Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / অপরাধ, আইন-আদালত / এবার ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ল স্ত্রীসহ এক পুলিশ সদস্য

এবার ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ল স্ত্রীসহ এক পুলিশ সদস্য

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :

মিয়ানমারের উৎপাদিত মরণ নেশা ইয়াবার আগ্রাসন থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। প্রতিদিন বাড়ছে ইয়াবা পাচারকারীদের সংখ্যা। সরকার এই ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ করতে যত কঠোর হচ্ছে ততই এই পাচার কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে এই ইয়াবা পাচার ঠেকাতে সরকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নাম উল্লেখ করে বেশ কয়েকটি তালিকা তৈরী করেছে এবং তালিকা অনুযায়ী সক্রিয়ভাবে জড়িত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওয়াতাই নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন কৌশল হাতে নিয়েছে। সেই ভূমিকা বাস্তবায়ন করতে যে সমস্ত প্রশাসনের সদস্যরা দিনের পর দিন সঠিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ ইয়াবাসহ পাচারকারীদের আটক করতে সক্ষম হচ্ছে। সেই সমস্ত সদস্যদের দুর্নাম বয়ে আনছে কিছু অসাধু এবং অর্থ লোভি পুলিশ সদস্যরা। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগষ্ট সোমবার রাত ১১ টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবি হোয়াইক্যং বিওপির সদস্যদের হাতে ৮ হাজার ইয়াবাসহ ধরা পড়ে চকরিয়া থানায় কর্মরত মো. এরশাদ আলম নামে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রী। এই ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মাদক আইনের একটি মামলা রুজু করে।

এ ব্যাপারে ২ বিজিবি হোয়াইক্যং বিওপির হাবিলদার হায়দর আলী শেখ জানান, গত সোমবার রাতে কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহি একটি মাইক্রো বাসে তল্লাশি করে ৮ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীসহ দুই জন ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। এর পর তাদের শিকারোক্ততে জানা যায় আটককৃ এরশাদ আলমের বাড়ি কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার পীর যাত্রাপুর এলাকায় তার পিতার নাম মৃত আলী আজম। আটককৃত মহিলাটি তার স্ত্রী। সে কক্সবাজার পিএমখালী ছনখোলা এলাকার আব্দুল হামিদের মেয়ে।

এদিকে টেকনাফের সুশীল সমাজের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারের ইয়াবার আগ্রাসনে বাংলাদেশের যুব সমাজ ও ছাত্র সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। অথচ চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারীরা দিনের পর দিন তাদের এই অপকর্ম অব্যাহত রাখার জন্য ব্যবহার করে যাচ্ছে ইয়াবা পাচারের নিত্য নতুন কৌশল। আর পাচারকারীদের এই অবৈধ ব্যবসা ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। অথচ সেই সদস্যদের মাথার উপর বদনাম বয়ে আনছে বেশ কয়েকজন অসাধু অর্থ লোভী পুলিশ সদস্যরা। কথায় আছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সুনাম নষ্ট করার জন্য একজন পুলিশ সদস্যই যথেষ্ট। তাই আমাদের দাবি, এই ইয়াবা পাচার কঠোর ভাবে প্রতিরোধ করতে হলে যে সমস্ত প্রশানিক সদস্যরা এই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওয়াতাই নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে মাদকের করাল গ্রাস থেকে এই দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করা যাবেনা।

এদিকে চকোরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, মো. এরশাদ আলম ৭/৮ মাস ধরে চকরিয়া থানায় পুলিশ সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তবে গত ৩ দিন ধরে সে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। বিষয়টি তিনি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবগত করেছেন বলেও জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: