Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / শরণার্থী সমাচার / রোহিঙ্গা জনস্রোত কমার লক্ষণ নেই

রোহিঙ্গা জনস্রোত কমার লক্ষণ নেই

সংগৃহীত ফটো

 

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

বাংলাদেশমুখী মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর জনস্রোত কমার কোনো লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে সে দেশের মংডু, বুচিডং, রাচিডং, টাউনশিপ (জেলা) এলাকার শত শত গ্রাম রোহিঙ্গাশূন্য হয়েছে। এখনো স্রোতের মতো আসছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার দেড় মাসের মতো পেরিয়ে গেলেও এখনো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থামছে না। মাঝে কয়েকদিন ধীরগতির পর আবারো নতুন করে বাংলাদেশ অভিমুখে ঢল নেমেছে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের। সোমবার বিকেল থেকে উখিয়া আন্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা আসতে থাকে। নো ম্যান্স ল্যান্ডে তাদেরকে প্রবেশে বাধা দিয়ে রাখে বিজিবি।

সংগৃহীত ফটো

বিজিবির একটি সূত্র জানায়, তাদেরকে উপরের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেয়া যবেনা। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও তাদেরকে তল্লাশির মাধ্যমে করা হবে। ৩৪ বিজিবির ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আশিকুর রহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থান করছে। তাদের শুকনো খাবার ও পানি দেয়া হচ্ছে। নির্দেশনা পেলে প্রক্রিয়া মেনে তাদের ঢুকতে দেয়া হবে।

মিয়ানমার থেকে আসা দিলারা, নুর আয়েশা, নুর কায়দা, হাজেরা, ফাতেমা, রফিক উল্লাহ, সেলিম, মোহাম্মদ ইউনুছ, ইয়াহিয়াসহ একাধিক রোহিঙ্গার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানিয়েছেন, গত সাত দিন আগে আরাকান রাজ্যের গুথিদং জেলার কোয়েনগাইন গ্রাম থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তারা। সাত দিন পর বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছেন। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্যে যেসব রোহিঙ্গা সীমান্তে অবস্থান করছেন তারা সবাই গুথিদং জেলার বাসিন্দা বলে জানান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার স্রোত যেমন থামছে না, তেমনি রোহিঙ্গাদের লাশের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অসহায় রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় পর্বত পেরিয়ে নদী ও সাগর পথ দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে থাকে।

২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনার সূত্র ধরে রোহিঙ্গার ঢল বাড়তে থাকে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৭ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গার প্রবেশ ঘটেছে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে। রোহিঙ্গাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে স্থানীয়দের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। পাশাপাশি উখিয়ায় অতিরিক্ত বাসাভাড়া, অফিস ও গাড়িভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এনজিওতে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী নিয়োগের কারণে কলেজে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতির হার কমে গেছে বলে জানিয়েছেন, উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ। রোহিঙ্গাদের নির্মম নির্যাতনের ফলে তারা প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

Leave a Reply

%d bloggers like this: