Home / শরণার্থী সমাচার / করোনায় কাজ হারিয়ে দিশেহারা স্থানীয়রা : ক্যাম্পে বহিরাঞ্চলের লোকদের আধিপত্য

করোনায় কাজ হারিয়ে দিশেহারা স্থানীয়রা : ক্যাম্পে বহিরাঞ্চলের লোকদের আধিপত্য

ফাইল ফটো

হুমায়ুন কবির ঝুশান; উখিয়া :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিবির্চারে হত্যা ধর্ষণ এবং চরম নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল। তাদের কথায় উঠে আসে নিবির্চারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ।

প্রথমে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের মানবিক মানুষেরা তাদের পাশে দাঁড়ায়। সারা বাংলাদেশের মানুষগুলো সেই সময় সহানুভুতি দেখিয়েছে। পরে পুরো বিশ্ব তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। প্রথম যে মানবিক স্থানীয় মানুষগুলো তাদের পাশে থেকে অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তারা চাকরির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন এনজিওতে বড় বড় পদে কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম বিভাগের বাহিরের লোকজন দখলে নেন। রোহিঙ্গাদের কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পে যারা কাজ করেন তাদের বেতন প্রবাসীদের চেয়েও বেশি। তাইতো উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পের চাকরি করতে এসে মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যে চাকরিতে এসেছেন। যাদের কাজে ১০ পনেরো হাজার টাকার নয় তারাও এখানে ৫০ ষাট হাজার টাকায় এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে ৭০ আশি হাজার টাকা ইনকাম করছেন। এত বেতন দেশের কোথাও খোঁজে পাওয়া যাবে না। তাইতো দেশের ৬৪টি জেলার মানুষ এখানে ক্যাম্পে চাকরি করতে এসেছেন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি স্থানীয়দের সীমাহীন বিপাকে ফেলেছে। করোনার কথা বলে বিভিন্ন এনজিওর কর্তারা চাকুরি থেকে স্থানীয়দের ছাটাই করে। তিন মাস লকডাউনের পর উখিয়া-টেকনাফে করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতে থাকে।

এনজিওতে কর্মরত ভিন জেলার উচ্চ পদস্থ কর্তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের আবার নিয়ে এসে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিচ্ছেন কোন প্রকার নিয়ম নীতি ছাড়াই এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় জান্নাত আরা বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অত্যন্ত সততার সাথে ক্যাম্পে কাজ করে আসছি। হঠাৎ করোনার অজুহাতে আমাকে চাকরি হারা করা হয়। এখন আমার পদে অফিসাররা তাদের আত্মীয় দিনাজপুর থেকে এনে চাকরি দিয়েছেন। কোন প্রকার ইন্টাভিউ ছাড়া। ক্যাম্পে স্থানীয়দের ছাটাই করে নতুন করে কর্তা ব্যক্তিদের আত্মীয়করণের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে।

পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয় এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যেও হুমকিস্বরুপ। এত কিছুর পর স্থানীয়দের চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু থেকেই। যা মুটেও কাম্য নয়। করোনার কারণে এমনিতেই মানুষ দিশেহারা তারওপর হঠাৎ বেকার হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। শুধু ক্যাম্পে নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে করোনার মহামারিতে চাকরিহারা হয়ে উখিয়ায় ফিরেছেন অনেকেই। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবিকা নিরবাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

মানবতার সেবায় নিয়োজিত এনজিওদের অনেকেই নানান দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছেন।রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলমান ও বাস্তবায়িত সব প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে বাঁশ ক্রয়-বিক্রয়ে পর্যন্ত রয়েছে সীমাহিন অনিয়ম।

About admin

Leave a Reply