Home / কলাম / “বন্দীত্বের রোজনামচা “

“বন্দীত্বের রোজনামচা “

(ফেইসবুকের পাতা থেকে)


অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিম :

২২শে মার্চ হতে নিজেকে ঘরে বন্দী করে রেখেছি। পুরো পরিবার সমেত। যার অপর নাম “হোম কোয়ারেন্টাইন”। তবে বেশ কয়েকবার কোয়ারেন্টাইন এর শর্ত লংঘন করতে হয়েছে। জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার তাগিদে। যতবারই বাইরে বের হয়েছি, নিয়ম মেনেই বের হয়েছি। গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করে। আর মেনে চলি Social distance. আমার কারনে আপনজনেরা যেন কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বের হয়ে দেখেছি, বাইরে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভীড়। রাস্তায়, দোকানে, মার্কেটে, সবখানে। তবে বাজারে ভীড়, বেশ লক্ষনীয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেন এই ভীড়? সবখানে যেন নিয়ম না মানার অসুস্থ প্রতিযোগিতা! প্রহসনের সুরেই তাই কেউ একজন বলেছেন, এই “বাজার” করার কারণে বিলীন হবে একদিন বাঙালি জাতি। ঠাঁই হবে বাঙ্গালীর ইতিহাসের পাতায় কিংবা যাদুঘরের দেয়ালে।

অনেকের ধারনা, ১৬ কোটির মানুষের দেশে Social distance মেনে চলা অসম্ভব। কেন অসম্ভব? হংকং, সিঙ্গাপুর আরো বেশি ঘনবসতির দেশ। সেখানে সবাই শৃঙ্খলা মেনে চলে। আমরাও পারব নিশ্চয়। কথায় বলে- Where there is a will, there is a way.

প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের হার বাড়ছে দ্রুতবেগে। জ্যামিতিক হারে। এটা বর্তমানে রূপ নিচ্ছে Community Transmission এর দিকে। করোনার কেন্দ্রস্থল এখন আমেরিকা, স্পেন, ইতালি। যেকোন মুহূর্তে এটা দিক পরিবর্তন করতে পারে। অনেকটা ঘুর্ণিঝড়ের মত। আমরাও হতে পারি করোনার নতুন কেন্দ্রস্থল। (প্রার্থনা করি, এমন যেন না হয়।) তাই এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

করোনার কারনে জীবন আটকে গেছে, চার দেয়ালের কাব্যে। স্বেচ্ছাবন্দীত্বের এ প্রহর, কখন শেষ হবে, বলা মুশকিল। প্রতিদিন মর্নিং ওয়াকের অভ্যাস ছিল। সেটাও বন্ধ, করোনা ভীতির কারনে। বাড়ির ব্যলাকনি দিয়েই এখন আকাশ দেখি। এক চিলতে আকাশ। মুক্ত ঝকঝকে নীলাকাশ।

“মুঠোফোন” এখন নিত্যসঙ্গী, বেস্টফ্রেন্ড। প্রতিমুহূর্তে আপডেট দেখি। অনলাইনে ও সোশাল মিডিয়ায়। পরিচিত, অপরিচিত সবার খবরা-খবর দেখি। ইতিবাচক,নেতিবাচক সব খবর। ইতিবাচক খবরে সবার মত আনন্দিত হয়। আর নেতিবাচক খবরে মুচড়ে পড়ি।

খারাপ লাগে তাদের জন্য, যারা দিনে এনে দিনে খায়। যারা স্বচ্ছল, দরিদ্রদের জন্য তাদের কিছু করা উচিত। অন্তত এই পরিস্থিতিতে। তবে তা গোপনে, ফটোসেশন করে নয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, করোনায় মৃত্যুর হার কম, সুস্থ হওয়ার হার বেশি। কিন্তু আমরা হাঁটছি, ইতিহাসের উল্টো পথে। এখানে মৃত্যুর হার বড্ড বেশি। কেন এমন হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের এখনই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।

করোনায় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন, ডাক্তার নার্স। এযুদ্ধে তাঁরা আছেন, সম্মুখ সারিতে। পৃথিবীর দেশে দেশে তাঁরা পাচ্ছেন, বীরের মর্যাদা। সেই বীরযোদ্ধাদের অনেককেই কতিপয় অসৎ বাড়িওয়ালা বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিচ্ছেন। সংক্রমণের মিথ্যা অজুহাতে। এতে সহয়তা করছেন, এক শ্রেনীর হৃদয়হীন ভাড়াটিয়া, এলাকাবাসী। যা অমানবিক, নৈতিকতার পরিপন্থী। প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

হতাশার মাঝে রয়েছে, আশারও বাণী। পৃথিবীর সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আমরা বেড়ে উঠি। হাজারো রোগ জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে। এতে প্রাকৃতিক ভাবে শৈশবেই আমাদের শরীরে তৈরী হয় এন্টিবডি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা। ফলে সহসা করোনা ভারতীয় উপমহাদেশে সুবিধা করতে পারবে না। অনেক বিশেষজ্ঞগন একথা বলেছেন। সেটাই যেন সত্যি হয়।

সবার প্রতি রইল শুভকামনা।

 

লেখক: সিনিয়র আইনজীবী, সদস্য, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি।

About admin

Leave a Reply