Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / পুষ্টি ও স্বাস্থ্য / সুস্থ থাকুক আপনার নবজাতক সন্তান

সুস্থ থাকুক আপনার নবজাতক সন্তান

Life style -  2016 - 005  (Newborn)হসপিটাল থেকে নবজাতক সন্তানকে বাসায় নিয়ে আসা অনেক উত্তেজনাপূর্ণ সময়। বিশেষ করে নতুন মায়েদের জন্য স্নায়ুর উপর চাপ পরে বেশি। আপনার সন্তানটি পুরোপুরি সুস্থ আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে হসপিটাল ত্যাগ করবেন। মনে রাখবেন নবজাতকের সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে যা আপনার সন্তানেরও হতে পারে। এতে দুশ্চিন্তা করার কিছুই নেই, তবে সমস্যা গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন কখন আপনার সন্তানকে চিকিত্সকের কাছে নেয়া প্রয়োজন।আজ আমরা নবজাতকের সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ, লক্ষণ ও উপশমের উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।

১। জন্ডিস

পুরনো লাল রক্ত কণিকা ভেঙ্গে নতুন একটি রাসায়নিক গঠন উত্পন্ন হয় যাকে বিলিরুবিন বলে। নবজাতকের শরীরে বিলিরুবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে জন্ডিস হয়। আমাদের সবার শরীরেই বিলিরুবিন থাকে কিন্তু নবজাতকের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। কারণ তদের তরুণ ইমিউন সিস্টেমে জন্মের সময়ের অতিরিক্ত লাল রক্ত কণিকা প্রক্রিয়াজাত করতে সময় লাগে। জন্ডিস হলে যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায় তা হল- প্রথমে মুখে হলদে ছাপ পরে, তারপর বুকে, পেটে এবং পায়ে দেখা যায়। পরীক্ষা করার জন্য আপনার সন্তানের নাকে, কপালে অথবা উরুতে আস্তে করে চাপ দিন এতে যদি আপনার আঙ্গুলে হলুদ রঙ দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে যে, আপানার সন্তানের জন্ডিস হয়েছে।

সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যে নিজে নিজেই জন্ডিস ভালো হয়ে যায়। যদি তা না হয় তাহলে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রক্ত পরীক্ষা করে বিলিরুবিনের মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। যদি বিলিরুবিনের মাত্রা অতিরিক্ত হয় এবং চিকিত্সা করা না যায় তাহলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই পর্যায়ে চিকিত্সক আপনাকে ফটোথেরাপির পরামর্শ দেবেন। ফটোথেরাপির জন্য আপনার সন্তানকে একদিন বা দুইদিনের জন্য বিশেষ ফ্লুরেসেন্ট আলোর নীচে রাখতে হবে। এই আলো সাদা, নীল বা সবুজ রঙের হতে পারে। এই আলো ত্বকের বিলিরুবিন ভাংতে সাহায্য করে। এর ফলে শিশুর তরল মল হতে পারে।

২। হার্ট মারমার

শিশুর হৃদস্পন্দনের মাঝে কলকল শব্দ হলে তাকে হার্ট মারমার বলে। সাধারণত চিকিত্সক শিশুর হৃদস্পন্দন শুনে, এর অবস্থান ও সময় দেখে একে চিহ্নিত ও শ্রেণীভুক্ত করতে পারেন। হার্ট মারমার সাধারণ এবং তেমন কোন ক্ষতিকর না। নিরীহ হার্ট মারমারের জন্য সাধারণত চিকিত্সার প্রয়োজন হয়না। আপনার চিকিত্সক যদি খুব বেশি সচেতন হন তাহলে হয়তো একজন শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাবেন বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করার জন্য।

৩। কাশি ও সর্দি

শিশুর জন্মের প্রথম বছরে ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়াটা প্রায় নিশ্চিত। শত শত ভাইরাস এই ঠান্ডার জন্য দায়ী এবং আপনার নবজাতক এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারেনা কারণ তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি ডেভেলপ করেনি। এছাড়াও শিশু তার হাত ও মুখ দিয়েই সব কিছু অন্বেষণ করে, তাই ঠান্ডা সৃষ্টিকারী ভাইরাসের শিশুর অঙ্গে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সাধারণত শরত্কাল এবং শীতকালে ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ে, যখন ভাইরাস খুব সহজেই একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে যায়।

গড়ে একজন বয়স্ক মানুষ বছরে ২-৪ বার ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়। আর শিশু আক্রান্ত হয় ৬-১০ বার এবং এই সংখ্যা ডজন ছাড়িয়ে যেতে পারে যদি শিশুকে ডে কেয়ারে রাখা হয়। শিশুর ঠান্ডার সাথে সাথে অ্যালার্জি ও হতে পারে এবং আরও কঠিন অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। শিশু ঠান্ডায় আক্রান্ত হলে নাক দিয়ে সর্দি পরে (হলুদাভ বা সবুজাভ মিউকাস বাহির হয়), হাঁচি ও কাশি দেয় এবং হালকা জ্বর থাকতে পারে। যদি এই অবস্থা বেশীদিন থাকে তাহলে শিশুর এনার্জি কমে যায় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

৪। ডায়াপার র্যাশ

সাধারণত সব শিশুরই ডায়াপার র্যাশের সমস্যাটি হয়ে থাকে। সন্তানের ডায়াপার র্যাশ হওয়া মানে আপনি অবহেলা করেছেন এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এটা হঠাত্ করেই হতে পারে। এতে শিশুর পশ্চাত্ অংশের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়, লাল হয়ে যায় এবং ক্ষত হয়। শিশুর ত্বক সংবেদনশীল হয় তাই বেশীক্ষণ নোংরা ডায়াপারে থাকলে র্যাশ হতে পারে। মলের ব্যাকটেরিয়ার সাথে ইউরিন মিশ্রিত হয়ে অ্যামোনিয়া উত্পন্ন হয় যা খুব ত্বকের জন্য কর্কশ হয়। শিশুকে নতুন খাবার দিলে মলের গঠন পরিবর্তিত হয় এবং মল ত্যাগের পরিমাণ বেড়ে যায় যার কারণে ডায়াপার র্যাশ হতে পারে।

এছাড়াও নবজাতক শিশুর আরো যে স্বাস্থ্য সমস্যা গুলো হতে পারে তা হল- বমি, ডায়রিয়া, জ্বর, পেটে গ্যাসের সমস্যা, কোষ্ঠ কাঠিন্য, কানের ইনফেকশন, ক্রেডল ক্যাপ, ব্রণ, নাভির গ্রেনুলোমা, নাভির হার্নিয়া, মুখে ও গলায় ইষ্ট ইনফেকশন, অবরুদ্ধ অশ্রু নালী ইত্যাদি।

শিশুর সাধারণ এই অসুস্থতাগুলোকে প্রতিরোধের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা হল-

  • দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং The Newborn Channel এর পেডিয়াট্রিক উপদেষ্টা Tanya Remer Altmann এর মতে, আপনার সন্তানকে স্বাস্থ্যবান রাখা এবং অসুস্থতা থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে আপনার হাত পরিষ্কার রাখা।
  • শিশুকে মুক্ত বায়ু সেবন করানো ভালো কিন্তু ভিড়ের মধ্যে নেয়া উচিত্ নয়। শিশুকে টীকা দেয়ার সময়ে মার্কেট বা পার্টিতে যেখানে ভিড় বেশী সেখানে না নেয়াই ভালো।
  • ঠান্ডার সময় শিশুর নাক পরিষ্কার রাখুন। এতে সে সঠিক ভাবে দম নিতে ও পান করতে পারবে। সাধারণ ঠান্ডায় কোন ঔষধ না দেয়াই ভালো।
  • যে শিশুরা মায়ের দুধ পান করে তাদের কানের ইনফেকশন কম হয়। শিশুকে ঘুমের সময় ফিডারে পান করালে কানে ইনফেকশন হতে পারে।

নবজাতক শিশুর সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় আপনার সহজাত মাতৃ প্রবৃত্তিকে কাজে লাগান। কারণ আপনি আপনার শিশুকে যেভাবে বুঝতে পারবেন অন্যরা সেভাবে বুঝতে পারবেনা। যখন মনে হবে সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে তখন দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুণ।

সূত্র: সাবেরা খাতুন,ফিচার রাইটার,প্রিয়ডটকম,ডেস্ক।

%d bloggers like this: