সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / পুষ্টি ও স্বাস্থ্য / যে কারণে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে

যে কারণে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2023/09/Health-Decreased-Sexual-Desire.jpg?resize=540%2C330&ssl=1

অনলাইন ডেস্ক :

মানুষ মাত্রই যৌনাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষের যৌনাকাঙ্ক্ষা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর প্রিয়জনকে নিয়ে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর ইচ্ছে যখন তখন হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে এত ভেজাল খাবার এবং অলসতা ও বদভ্যাস আমাদেরকে ঘিরে আছে, যার ফলে যৌনক্ষমতা কমে যেতে থাকা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।

সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয় সব কিছুই। মানসিক, শারীরিক, দৈহিক বিভিন্ন পরিবর্তন মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। একসময় ৫০-৬০ বছরেও পুরুষের যৌনক্ষমতা অটুট থাকতো, কিন্তু এখন বয়স ৩০ এর উপরে গেলেই সবাই যৌনাকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি হারাতে শুরু করে। এর জন্য দায়ী কি আমরা নিজেরাই না? বন্ধু-বান্ধব, কবিরাজ, ফুটপাতের ক্যানভাসার, পর্নোগ্রাফী ছবি, বই, বাসের জানালা দিয়ে ছুড়ে মারা লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমেই যৌনতা সম্পর্কে অপশিক্ষা লাভ করে। আবার কিছু কিছু পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতায় আগ্রহ না পেলেও হস্তমৈথন করে যৌন সুখানুভূতি লাভ করে।

বর্তমান কর্মব্যস্ততার যুগে বদলে যাওয়া খাদ্যাভাস, বিশ্রামের ঘাটতি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অবসাদের ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কমে আসে যৌন ক্ষমতাও। তাছাড়াও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের যৌন আচরণ। ইদানিং স্মার্টফোন এত বেশি যৌন উপাদান সরবরাহ করছে যে, তরুণ-তরুণীরা আসল যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা : মানসিক চাপ, বিষণ্নতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার ফলেও যৌন ক্ষমতা কমে যেতে পারে। পুরুষের সফল জীবন সঙ্গী এখন স্ত্রী হতে পারেন না বরং দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান অনেকেই। স্ত্রীর নানা রকম পেইন ধীরে ধীরে পুরুষের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নষ্ট করে দিতে থাকে, যার থেকে বাদ যায় না যৌনক্ষমতাও। মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, সঙ্গীকে সুখী করতে না পারার জন্য দোষী, নিজের শরীরের ইমেজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব, যৌন সহবাসের সময় সম্পর্কে ভুল ধারণা ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ধূমপান, মদ্যপান ও ড্রাগ : দিনে দিনে ধূমপান ও মদ্যপান যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান ও ড্রাগ সেবন আপনাকে মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেবে। বহু গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে ধূমপান, মদ্যপান ও ড্রাগ যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। পুরুষেরা অতিরিক্ত নেশায় মজে গেলে তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অনেকে তো এর সঙ্গে সঙ্গে আরও মারাত্মক ক্ষতিকারক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল পুরুষের ইডি বা লিঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা আছে তাদের বেশীরভাগই ধূমপান বা মদ্যপান করে থাকেন। যারা ড্রাগ আসক্ত, তাদের বেশীরভাগই ধীরে ধীরে যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এছাড়াও কিছু ঔষধ আছে (ব্যথানাশক, গর্ভরোধী) যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আপনার যৌনক্ষমতা কমিয়ে আনে।

ওজন : ওজন বেশী থাকলে যৌন সঙ্গমের ইচ্ছাও কমে যেতে থাকে। আবার ওজন কম থাকাও ভালো নয়! ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম থাকলে সেটাও যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের যৌনক্ষমতা অন্যান্যদের তুলনায় বেশী হয়ে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়, যা আপনার যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

দুর্বল যকৃত : যকৃত দুর্বল হওয়ার কারণে যৌনশক্তি কমে যায়। এর কারণ হলো, কলিজা হলো মানুষের শরীরের রক্ত প্রস্ততকারীর অন্যতম একটি উপাদান। বিশেষ করে যকৃতের কাজই হলো রক্ত তৈরী করা। যকৃত দুর্বলের লক্ষণ হলো—মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়া। শরীরের রঙ হলদে হলদে হয়ে যাওয়া। সহবাসের সময় উত্তেজনা কমে যাওয়া। এসব যখন দেখা দিবে, তখন বুঝতে হবে যে, তার যকৃত দুর্বল হয়ে গেছে।

মস্তিষ্কের দুর্বলতা : আবার অনেকের মস্তিষ্কের দুর্বলতার কারণেও যৌনশক্তি কমে যায়। যখন যৌনাঙ্গের শিরা দুর্বল হয়ে যায়, সব সময় রোগীর মাথায় ব্যাথা অনুভব করে কিংবা সহবাসের পর পরই অস্থিরতা অনুভব করে এবং চোখে অন্ধকার দেখে। সহবাসের পরই অধিক ক্লান্তি নেমে আসে। তাহলে বুঝতে হবে যে, তার মস্তিঙ্কের দুর্বলতা রয়েছে। যার কারণে তার যৌনশক্তি হ্রাস পেয়েছে।

কফি : কফির অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। আবার রয়েছে ক্ষতিও। কফি শরীরে অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ডগুলিকে সক্রিয় করে নানা ধরনের স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। এই ধরনের হরমোন আবার সেক্স হরমোন ও থাইরয়েডের ব্যালান্সে তারতম্য ঘটিয়ে যৌন ইচ্ছা কমিয়ে দেয়।

আমাদের দেশে যেহেতু যৌন সমস্যা বা রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না, তাই অনেকেই অপচিকিৎসার ফাঁদে পড়ে।কোনো ব্যক্তি যদি যৌন অক্ষমতায় ভোগেন, তবে হতাশা বা সংকোচে না ভুগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক সঠিক কারণটি খুঁজে বের করে সঠিক সমাধান দিতে পারবেন। অনেক সময় স্রেফ মানসিক চাপমুক্ত হলে বা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলেই উন্নতি সম্ভব। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এসব রোগে স্নায়ু ও রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মিলনে সমস্যা হয়। ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করুন, অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা সীমিত করুন এবং অবৈধ নেশা দ্রব্য ব্যবহার করবেন না। ওজন ঠিক রাখুন ও নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ করুন। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো ও বিশ্রাম নেওয়া, মানসিক চাপ, অবসাদ, দুশ্চিন্তা বা অন্যান্য সমস্যাকে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই যৌন অক্ষমতা কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নয়, বরং সাময়িক একটি জটিলতামাত্র। এই সমস্যার চিকিৎসায় অনুমোদিত ওষুধ বা ইনজেকশন ও সার্জারি রয়েছে, তবে তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

Share

Leave a Reply

Advertisement

x

Check Also

ঈদগাঁওতে উপজেলা ও ইউপির নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা ১৭ জুলাই

  এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও : কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নবনির্বাচিত ...

https://coxview.com/coxview-com-footar-14-12-2023/