Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ / লামায় বন্যা ও ব‍্যাপক পাহাড় ধস

লামায় বন্যা ও ব‍্যাপক পাহাড় ধস

https://i1.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2021/07/Flood-Rafiq-30-7-21-1-scaled.jpg?resize=620%2C465

পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে লামা সরকারি হাসপাতালসহ পৌর শহর।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :

পার্বত‍্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত তিনদিনের টানা ভারী বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পর এলাকাসহ ২টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়ন অসংখ্য স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। সে সাথে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় ক্ষতবিক্ষত স্থান গুলো ফুটে উঠেছে।

লামা পৌরসভার মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, ২ দিন পানি নিচে ডুবে থাকায় রাস্তাঘাট গুলো ভেঙ্গে ও খানাখন্দে হয়ে গেছে। বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় পৌরসভায় তিন শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় লোকজন বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

https://i1.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2021/07/Flood-Rafiq-30-7-21-4.jpg?resize=480%2C360

লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নর ২নং চাম্বী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পাহাড় ধস কবলে পড়েছে।

পাহাড় ধসে ও বন্যায় উপজেলার সাথে ইউনিয়ন গুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও এখন স্বাভাবিক হতে শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় লক্ষাধিক লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল।

এছাড়া ফাঁসিয়াখালী ও আজিজনগর ইউনিয়নের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে উপজেলার অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সরকারি-বেসরকারি অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লামা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাহাড় ধস আর বন্যার পানিতে ক‍ৃষকদের বীজতলা ও লাগানো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লামা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সানজিদা বিনতে সালাম জানান, এবার লামায় ৩ হাজার ২৭১ হেক্টর আমন এবং ২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে গত তিনদিনের পাহাড়ি ঢলে ও বন্যার পানিতে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। একইভাবে গ্রীষ্মকালিন সবজি ও বিভিন্ন ফল বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে লামা বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী উজ্জ্বল বড়ুয়া জানায়, পাহাড়ি ঢলে ও বন্যার পানিতে লামা বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় দোকানপাট পানির নিচে ডুবে গেছে। একদিকে লকডাউন ও অপরদিকে হঠাৎ বন্যায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লামা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরী ভিত্তিতে লামা পৌরসভার জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল এবং ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের জন্য ৩ মেট্রিক টন চাল এবং ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি আংশিক এবং পূর্ণাঙ্গ বিধ্বস্ত হয়েছে। ধসে গেছে গ্রামীন রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট।

Leave a Reply

%d bloggers like this: