Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / শরণার্থী সমাচার / ফের রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার ডুবি : টেকনাফ থেকে ৪৫ দিনে উদ্ধার ১৬০টি লাশ

ফের রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার ডুবি : টেকনাফ থেকে ৪৫ দিনে উদ্ধার ১৬০টি লাশ

ফাইল ফটো

গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর জুলুম, নির্যাতন ও মানুষ হত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। রাখাইন সেনাদের অমানবিক নির্মম বর্বতা এবং অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সীমান্ত অতিক্রম করে নাফনদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসছে শত শত রোহিঙ্গা।

এদিকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আদম বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে অসাধু দালাল চক্র। কারণ তারা প্রতিদিন ছোট ছোট এবং ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ব্যবহার করে মিয়ানমার সিমান্ত থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে মানবিক বাংলাদেশে। কারণ রোহিঙ্গাদের একমাত্র আশ্রয় স্থল হচ্ছে এই দেশটি।

অপরদিকে রোহিঙ্গা পাচারে জড়িত থাকা দালাল চক্রের সদস্যরা গভীর সাগরে অসহায় রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা পাচারে ব্যবহার করা বেশির ভাগ ট্রলারগুলো পুরাতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। দালাল চক্রের সদস্যরা বেশী টাকা মুনাফার আশায় সেই ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ট্রলারে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা বোঝাই করে আসছে প্রতিনিয়ত। আর তাদের সেই ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে নদী ও গভীর সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনার পর থেকে এই পর্যন্ত প্রানের ভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। তার পাশাপাশি আদম বাণিজ্যকারী দালালদের ভুলের কারনে বেশ কয়েকটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় মারা যায় প্রায় দুই শতাদিক রোহিঙ্গা, সাগর ও নাফনদী থেকে উদ্ধার করা হয় ১৬০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও অবুঝ শিশুদের মৃতদেহ। সে ধারাবাহিকতা নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাত দশটায় শাহপরদ্বীপ ঘোলারচর পয়েন্টে একটি রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা ১২টি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও অবুঝ শিশুর লাশ।

স্থানিয়রা জানায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে আরো ২০ থেকে ৩০ রোহিঙ্গা। জীবিত উদ্ধার হওয়া এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে প্রায় ৪০ জন নৌকায় করে টেকনাফে আসছিলেন। অবশেষে শাহপরদ্বীপ নাফ নদীর ঘোলার চরে তাদের নৌকাটি হঠাৎ ডুবে যায়। এরপর তাদের সোর-চিৎকারে বিজিবির টহল দল বিষয়টি জানতে পেরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ ২ বিজিবির শাহপরিরদ্বীপ বিওপির কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, উদ্ধার করা রোহিঙ্গারা জানান ঝুঁকিপূর্ণ নৌকাটিতে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০জন যাত্রী ছিল।

তিনি আরো জানান রোববার রাত ১০টার দিকে গোলারচর পয়েন্টে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাটি ভাটার টানে এবং ধমকা হাওয়ার কবলে পড়ে উলটে গিয়েছিল। উদ্ধার অভিযানে আমরা দুই শিশুসহ সর্বমোট ১৩জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।

এদিকে নিখোঁজদের রোহিঙ্গাদের সন্ধানে কাজ করছে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা।

টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ এই পর্যন্ত সর্বমোট ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও অনেক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধার করার অভিযান অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে স্থানিয়রা অভিমত ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গা পাচার এবং চিহ্নিত আদম বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা দালাল চক্রের মুলহোতাদের আইনের আওয়াতাই নিয়ে না আসলে প্রতিনিয়ত বাড়বে ট্রলার ডুবির ঘটনা, উপকূলে ভেসে আসবে লাশের মিছিল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: