Home / প্রচ্ছদ / দেশীয় গরুর প্রতি ঝুকঁছে ক্রেতারা : দাম নিয়ে বিপাকে : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর ঈদগাঁওর কোরবানীর পশুর হাট

দেশীয় গরুর প্রতি ঝুকঁছে ক্রেতারা : দাম নিয়ে বিপাকে : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর ঈদগাঁওর কোরবানীর পশুর হাট

 

এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ব্যাপক পরিসরে জেলা সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওর কোরবানীর পশুর হাটে দেশীয় গরু-মহিষের ভরপুর হয়ে উঠেছে। বলতে গেলে কানায় কানায় পরিপূর্ণ, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে পরিণত। জাল টাকা রোধে চারটি ব্যাংক কর্তৃক সনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। তবে দূর দুরান্তের কিংবা স্থানীয় ক্রেতারা এসব কোরবানীর পশুর দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছে। কেউ এখন থেকে গরু-মহিষ কিনলেও অনেকে দরদাম যাচাই বাছাই করতে বাজারে এসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়দের মাঝে জাল টাকা আতংকে বিরাজ করছে।

ঈদগাঁও বাজারের ঐতিহ্যবাহী বিশাল কোরবানীর পশুর হাটে বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা সাত ইউনিয়ন- ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, পোকখালী, জালালাবাদ, চৌফলদন্ডী, ভারুয়াখালী ও ঈদগাঁওর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রামুর রশিদ নগর, ঈদগড়, চকরিয়ার খুটাখালী সহ তারই দুরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পালিত পশু গরু-মহিষ এ বাজারে বিক্রি করতে আনতে দেখা যায়। এবারের কোরবানীর পশুর হাটে সে তুলনায় ভীনদেশীয় পশুর দেখা মিলেনি। ঈদগাঁও বাস স্টেশনের পশুর হাট পরিদর্শনকালে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের  দু-পাশে কোরবানীর পশু গরু-মহিষের ভিড়ে লক্ষনীয়। সেই সাথে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি যেন চোখে পড়ার মত। অন্যদিকে মহাসড়কের উপর গরুর হাট বসার কারণে দুরপাল্লার যানবাহন সহ স্থানীয় ছোট বড় গাড়ী চলাচল করতে গিয়ে চালকরা নানা ভাবে বেকায়দায় পড়েছে। তবে কয়েক চালকের মতে, মহা সড়কের উপর থেকে গরু বাজার সরানোর দাবী তুলেন। প্রতি বছরের আলোকে এবছরও ঈদগাঁও বাসস্টেশনের কেজি স্কুল গেইট থেকে শুরু করে কলেজ গেইট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার  সড়কের দু-পাশ জুড়েই গরু বাজার জমজমাট।

অপরদিকে দুয়েকজন কোরবানী পশু ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা শেষ মুহুর্তে পশু কিনতে আগ্রহী বলে জানান। আবার এবাজারে বড় বড় গরুর মালিকরা তিনগুণ দাম দিয়ে বসে থাকে, যেন ক্রেতা কাছে ভিড়তেও পারছেনা। অনেকে দেশীয় মাঝারি ও ছোট আকারের সুন্দর গরু-মহিষের প্রতি ঝুঁকতেও  দেখা যায়।

এদিকে বিশাল কোরবানী পশু বাজার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকজন পুরো বাজার এলাকায় পরিদর্শক নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি পকেটমার, ছিনতাইকারী, ঝাপটাবাজ ও জালনোট চক্রের কবল থেকে ক্রেতা বিক্রেতাদের রক্ষার লক্ষে সার্বক্ষণিক মাইকিংয়ের পাশাপাশি পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে।

অপরদিকে দ্বিতীয় বৃহৎ এ উৎসবকে ঘিরে জেলা সদরের ব্যস্তবহুল বানিজ্যিক নগরী ঈদগাঁও বাজার সহ পাশ্ববর্তী উপ বাজারের যত্রতত্র স্থানে জালনোট সিন্ডিকেট চক্রের অপতৎপরতা বেড়েই চলছে। এ হীন চক্র আবার ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারনা ও করে যাচ্ছে।

এদিকে কোরবানীর ঈদে ঈদগাঁও বাজারের বিভিন্ন মার্কেটে বিকিকিনিতে ভরপুর থাকে, কোরবানীর পশুর মাংস রান্নার কাজে ব্যবহৃত মসল­া সামগ্রীর বাজারে থাকে সরগরম ও বিশেষ করে পশুর হাটে গরু মহিষ বিকিকিনির কাজে নানা কৌশলে জালনোটের লেনদেন বেশী ভাগই হয়ে থাকে। এ চক্ররা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঈদের মালামাল কেনাকাটার সুযোগে এ জাল টাকার ব্যবসা বেশী ভাগই করে থাকেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ।

তবে এলাকার সুধী মহলের মতে, এই জালনোট সিন্ডিকেট চক্ররা জেলার বিভিন্ন এলাকার ন্যায় ঈদগাঁওর নানা জায়গায় ও ছলে বলে কলা কৌশলে ছোবল মারতে থাকে। তবে জাল নোট প্রতিরোধে ঈদগাঁওর ঐতিহ্যবাহী কোরবানীর পশুর হাটে আল আরাফা ব্যাংক, ইউনাইটেড ব্যাংক, ফাষ্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক বিশেষ বুথ স্থাপন করে পশু ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে অনেকটা সহায়ক হয়ে দাড়িয়েছে।

বাজার ইজারাদার কমিটির সদস্য ছৈয়দ করিম জানান- ঈদগাঁওর এই পশুর হাটটি সকাল সন্ধ্যা অব্যাহত রয়েছে এবং কোরবানীর পূর্বের দিন পর্যন্ত ধারাবাহিক চলবে। এদিকে বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রত্যান্ত পাড়া মহল্লায় স্টেরয়েড বা পামবড়ির মাধ্যমে পালিত পশু মোটাতাজা করণের হিড়িক অব্যাহত রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ককসবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে গরু ব্যবসায়ী কিংবা কোরবানীর পশুর হাটে বিক্রয়ের আশায় বহুদিন ধরে আদর যত্নের সহিত তাদের পালিত পশুটিকে পামবড়ি খাওয়ায়ে মোটাতাজা করন করে বাজারে চড়া দামে বিকিকিনি করার জন্য আনতে চোখে পড়ে। এদের এহেন কর্মকান্ডের কারনে আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে ঈদগাঁও বাজারের মত বিশাল কোরবানীর পশুর হাট সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপ-বাজারে দুরদুরান্ত থেকে আসা লোকজন বিপাকে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে ঈদগাও প্রানী সম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রের ভি এফ এ আবদুল মোতালেব জানান, টেকনাফের বর্ডারে যদি নজরদারী বাড়ানো হয়,তাহলে ওপার থেকে বার্মাইয়া বড়ি বা পামবড়ি আসা বন্ধ হবে। তবে এ এলাকায় গরু মহিষ মোটা তাজা করণ করতে পারবেনা আর ব্যবসায়ীরা। এসব বিষয়ে সরকারের কঠোর হস্তে দমন অতীব জরুরী।

অন্যদিকে, মোটাতাজাকৃত গরু চেনার উপায় যে – অস্বাভাবিক মোটা দেখাবে, শরীরের মাংসবহুল স্থানে মাঝে মাঝে নড়ে উঠবে, স্বাভাবিক গরুর মত সজাগ থাকবে, লেজ কান কম নড়াচড়া করবে, সামান্য হাটলে হাঁপিয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে এবারের পশুর হাট বাজারে শেষ মুহুর্তেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরগরমে পরিনত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: