Home / রূপ লাবণ্য / সাজগোজ / ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভের সহজ উপায়

ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভের সহজ উপায়

মুখের পশম শরীরের অন্যান্য অংশে পশম হওয়ার মতই স্বাভাবিক। তবে অনেকেরই পশম স্বাভাবিকের চেয়ে তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে বা পশমের গ্রোথ অনেক ফাস্ট হয়। বাসার যত কাছেই পার্লার হোক না কেনও দুই দিন পর পর সময় ম্যানেজ করে আমাদের যাওয়া হয়ে উঠে না। তাছাড়া আমাদের অনেকের ফেইসের স্কিন সেনসিটিভ। স্কিনের চামড়া যাদের তুলনামূলক পাতলা বা যাদের সেনসিটিভ স্কিন, তাদের জন্যে ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভ করতে গেলে থাকতে হয় একটু বেশি সচেতন। তা না হলে স্কিনে ইচিং, জ্বালা-পোড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেমন হয় যদি বাড়িতে আপনার নিজের কাছেই থাকে এর ইন্সট্যান্ট সমাধান? চলুন আজকে আমরা জেনে নিই ঘরে বসেই ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভের সহজ উপায়টি!

মুখের অবাঞ্ছিত লোম তুলতে ফেসিয়াল হেয়ার রেজর কেন ব্যবহার করবো?

আমরা অনেকেই রেগুলার ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভ করলেও জানি না যে, ফেসিয়াল রেজরের ব্যবহার আমাদের জীবনকে কত সহজ করে দিতে পারে! যেমন-

১. কোনো রকম ইচিং ছাড়াই ঝটপট সমাধান
ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভার রেজরগুলো বিশেষ করে আমাদের ফেইস ও নাজুক ত্বককে টার্গেট করে তৈরি করা হয়। তাই এটি স্কিনকে একদমই রাফ করে না। কাজ করে খুব দ্রুত এবং স্মুথলি। ব্যবহার করার পর স্কিনে কোন খসখসে ভাব অনুভব হয় না। জাস্ট ব্যবহারের পর স্কিন টাইপ অনুযায়ী একটা ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিলেই যথেষ্ট।

আপারলিপ এবং আইব্রো হেয়ার রিমুভ

২. একই সাথে করা যাবে আপারলিপ এবং আইব্রো হেয়ার রিমুভ
সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আপারলিপ এবং আইব্রো প্লাক করার ট্রেন্ড কিন্তু বহুকাল ধরেই। যারা রেগুলার আপারলিপ এবং আইব্রো প্লাক করে থাকেন, প্রতিনিয়ত তা ঠিকমত মেইনটেইন করা না হলে কিন্তু দেখতে খুবই বাজে লাগে। একই রেজর দিয়েই যখন প্রয়োজন নিজেই ঘরে বসে করে নিতে পারেন এই ছোট খাটো কাজগুলো।

৩. পেয়ে যাবেন খুবই রিজনেবল প্রাইসে
মার্কেটে এখন অনেক ধরণের ফেসিয়াল রেজর পাওয়া যায়। এদের প্রাইজ রেঞ্জও খুবই রিজনেবল। যে কেউই খুব সহজেই কিনতে পারবে, সিঙ্গেল বা সেট দুই ভাবেই পেয়ে যাবেন। অনেক ব্র্যান্ডের মধ্যে আপনার স্কিন বুঝে পছন্দ অনুযায়ী বাছাই করে কিনে নিতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

ফেসিয়াল হেয়ার রেজর

৪. একাধিকভাবে ব্যবহার উপযোগী
একটি রেজর অনায়াসে ৪ থেকে ৫ বার ব্যবহার করতে পারবেন। আর যদি একটি সেট কিনে ফেলেন তাহলে কয়েক মাসের জন্যে একদম নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। মার্কেটে এই প্রোডাক্টটি এখন খুবই জনপ্রিয়। বাসায় বসে রূপচর্চায় এটি একটি মাস্ট হ্যাভ আইটেম।
ফেসিয়াল হেয়ার রেজর ব্যবহারে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে

ফেসিয়াল হেয়ার রেজর ব্যবহার করা খুবই সহজ। কিন্তু তারপরও কিছু ট্রিকস জেনে নেয়া থাকলে ব্যবহার আরও ইফেক্টিভ হবে। দেখে নিন সেগুলো-

হেয়ার রিমুভের সময় কোনো রকম তাড়াহুড়া করা যাবে না। আস্তে আস্তে এক সাইড থেকে সাবধানে ইউজ করতে হবে।

ফেইস একদম শুষ্ক থাকলে, তাতে হালকা একটু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিতে হবে। এতে ব্যবহারের সময় স্কিন অনেকটাই স্মুথ থাকবে।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি গোসলের পর পর ফেসিয়াল হেয়ার রেজর ব্যবহার করা হয়, তখন স্কিন তুলনামূলকভাবে নরম থাকে।

ময়েশ্চারাইজার

রেজর ব্যবহার করার পর অবশ্যই আবারও একটি ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ত্বকে লাগিয়ে নিতে হবে।

অবশ্যই ব্যবহার করার আগে ও পরে অ্যালকোহল জাতীয় কিছু দিয়ে প্রোডাক্টটিকে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

প্রোডাক্টটি যেই ক্যাপ দিয়ে ঢাকা থাকে, চেষ্টা করবেন ব্যবহারের পরে ক্লিন করে ক্যাপ দিয়ে আবার ঢেকে রাখতে। এতে বাতাস প্রোডাক্টের গায়ে লাগবে না, তা না হলে মরিচা পরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একটা নির্দিষ্ট বয়স পরে ত্বকের নিয়মিত যত্ন নেয়া আমাদের জন্যে অনিবার্য হয়ে পরে। হাত-পা বা চুলের যত্নে জন্যে সপ্তাহ বা মাসে দুই একবার পার্লারে যাওয়াই যায়। তবে, ফেসিয়াল হেয়ারের গ্রোথ অন্যান্য জায়গার পশমের চেয়ে একটু বেশি হয়ে থাকে এবং ফেইসে ভিসিবলও হয় বেশি। কিন্তু পাঁচ ছয় দিন পর পর এর জন্যে পার্লারে যাওয়াটা কিন্তু অনেকের জন্যেই বিরক্তিকর এবং সময় সাপেক্ষ, চিন্তার কোন কারণ নেই। কোনো রকম টেনশন ছাড়াই ব্যবহার করে দেখতে পারেন এই ফেসিয়াল হেয়ার রেজর। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য হেল্পফুল ছিল। ভালো থাকবেন।

 

সূত্র: shajgoj.com – ডেস্ক।

About admin

Leave a Reply