অপূর্ণতা

-: জান্নাতুন নাঈম প্রিয়তা :-

তুমি কথা দিয়েছিলে
ভরা পূর্ণিমায় আমার হাত ধরে সমুদ্র বিলাস করবে।
আর বাতাসে ভেসে বেড়াবে আমাদের শব্দেরা।
ভেজা বালিতে পায়ের ছাপ রেখে দু’জন হেটে যাব চাঁদের আলোয়।

তুমি কথা দিয়েছিলে
আমায় নিয়ে মাঝে মাঝে দূরে কোথাও হারিয়ে যাবে।
নিরব নির্জন অচেনা কোনো শহর কিংবা গ্রামে।
যেখানে থাকবে না কাজের চাপ কিংবা অফিসে যাওয়ার তাড়া।
ভোরে উঠে রান্নার হাড়ি নিয়ে না দৌড়িয়ে সূর্যোদয় দেখব একসাথে।
দুপুরের একা একা আমার সেই একগেয়ি সময়টাও হয়ে উঠবে প্রাণবন্তময় তোমার নানা গল্পে।
আর সন্ধ্যে হলেই আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়ে বাদাম চিবুতে চিবুতে তুমি বেসুরা গলায় গাইবে।

তুমি বলেছিলে আমায় নিয়ে যাবে কোনো এক উঁচু পাহাড়ের চূঁড়ায়।
চাদর মুড়িয়ে বসে গল্প করবে ভাসতে থাকা মেঘেদের সাথে।
আর প্রতিধ্বনিতে ভেসে বেড়াবে আমাদের ভালোবাসা।
তুমি বলেছিলে অত উঁচুতে গেলেই নাকি আমি আরো গভীরভাবে তোমার ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারব।
প্রেমে পড়লে পুরুষেরা যে দার্শনিক হয়ে উঠে তা তোমায় দেখলেই টের পাওয়া যায়।

তুমি বলেছিলে আমায় নিয়ে তুমি একদিন নৌকায় সংসার করবে।
জেলেদের মত এক যাযাবর সংসার।
তেলের চুলায় রান্না করে, কলাপাতায় খাবার খাবে।

আর চারিদিকের অদ্ভুত শব্দে আমরা ভুলে যাব শহরের কোলাহল, ভুলে যাব সব দ্বন্ধ।
নৌকায় ভেসে ভেসে খোলা আকাশের তারা গুনতে গুনতেই ঘুমিয়ে পড়ব দু’জন।

আমার অসুখটা ধরা পড়ার ক’দিন আগেও তুমি বলেছিলে,
শাহাজাহানের তাজমহল আর চীনের মহাপ্রাচীর নয় শুধু
আমায় নিয়ে তুমি পুরো পৃথিবীটা দেখবে।
আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে যাওয়ার সময় তুমি শক্ত করে আমার হাত ধরে রাখবে তোমার বুকের মাঝে।

হঠাৎ করেই সব অন্ধকার করে দিয়ে গেলো আমার এই বাজে অসুখটা।
আমার‍ যে সুন্দর চুলগুলো তোমার হাতের স্পর্শে ঝলমল করত,
একটা দুটো করে ঝরে পড়ছে সব।

যে চোখের দিকে তাকিয়ে তুমি প্রেম নিবেদন করেছিলে
ঘন কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে সেই চোখ জোড়াও।
যে ঘরটা একসময় মুখরিত ছিলো আমাদের অট্টহাসিতে
সেই ঘরটা আজ একজন রোগীর ঘর।

তুমিও আজকাল আর আগের মত দেরি করে ঘরে ফেরো না।
হয়ত সময় নিয়ে অভিযোগের পাল্লাটা ভারী বলেই সেদিকে একটু নজর দিয়েছ।
এই সময় নিয়েই কত ঝগড়া কত রাগ, অভিমান করেছি তোমার সাথে।
আর আজ দেখো এই সময়-ই তোমায় ছুটি দিল আমার সমস্ত অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে।

About admin

Leave a Reply