়ে বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় ঘটনাস্থলে তিনজনের সাথে মারা যায় মো.কালু। তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসা পাওয়ার আগেই রীনা আক্তার (১৭) মারা যায় বলে চিকিৎসক নিশ্চিত করেন। এছাড়া তাদের সাথে বেড়াতে যাওয়া কালা খাতুন (৫০) মারা যায় একই দুর্ঘটনায়।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বিনোদনে নেমে আসে শোকের ছায়া। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া স্ত্রী জানেনা এখনো স্বামী কালু ও মেয়ে রীনা আর বেঁচে নেই। সংকটাপন্ন সাকেরা ও সাহেদ শুনেনি এখনো তাদের বাবা ও মেজ আপা বেঁচে নেই। এই করুণ মৃত্যুর খবর শুনে কোহিনুরের শ্বশুর বাড়ি পালাকাটা ও মহেশখালীর কুতুবজুমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com