Home / পুষ্টি ও স্বাস্থ্য / থাইরয়েড সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়

থাইরয়েড সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়

থাইরয়েড গ্ল্যান্ড হলো একটি অন্তক্ষরা গ্রন্থি। যেটা থেকেই নিঃসৃত হয় থাইরয়েড হরমোন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা হরমোন। কারণ এটি থেকে শরীরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন হয়। এই গ্ল্যান্ড দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। যেটি গলার একটি অংশে অবস্থিত। এই থাইরয়েডের ক্ষরণ কিন্তু একটা সঠিক পরিমাণে হয়। মানে শরীরের যতটুকু দরকার ততটুকু। কিন্তু শরীরের এই প্রয়োজনের থেকে যখন বেশি বা কম ক্ষরণ হয়, তখনই সমস্যা হয়।

এটি একদিনেই হয় না। ধীরে ধীরে হয়। তাই সমস্যাও ধীরে ধীরে দেখা যায়। এটি যেহেতু শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে, তাই শরীরের ভেতরে ক্ষতিও ধীরে ধীরে হয়। যেহেতু এটা খুব ধীরে হয়, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী বুঝতেই পারেন না তাদের এই সমস্যার কথা।

থাইরয়েড গ্রন্থি যা আমাদের গলার সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন আমাদের বিপাকসহ আরো বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন তৈরির জন্য এই গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয় পরিমাণে আয়োডিনের দরকার হয়। উক্ত হরমোন আমাদের বিপাক ক্রিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের শরীরে যতটুকু হরমোন প্রয়োজন তার চেয়ে কম কিংবা বেশি পরিমাণে এই হরমোন তৈরি হলে তখন নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে এই হরমোন তৈরি হলে হাইপোথাইরয়ডিজম হতে পারে। আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে এই হরমোন উৎপন্ন হলে হাইপারথাইরয়ডিজম হতে পারে। উভয়ই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

মানুষের শারীরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা বর্তমানে একটি অতি পরিচিত একটি রোগ। থাইরয়েড গ্রন্থি অবস্থিত আমাদের গলার মধ্যে। এই গ্রন্থি থেকে বেরিয়ে আসা হরমোন মানুষের শরীরের নানান কাজ করে। থাইরয়েড গ্রন্থি যখন ফুলে যায় তখন গলগন্ড রোগের সৃষ্টি হয়।

থাইরয়েড হরমোন বলতে ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এবং থাইরক্সিনকে বুঝায়। এরা টাইরোসিন ভিত্তিক হরমোন যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। আংশিকভাবে আয়োডিন দ্বারা তৈরি আয়োডিনের অভাবে হরমোনের উৎপাদন কমে যায় এবং থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলগণ্ড রোগ সৃষ্টি করে। রক্তে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বৃদ্ধি পেলে হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরোটক্সিকোসিস হয়।

থাইরয়েড হওয়ার কারণ : ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এবং থাইরক্সিন গ্রন্থি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় ঠিকভাবে তৈরি না হলে কিংবা প্রয়োজনমত হরমোন তৈরি করতে না পারলে বাচ্চাদের শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে যে বিশেষ কারণে সেটি হল আয়োডিনের অভাব। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন না গেলে এই রোগের সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। লবণ শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হলেও এটি থাইরয়েড সমস্যার মোকাবিলা করতে সক্ষম যেহেতু এরমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন রয়েছে।

থাইরয়েড রোগের লক্ষণগুলো : থাইরয়েড রোগের সর্বপ্রথম লক্ষণ হলো ঘুম ঘুম ভাব আর সেই সাথে অলসতা। ত্বকের কোমলতা কমে গিয়ে খসখসে হয়ে যাওয়া। পায়ের অংশ কিছুটা ফুলে যাওয়া। খাবারে রুচি চলে যাওয়া। তুলনামূলকভাবে চুল পড়তে শুরু করা। হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়ে মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা শুরু হওয়া। ব্লাড প্রেসার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা। শীত শীত ভাব অনুভূত হওয়া। পিরিয়ডের সমস্যা হওয়া। হার্টের সমস্যা এবং হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হওয়া।

থাইরয়েড থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় : যেহেতু থাইরয়েড রোগীদের অভাবজনিত কারণে হয়ে থাকে সেই জন্য আয়োডিনযুক্ত খাবারগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে আপনাকে খেতে হবে। যেমন গাজর দুধ সামুদ্রিক মাছ শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল গুলিতেও প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে।

থাইরয়েডকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রোটিনের মাত্রা খুব বেশি থাকা দরকার সেই জন্য আপনার পাতে নিয়মিত মুরগির মাংস ডিম পনির ইত্যাদি খেলে থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

উচ্চ মানের টাইরোসিন আমিষযুক্ত খাবার খান। টাইরোসিন দরকার হয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে। এটি পেতে খেতে হবে লাল মাংস, মাছ, মুরগির ডিম ও মাংস, কলা ও মিষ্টি কুমড়ার বিচি।

গয়ট্রোজেনাস খাবার যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, চিনাবাদাম, সয়াসস, ইত্যাদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। রান্না করে খাবেন, কাঁচা খাবেন না। থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে এসব খাবার খাওয়া উচিত নয়।

গ্লুটেন প্রোটিনযুক্ত খাবার খাবেন, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ঠিক রাখে। এইজন্য গম, শস্যদানা, যব, বার্লি খেতে হবে।

থাইরয়েড ঠিক রাখার জন্য লিভারের সুস্থতা দরকার। লিভারের সুস্থতার জন্য ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খেতে হবে। বিভিন্ন তেলযুক্ত মাছ, কাঁচা বাদাম, অলিভ অয়েল-এ এটা পাওয়া যাবে। আয়োডিনযুক্ত লবণ খাবেন।

কীটনাশক ও হেভিমেটাল যেমন মারকারি, ক্যাডমিয়াম, দস্তা ব্যবহারে সতর্ক হবেন।

থাইরয়েড সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে আপনার ঘুমের খুবই প্রয়োজন সেই জন্য রাত জেগে যারা থাকে তাদের এই সমস্যা বেড়ে যাওয়ার বেশি আশঙ্কা দেখা যায়। তবে যাদের রাতে কাজ থাকে তারা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি মেটাতে পারে।

আরো পড়ুন- ওজন বাড়াতে শরীরচর্চার গুরুত্ব জানা আছে কি?

থাইরয়েডের সমস্যা হলে আমরা বিভিন্নভাবে চিন্তায় পড়ি কিন্তু এই সময় নিজেকে শরীরচর্চা থেকে বিরত রাখলে হবে না। নিয়মিত সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার কাটা উচিত।

থাইরয়েডের চিকিৎসা : উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা গেলে সম্ভবত এই রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা করানোর জন্য প্রথমেই আপনাকে থাইরয়েডের সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ব্লাড টেস্ট করাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো আপনাকে সেই সকল ওষুধ সেবন করতে হবে, বাইরে থেকে কোনরকম ওষুধ সেবন করা চলবে না। সুস্থ থাকতে বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থা চেক করতে পারেন।

 

সূত্র: deshebideshe.com – ডেস্ক।

About admin

Leave a Reply