Home / প্রচ্ছদ / হেভিওয়েট প্রার্থীদের ঘুম হারাম : সম্মেলন প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে জেলা আ’লীগ

হেভিওয়েট প্রার্থীদের ঘুম হারাম : সম্মেলন প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে জেলা আ’লীগ

A-Leegশহীদুল্লাহ কায়সার; কক্সভিউ :

সম্মেলন সফল করতে যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। চুড়ান্ত করা হয়েছে অতিথির তালিকা। সম্মেলনে যোগ দিতে ১ দিন আগে অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর। ফলে আর কোন সংশয় রইল না ৩১ জানুয়ারিই হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ’র সম্মেলন।

দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্মেলন। এ কারণে জেলা নেতারা বেশ তৎপর। যে কোনভাবে সম্মেলন সফল করা এখন তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। জেলা আওয়ামীলীগ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.কে আহমদ হোছাইন করছেন সবকিছুর তদারক। কেন্দ্রীয় নেতাদের বরণ করে নেয়া থেকে শুরু করে সবকিছুর ভার এখন তাঁর উপর। গত কয়েকদিন ধরে অতিথিদের জন্য আমন্ত্রণপত্র থেকে শুরু করে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট কার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, মঞ্চ নির্মাণ এমনকি কখন থেকে মাইকিং করণ হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত স্থানের কোন পরিবর্তন ঘটছে না। পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে এই অধিবেশনে।

এদিকে, সম্মেলনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা। বিশেষ করে গত কয়েকদিন ধরে ঘুম হারাম করে ফেলেছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। এখনো কাউন্সিলর তালিকা চুড়ান্ত না হলেও সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি এবং নজরুল ইসলাম চৌধুরী যাচ্ছেন নেতা-কর্মীদের দ্বারে দ্বারে। দুজনই সভাপতি প্রার্থী হিসেবে শুধু কুশল বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছেন না তাঁদের প্রচারণা। সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের কাছে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের কাছে চাইছেন তাঁদের পক্ষে সমর্থন। ২৭ জানুয়ারি নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রথমে যান দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায়। সেখানে কাউন্সিলর ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সেরে আসেন পেকুয়ায়। দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষ করে চলে আসেন চকরিয়ায়। বুধবার রাতে চকরিয়ার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি তাঁর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

অন্যদিকে সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি টেকনাফ এবং চকরিয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এসব বৈঠকে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হতে তাঁর পক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সমর্থন কামনা করেন। পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামীলীগ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামীলীগ’র সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপিকে কাছে পেয়ে কর্মীরা বেশ উচ্ছ্বাসিত। নেতাদের আগমনকে স্বাগত জানানোর সাথে যথেষ্ট সম্মানও প্রদর্শন করেছেন তাঁরা। উল্লিখিত দুই প্রবীণ নেতা ছাড়াও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জাফর আলম বুধবার টেকনাফে গিয়ে সেখানকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে সভাপতি পদে তাঁর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন। চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু’র ফেসবুক একাউন্ট থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এই তিন প্রার্থী ছাড়াও গত কয়েকদিন ধরে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামীলীগ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। বুধবার তিনি প্রথমে যান টেকনাপ উপজেলায়। সেখানে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা শেষ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি, প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মো.আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর উখিয়ায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে শেষে যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ শমসের আলম চৌধুরীর বাসায়। বুধবার রাতে মুঠোফোনে অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ব্যক্তি নয়, দক্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন। খারাপ মানুষের হাতে নেতৃত্ব গেলে ভোট ব্যাংক নষ্ট হবে। যা সংগঠনের জন্য হবে ক্ষতিকর। এই বিষয়টিই তিনি উখিয়া এবং টেকনাফের নেতা-কর্মীদের বুঝাতে চেয়েছেন। পাঁচজন সভাপতি প্রার্থী নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করলেও ব্যতিক্রম ছিলেন অ্যাডভোকেট একে আহমদ হোছাইন। গতকাল পর্যন্ত তাঁর পক্ষে সমর্থন চাইতে কোথাও যাননি তিনি। কেন এমন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সম্মেলন চাইছি না। এতোদিন পর্যন্ত কেন্দ্রকে এমন কথা বুঝানো হয়েছে। এখন সম্মেলনের সব দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হচ্ছে। এ কারণে কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় পাচ্ছি না।

%d bloggers like this: