বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বিএনপির জন্য অপেক্ষা করবে নির্বাচন কমিশন মহেশখালীর খাইরুল আমিন হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় লামার মডার্ণ স্কুলের অভাবনীয় অর্জন ভ্রমণে ইনানী সমুদ্রসৈকত চমেকে ঈদগাঁওর সংবাদকর্মী পুত্র জামির সফল অপারেশন সম্পন্ন কক্সবাজারে আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচী স্থগিত টনসিলের ব্যথা দূর করার উপায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে চট্টগ্রামে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা ২৬ শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দীতে গণসমাবেশের অনুমতি এডঃ হারুন অর রশিদ’র পিতার মৃত্যুতে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির শোক প্রকাশ এসএসসিতে ঈদগাঁও উপজেলার ৬টি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল : এ+ পেল ৯০ জন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন আজ

http://coxview.com/wp-content/uploads/2022/05/Rabindranath-.jpg

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2022/05/Rabindranath-.jpg?resize=540%2C304

অনলাইন ডেস্ক :
আজ ২৫ বৈশাখ। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে এবং ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কালজয়ী এ কবির পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাতা সারদাসুন্দরী দেবী। বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগে বাস করতেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, মাতৃভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং ধর্ম-বর্ণ-বিত্ত-লিঙ্গনির্বিশেষে সর্বমানবের মুক্তির চেতনা রবীন্দ্রনাথকে অনন্য উচ্চতা দান করেছে। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির অমৃত সন্তান। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন আমাদের প্রেরণাশক্তি। তার গান, সাহিত্য ও কর্মচেতনা বাংলাদেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে “গুরুদেব”, “কবিগুরু” ও “বিশ্বকবি” অভিধায় ভূষিত করা হয়।

বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে যেসব কবি-সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠিত করেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁদের মধ্যে অন্যতম। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কাব্যরচনা শুরু করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতার বই বনফুল প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫২। তবে বাঙালি সমাজে তার জনপ্রিয়তা প্রধানত সংগীতস্রষ্টা হিসেবে। তিনি ২ হাজার গান রচনা করেন। অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেন। কবিতা ও গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনা রবীন্দ্র রচনাবলী নামে ৩২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তার সামগ্রিক চিঠিপত্র উনিশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রবর্তিত নৃত্যশৈলী “রবীন্দ্রনৃত্য” নামে পরিচিত। এছাড়া ১৯ খণ্ডে রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র’। বাংলাদেশ থেকেও পাঠক সমাবেশ ও ঐতিহ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ প্রকাশ করেছে। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্মের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে। কবির প্রথম চিত্র প্রদর্শনী দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়।

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2022/05/Rabindranath-Takur-Shanti-Niketon.jpg?resize=558%2C314

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন আজ

গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী তিনিই প্রথম এশীয় ও একমাত্র বাঙালি লেখক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির চেতনা ও মননের প্রধান প্রতিনিধি। বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তিনি স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত নির্দেশকের ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতস্রষ্টা। চিত্রকর, সমাজচিন্তক এবং মানবতাবাদী দার্শনিক হিসেবেও রয়েছে তার বিশ্বখ্যাতি। বাঙালি জাতীয়তাবোধের অন্যতম রূপকারও তিনি। বাঙালির অস্তিত্ব ও চেতনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ মিশে আছেন ওতপ্রোতভাবে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের গান হয়ে উঠেছিল প্রেরণার উত্স।

রবীন্দ্রমোদীরা মনে করেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির অহংকার। অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম দিয়ে তিনি বিস্তৃত করেছেন বাংলা সাহিত্যের পরিসর। অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে, জীবন-সংগ্রামের প্রতিটি ক্রান্তিকালে আমাদের পাশে থাকেন রবীন্দ্রনাথ।

দিবসটি উদযাপনে ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে আজ জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জন্মবার্ষিকী উদযাপনে এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে। এছাড়া ঢাকা, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন।

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2022/05/Rabindranath-1913.jpg?resize=540%2C304

১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালেই রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে আমাদের জাতীয় সংগীত হিসাবে নির্বাচনের পক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধকালে এবং পরবর্তীকালে জাতীয় সংগীতরূপে এ গানটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। কিন্তু যেহেতু গানটি অনেক দীর্ঘ এবং জাতীয় সংগীতরূপে এটি গাওয়া এবং বাজানো অত্যন্ত কঠিন, সে কারণে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৩-০১-১৯৭২ তারিখের মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়-

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’। এর প্রথম দশ লাইনকেই জাতীয় সংগীতরূপে গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত হয় যে, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে বাদ্যযন্ত্রে এর প্রথম চার লাইন বাজানো হবে।

কবির লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতটিও কবির লেখা। কবির মৃত্যুর পর বিশ্বভারতী থেকে ৩৬ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ প্রকাশ পেয়েছে।

জীবনের শেষ চার বছর ছিল তার ধারাবাহিক শারীরিক অসুস্থতার সময়। এই সময়ের মধ্যে দুইবার অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল তাকে। ১৯৩৭ সালে একবার অচৈতন্য হয়ে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা হয়েছিল কবির। সেবার সেরে উঠলেও ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর তিনি সেরে উঠতে পারেননি। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী দীর্ঘ রোগভোগের পর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ১৩৪৮ সালের ২২শে শ্রাবণ (ইংরেজি ৭ আগস্ট ১৯৪১) কলকাতায় জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com