Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / নির্বাচন সংক্রান্ত / উখিয়া-টেকনাফের ভাগ্যবান আসনের প্রার্থীতা নিয়ে জনতার উৎসুক

উখিয়া-টেকনাফের ভাগ্যবান আসনের প্রার্থীতা নিয়ে জনতার উৎসুক

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। তবে নিরব রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী। এখানকার রাজনীতি, অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, মানব পাচার, ইয়াবা, বাণিজ্য, টেন্ডার, হাটবাজার ইজারা নেওয়াসহ সবকিছুই এতদিন কারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তা হিসাব করে দেখছেন। দলীয় সভা-সমাবেশে মরণ নেশা ইয়াবার বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অনেক নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ক্রমেই বেড়ে চলছে ইয়াবার কারণে। এখন তৃণমূল পর্যন্ত অনেক নেতা-কর্মীই ক্ষমতার সুফল হিসেবে চাওয়া-পাওয়ার অঙ্ক কষছেন।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির চৌধুরী বলেন, এখানে বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদি ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এমপি বদি এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান দখল করে আছে। তার আমলে উখিয়া-টেকনাফে স্কুল কলেজ সরকারি করণসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো, রাস্তা কার্পেটিং, উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক ২ টি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন, থানার জন্যে ২টি গাড়ি, বেড়িবাঁধ, জেটি, মন্দির কেয়াং এবং রাবার ড্যাম প্রকল্পসহ গত ৭ বছরে উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকায় সহস্রাধিক কোটি টাকার চেয়ে বেশী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাগ্যবান ও মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার ৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনটিতে নানা প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে প্রধান দুই দলে পুরোদমে চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নানা তৎপরতা। পরস্পরকে ঘায়েল করতে কোনো কোনো সময় কাদা ছোড়াছুড়িতেও লিপ্ত হচ্ছেন তারা।

এদিকে নিবিড়ভাবে মাঠ পর্যবেক্ষণ করছে দলগুলোর হাইকমান্ড। কৌশলগত কারণে এ মুহুর্তে কোনো দলই প্রার্থীতার ব্যাপারে ন্যূনতম ধারণা না দিলেও এখানকার ভোটাররা ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী মনোনয়ন করে রেখেছেন। শাসকদলের লক্ষ্য ভাগ্যবান এই আসনটি ধরে রাখা। বিএনপি চায়, এক সময় বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত এই মর্যাদার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। তবে নির্বাচনের জয় নিশ্চিত করতে বিএনপির ভরসা রাখছে সাবেক সাংসদ ও হুইফ হেভিওয়েট প্রার্থী শাহ জাহান চৌধুরীর ওপর। আর প্রার্থীর চেয়ে প্রতীককেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে আগামী নির্বাচনে এই আসনে দুই দলের জন্য রয়েছে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ। বিজয় নিশ্চিত করতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হবে দল দুইটিকে। এর জন্য আওয়ামী লীগের জন্যে প্রধান সমস্যা ইয়াবার দুর্নাম, দলীয় কোন্দল ও হেফাজত ইসলামের ভোটারদের ভোটগুলো। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের নামে ইসলামী মূল্যবোধ ও মর্যাদা রক্ষার ইস্যু নিয়ে আড়ালে ঐক্য তৈরি হয়েছে যুব ও তরুণ বয়সী নতুন ভোটারদের মধ্যে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাসক দলের সমালোচনায় তৎপর।

অন্যদিকে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, উখিয়া-টেকনাফের আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী। তবে ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএনপির শাহ জাহান চৌধুরী যদি জামায়াতকে হাতে রেখে কাজ করতে পারেন তাহলে জয়ের পাল­া তারই ভারি হবে বলে এখানকার ভোটাররা মনে করেন। এ আসনে এমপি বদির বিকল্প হিসেবে দলীয় প্রার্থীতার দৌড়ে যারা আলোচিত তারা হলেন, সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, কক্সবাজার জেলা আওয়মী লীগের সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক টিমের প্রধান শাহ আলম চৌধুরী রাজা, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, টেকনাফের শিল্পপতি মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সাংবাদিক তোফাইল আহমদ, জাতীয় পার্টি থেকে অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভূট্রো ইতোমধ্যেই গ্রিণ সিগন্যাল পেয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তা ছাড়া বিএনপি থেকে একক প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই শাহ জাহান চৌধুরী মাঠ ধরে রেখেছেন। কক্সবাজার-৪ আসন দেশবাসীর কাছে ভাগ্যবান ও মর্যাদার আসন হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। কারণ অনেকেরই বিশ্বাস এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সে দলই সরকার গঠন করে। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বর্তমান কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। তখন সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। স্বাধীনতা-পরবর্তী নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক টিমের প্রধান শাহ আলম চৌধুরী রাজা বলেন, দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অভ্যাহত রাখতে আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। নিজে প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে রাজা বলেন, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশেই সবকিছু হবে। নেত্রী যদি নির্বাচন করতে বলেন, আমার আপত্তি নেই। মনোনয়ন যাকেই দেয়া হোক, আমাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হল বিজয়।

সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, মনোনয়ন বোর্ড দলের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের কথা বিবেচনা করে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা। পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজল কাদের ভুট্রো ও এমপি আব্দুর রহমান বদির অনুসারী হিসেবে পরিচিত কুতুপালংয়ের বকতিয়ার আহমদ মেম্বারসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দাবি করেন, এ ভাগ্যবান আসনে বিজয়ী হতে হলে বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদির বিকল্প নেই।

টেকনাফের শিল্পপতি মোহাম্মদ ইয়াহিয়া জাতীয় পার্টি থেকে ও সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয় প্রত্যাশা করেন।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ। দলীয় প্রার্থী হিসেবে নেতা-কর্মীদের পছন্দের পরীক্ষিত ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের একক প্রার্থী সাবেক সাংসদ ও হুইপ শাহ জাহান চৌধুরীকে বিজয়ী করতে সবাই মাঠে নামবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: