Home / প্রচ্ছদ / স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি উখিয়ার মোহন লালের

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি উখিয়ার মোহন লালের

Rafiq - Kutbazar14.12.2015 (news & 2pic) f1 (2)রফিক মাহামুদ; কোটবাজার :

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্যে নিজের জীবনকে বাঁজি রেখে টগবগে যে যুবক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আজ সে যুবক জীবনের শেষ সময়ে এসেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি ৮২ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন লাল বড়ুয়ার। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার পরেও মুক্তিযোদ্ধাদের হালনাগাদ তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তবে শেষ সময়ে হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মরতে চান এমননিই জানিয়েছেন উখিয়ার কুতুপালং বড়ুয়াপাড়া গ্রামের মৃত কালী কুমার বড়ুয়ার পুত্র মোহন লাল বড়ুয়া।

আলাপচারিতায় তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও দেশীয় দোসর আলবদরেরা এ দেশে গণহত্যা, লুটপাট, নির্যাতন শুরু করলে তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিঃমেন্টের নায়েক সুবেদার ও মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার নূর আহাম্মদের নেতৃত্বে কক্সবাজারের রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন স্থানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে নুর আহমদের নেতৃত্বে বিভিন্ন অস্ত্র প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর বিশ্ব মানচিত্রে নতুন ভাবে স্থান পায় স্বাধীন এ দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি অসহায় বয়োঃবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মোহন লালের। তাঁর এখন আকুতি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে যেন পরকালে যেতে পারেন তিনি।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং বড়ুয়াপাড়া এলাকার সকলে মোহন লালকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আখ্যায়িত করলেও নিজের নামটি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নেই। নানা দুশ্চিন্তায় স্মৃতিশক্তি অনেকটা লোপ পেলেও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনদের মায়া ত্যাগ করে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করলেও যুদ্ধকালীন সময় যাদের বয়স ৬/৭ বছর ছিলো, যাদের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল আজ তারাই তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।

এক পুত্র ও চার কন্যার জনক মোহন লাল বড়ুয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উখিয়া উপজেলা কমান্ডার পরিমল বড়ুয়া বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। নাইক্ষ্যংছড়ির জুমখোলা ক্যাম্প থেকে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্নভাবে রাজাকারদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত থাকলেও দেশের কোন সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেনি। একমাত্র দেশরত্ন ও জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাসহ তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য দেশব্যাপী এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। স্বীকৃতি বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা মোহন লাল বড়ুয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সারাদেশেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহপূর্বক সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের দাবী জানান।

উখিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও প্রকৃত রনাঙ্গণের সৈনিকরা স্বীকৃতি না পাওয়া খুবই দুঃখজনক ও কষ্টকর। অথচ দেশ স্বাধীনের পর থেকে অসংখ্য ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধা এমনকি তালিকাভূক্ত রাজাকার আলবদররাও মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে রাজাকার আলবদর বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীদের সহযোগী হিসেবে নির্মম ভূমিকা রেখেছিল তাদের অনেকে আজকে সমাজে নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। এসব দেখতে খুবই লজ্জা লাগে। প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা মোহন লাল বড়ুয়া যাতে অন্ততঃপক্ষে মৃত্যুর পূর্বে তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি পান সেটাই জাতীর কাছে আশা করছি।

Leave a Reply