Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / মৈত্রীর বন্ধন আরও সুদৃঢ়, বললেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী

মৈত্রীর বন্ধন আরও সুদৃঢ়, বললেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে মৈত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় হলো। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক এ অঞ্চলে এবং অঞ্চল ছাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর নতুন উদাহারণ সৃষ্টি করেছে।

দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধনের সময় একথা বলেন। এ সময় ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের সংযোগকারী ভৈরব ও তিতাসে দুটি রেল সেতুর উদ্বোধন এবং ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের উভয় প্রান্তের বহিরাগমন ও কাষ্টমস কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়েছে।

৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা ও দিল্লী থেকে দুই প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়া দিল্লিতে তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। কলকাতা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা ভারত ও অন্যান্য নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে চাই। যাতে আমরা সুপ্রতিবেশী হিসেবে পাশাপাশি বাস করতে এবং জনগণের কল্যাণ আমরা করতে পারি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের আরেকটি অনন্য দিন আজকে। আজ ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের উভয় প্রান্তের বহিরাগমন ও কাষ্টমস কার্যক্রম চালু, খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের ফ্লাগিং আমরা করলাম, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে এসব কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পেরেছি এবং মমতাজি এখানে উপস্থিত আছেন। এটা যে আমরা সফলভাবে করতে পারলাম এজন্য সকলকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন বলেন, ‘এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক টর্মিনাল ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতার যাত্রীদের সাফল্য কামনা করছি। আজ দুই দেশের মধ্যে নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।’

প্রধানমন্ত্রী মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেসের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই আরও উন্নত হবে এবং আজকে যে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো সেজন্য আমাদের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।’

এ সময় নরেন্দ্র মোদি সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের মৈত্রী ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় হলো।’

যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করার পর। ছবি: ফোকাস বাংলা

নয়া দিল্লী থেকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, এমপি গণভবন প্রান্তে এবং দ্বিতীয় ভৈরব সেতু এলাকায় অবস্থানরত রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধণ শ্রীংলা, এনবিআর-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নতুন দুটি রেলসেতু হচ্ছে দ্বিতীয় ভৈরব এবং দ্বিতীয় তিতাস সেতু। এ দুটি সেতু ভৈরব এবং তিতাস নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মধ্যে ডাবল লাইনে রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট-এর (এলওসি) আওতায় সেতু দু’টি নির্মাণ করা হয়েছে। ৯৮৪ মিটার দীর্ঘ এবং ৭ মিটার প্রশস্ত ভৈরব রেল সেতুটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৫৬৭ কোটি টাকা এবং ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বরে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গত মাসে শেষ হয়। অন্যদিকে ২১৮ মিটার লম্বা এবং ৭ মিটার প্রশস্ত দ্বিতীয় তিতাস সেতুর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১৬১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গত মাসে শেষ হয়। এই দুটি রেলসেতুতেই ডুয়েল গেজ এবং ব্রডগেজ উভয় রেল লাইন বসানো হয়েছে।

রেলের পূর্ব জোনের জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হাই জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো পুরাতন এবং নতুন দুই ধরনের রেলসেতু ব্যবহার করেই যাত্রী পরিবহন করবে।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেটের যাত্রীদের যাত্রা দ্রুততর করবে কেননা এগুলো ডুয়েল গেজ এবং ব্রডগেজ লাইন দিয়ে একশ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারবে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম ডবল লাইন ট্রেন সার্ভিসকে আরো গতিশীল করার উদ্দেশ্যেই ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর প্রকল্পটি একনেকে পাশ হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খুলনা-কলকাতার মধ্যে যাতায়াত সহজতর করতে বন্ধন এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি চালু করা হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করার কথা রয়েছে এবং সকাল ১১টায় (ভারতীয় সময়) কলকাতা থেকে ছেড়ে মাত্র সাড়ে ৪ ঘন্টায় ১৭৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে খুলনা এসে পৌঁছবে।

এতে আসন রয়েছে ১৫৬টি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ারের ভাড়া হবে এক হাজার ৫০০ টাকা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের ভাড়া এক হাজার টাকা। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। যশোরের বেনাপোল অতিক্রম করবে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে। কলকাতায় পৌঁছবে ভারত সময় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। কলকাতা থেকে ভারতের সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে যাত্রা করে খুলনায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার মৈত্রী এক্সপ্রেসের উভয় প্রান্তের বহিরাগমন ও কাষ্টমস কার্যক্রম চালু হওয়ায় তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে যাত্রীদের। আগে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও মুর্শিদাবাদের গেদে স্টেশনে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হতো এবং এতে যাত্রীকে তার সব মালামাল নিয়ে নামতে ও উঠতে হতো। এ কাজ করতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগত, যা এখন লাগবে না।

 

সূত্র:আশরাফ ইসলাম-priyo.com;ডেস্ক।

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: