Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / শরণার্থী সমাচার / টেকনাফ সীমান্তে নৌকা ডুবির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের আরো ১৫টি লাশ উদ্ধার

টেকনাফ সীমান্তে নৌকা ডুবির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের আরো ১৫টি লাশ উদ্ধার

গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :

টেকনাফ সীমান্ত উপকূল জুড়ে চলছে অসহায় রোহিঙ্গাদের লাশের মিছিল। গত ২৫ আগস্ট সহিংস ঘটনার সূত্র ধরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। অপরদিকে আদম বাণিজ্যকারী দালালদের ভুলের কারণে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার সময় এপর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। উক্ত রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার ডুবিতে এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রলার ডুবির দুর্ঘটনা থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গারা। তার পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় টেকনাফের নাফনদী ও সাগর উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৭০টি লাশ।

সে ধারাবাহিকতা নিয়ে ৮ অক্টোবর শাহপরীরদ্বীপ ঘোলচরে রাত ১০ আরও একটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। সে ঘটনায় সাগরে তলিয়ে যায় ৫০ জনের মত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুরা। ৯ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার রাত ১০ টা হতে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সময়ে এসব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে রাতে সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকায় ১ জন, টেকনাফ সদরের হাবির ছড়ায় ৪ জন, লম্বরী এলাকায় ৪ জন, বাহারছড়া পয়েন্টে ৩ জন ও সেন্টমার্টিনে ৩ জন রোহিঙ্গা শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে গত দুদিনে এ পর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯ জনে।

জানা যায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শাহপরীরদ্বীপরে ঘোলা পাড়া উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে সোমবার রাত ৯ টা পর্যন্ত শাহপরীরদ্বীপের দুটি পয়েন্টে ১৩ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর হতে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

জীবিত উদ্ধার হওয়া সৈয়দ হোসেন বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কারণে তারা ৬০ জনের রোহিঙ্গা শিশু নারী পুরুষ নৌকা নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছিল। নাফ নদীর ঘোটার চলে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। বিজিবি ও কোস্ট গার্ড টহল দল এই সময় ১৮ জনকে রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে। পরে সাগরে বিজিবি ও কোস্টগার্ড তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো: মাইন উদ্দিন খান জানান, শাহপরীরদ্বীপ, সেন্টমার্টিন, সাবরাং ও টেকনাফ সদর পয়েন্ট হতে গত দুদিনে ২৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু। বেওয়ারিশ হিসেবে মৃত রোহিঙ্গাদের স্ব স্ব পয়েন্টে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: