শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

৩৫ বছরে ৮ বার সভাপতি শেখ হাসিনা

Shekh Hasina-

১৯৮১ থেকে ২০১৬ সাল, এই ৩৫ বছরে ৮ বার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি পুনরায় দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করার পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিবেশন শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করে এবং তা সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ সম্মেলনে তাকে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হন। এরপর ১৭ মে দেশে ফিরে দলের সভাপতির দায়িত্ব নেন তিনি। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও নেতা-কর্মীদের চাপে পদে থেকে যান। এরপর তার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা সেই ১৯৮১ সালের পর থেকে ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৬ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এর আগে গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার তো ৩৫ বছর হয়ে গেছে। আমাকে যদি রিটায়ার করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে আমি সব থেকে বেশি খুশি হব। কিন্তু সেদিনও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা সমস্বরে ‘না, না, না’বলে প্রতিবাদ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘আমি থাকব। দল ছেড়ে তো যাচ্ছি না। যদি নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়, তাহলে সব থেকে বেশি আনন্দিত হব।’

শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৩৫ বছরে আওয়ামী লীগের হাল ধরে শুধু দলকে ক্ষমতায় আসীন করেননি, তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেকে অনন্য হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে তিনি এমডিজি ও এসডিজি অর্জনে সফলতা, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা বিস্তার ও সন্ত্রাস দমন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। এই অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশকিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার-২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডেল-১৯৯৯, এমকে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ ছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’, সর্বশেষ ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সূত্র:risingbd.com,ডেস্ক।

 

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com