সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে ফের অপতৎপরতা

ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে ফের অপতৎপরতা

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2023/06/Map-Eidgong.jpg?resize=540%2C300&ssl=1

নিজস্ব প্রতিনিধি; ঈদগাঁও :

কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে ফের অপতৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছে বলে লোকমুখে চাউর হয়েছে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে ঈদগাঁও উপজেলার সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ একটি স্বার্থন্বেষীমহল ঈদগাঁও উপজেলার বাস্তবায়ন ও স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।


জানা গেছে ,ঈদগাঁও উপজেলা কমপ্লেক্সের জন্য সরকার নির্ধারিত স্থান নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, স্বেচ্ছাচার প্রসূত এবং তৎসময়ে দায়িত্বশীল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের এলাকা প্রীতি ও অন্যায্য প্রভাবদুষ্ট এবং নতুন উপজেলা থানা এবং তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের সংশোধিত নীতিমালা ২০০৪ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় ১১৭তম প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর গৃহীত সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট লংঘন অভিযোগে বিগত বছরের ২রা নভেম্বর ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছৈয়দ আলম, একই ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ও ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার যথাক্রমে বজলুর রশীদ, মাহমুদুল হাসান মিনার ও জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আরমান মোরশেদ বাদী হয়ে

১. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব,
২. মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব,
৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব,
৪. মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়),
৫. চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার,
৬. কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি),
৭. কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব),
৮. কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও),
৯. নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) কক্সবাজার,
১০. উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার), কক্সবাজার,
১১. সিনিয়র উপ-সচিব (স্থানীয় সরকার বিভাগ),
১২. সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজার সদর উপজেলা,
১৩. উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), কক্সবাজার সদর,
১৪. জনাব সাইমুম সরওয়ার কমল,সংসদ সদস্য (২৯৬) কক্সবাজার -৩,
১৫. কক্সবাজার সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান’সহ ১৫ জনকে রীটপিটিশনের জবাবদাতা (বিবাদী) করে মহামান্য হাইকোর্টে রীটপিটিশন (নং ৩৫/২০২২) দায়ের করেন।


পিটিশনে নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের সরকার নির্ধারিত ঈদগাঁও মৌজার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পরিবর্তে ঈদগাঁও মৌজার অন্তর্ভুক্ত ঈদগাঁও ইউনিয়নে স্থাপনের পক্ষে ১৯টি যুক্তি উপস্থাপন করে উপজেলা সদরদপ্তর স্থাপনের জন্য ঈদগাঁও মৌজার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের নির্বাচিত স্থানটির নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ, বিধিবহি র্ভূত, অন্যায্য এবং বিশেষ ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


দীর্ঘ শুনানি ও উভয়পক্ষে আইনী তর্কবিতর্ক শেষে গত ১জুন মহামান্য হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি মো: খসরুজ্জামান ও মাননীয় বিচারপতি মো: খাইরুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈতবেঞ্চে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বৈধ, উপজেলা কমপ্লেক্সের জন্য ঈদগাঁও মৌজার অন্তর্ভুক্ত ইসলামাবাদ ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত স্থানটি বিধিসম্মত ৭৭৭ কিভাবে নির্বাচন করা হয়েছে মর্মে রায় প্রদান করেন এবং রীটপিটিশনকারীদের আনিত অভিযোগসমুহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মহামান্য আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।


বাদীপক্ষের অভিযোগ, উপজেলা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নথিপত্রে উপজেলা সদর দপ্তরের জন্য ঈদগাঁও মৌজার অন্তর্ভুক্ত ঈদগাঁও ইউনিয়নের নাশীখাল সংলগ্ন ছয় একর জমি চিহ্নিত করে ট্রেস ম্যাপ, খতিয়ান ও মালিকপক্ষের অঙ্গীকারপত্র সংযুক্তি সহকারে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মধ্যখানে কে বা কাহারা ওই প্রস্তাবনা নথিপত্র গোপন করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উপজেলা সদরদপ্তরের জন্য ইসলামাবাদ ইউনিয়নের স্থানটিকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।


আদালতের একটি সূত্রে জানা গেছে, বাদীপক্ষ তাদের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবির পক্ষে বাস্তব ও যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় পক্ষটি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিবাদি পক্ষের মামলা পরিচালনা সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ঠ একজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলাটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একটি চিহ্নিত স্বার্থন্বেষী মহলের পরিকল্পিত নীলনকশা। নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের পথকে সুগম করাই মামলার উদ্দেশ্য।


মহামান্য আদালতের রায় সকল যড়যন্ত্রের সমুচিত জবাব দিয়েছে এবং কারা ঈদগাঁও উপজেলার উন্নয়নে পথের কাঁটা, গণমানূষের দুশমন ও ফিকিরবাজ তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।


নগর পরিকল্পনাবিদ ও জেলা আ’লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী বদিউল আলম বলেন, একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা আমাদের শত বছরের অর্জনকে কলংকিত করেছে। নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র ও জাতির কাছে আমরা সবাই হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি, লজ্জিত হয়েছি। উপজেলা সদরদপ্তর কোন ইউনিয়নে হলো বা হবে সেটা বড় কথা নয়। আমরা এলাকার কতটুকু পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে পারলাম, নাগরিক সেবা কত দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারলাম সেটাই বড় কথা। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমরা মুখে মুখে মধুবুলি ফুটাই আর অন্তরের বিষমাখা তীর দিয়ে ঈদগাঁও গণমানুষের ভাগ্যকে বধ করার মল্লযুদ্ধে লড়াই করি। মানুষ বোকা নয়, কে কখন কোথায় কোন ষড়যন্ত্রের চাষাবাদ করছে, কে সার দিচ্ছে, কে বীজ দিচ্ছে, কে পানি দিচ্ছে মানুষ সবই জানে এবং বুঝে। উপজেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, কালক্ষেপণ করে গণমানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।


অনেক সময় আর সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে, শতবছরেও সে ক্ষতিপূরণ হবার নয়। এখন যত দ্রুত উপজেলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে ঈদগাঁওবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পৌরসভা করা যায় ততই আমাদের মঙ্গল। পৌরসভা না হলে উপজেলার পরিপূর্ণ সুফল আমরা কখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবনা।


ঈদগাঁও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবু তালেব বলেন, ঈদগাঁও’র মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঈদগাঁও’কে উপজেলায় রূপান্তরের, সেই দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পূরণ করেছেন, উপহার দিয়ে ঈদগাঁওবাসীকে সম্মানিত করেছেন। এখন দ্রুত উপজেলা বাস্তবায়ন হোক, সাধারণ মানুষ নাগরিক অধিকার ভোগ করুক, সেবা পাক এটাই আমার প্রত্যাশা। অহেতুক তুচ্ছ, আপেক্ষিক ও অনাবশ্যক সংকীর্ণতায় বিতর্ক আর বিভেদ সৃষ্টি করে বৃহৎ স্বার্থকে বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত করাটা নিরর্থক।


ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক বলেন, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে সরকার যথার্থ স্থানে ঈদগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করতে পারে। এই নিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বাইরে গিয়ে উপজেলার কার্যক্রমকে প্রলম্বিত করা কিংবা উন্নয়ন কাজে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করা বিচ্ছিন্নতাবাদি মানসিকতা। এই ধরণে আচরণ ও মানসিকতা থেকে বের হয়ে সকলের সম্মিলিত শক্তি দিয়ে ঈদগাঁও উপজেলার উন্নয়নে কাজ করা উচিত।


ঈদগাহ জাহানারা বালিকা উচ্চ বিস্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন পর ঈদগাঁও উপজেলার কার্ষক্রম শুরু হয়েছে। ইউএনও নিয়োগ হয়েছে। আবারো যারা এই কার্যক্রমকে স্হগিত করিয়ে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা সময়ের দাবী বলে মনে করি।


ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, রশি টানাটানি না করে সরকার নির্ধারিত যেকোন স্থানে উপজেলা সদরদপ্তর স্থাপন করে দ্রুত উপজেলার কার্যক্রম শুরু করা জরুরী। এমনিতেই ঈদগাঁও উপজেলাকে হাইকোর্ট দেখিয়ে সারাদেশে আমরা সমালোচিত ও ঘৃণিত। যে যার অবস্থান থেকে আমরা যদি আমাদের জন্মভূমিকে ভালবাসি, ঈদগাঁও গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা সশ্রদ্ধা চিত্তে মেনে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করি তবেই আমাদের ঋণশোধ হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধিত্বের আড়ালে মুখে মুখোশ পরে ধাপ্পাবাজিতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালায় তাদের সম্পর্কে সাবধান হতে হবে।


জালালাবাদ ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি সেলিম মোরশেদ ফরাজী বলেন, ঈদগাঁও উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের গণমানুষের সুবিধা বিবেচনা করে সরকার যে স্থানেই উপজেলা সদরদপ্তর করুক এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু উপজেলার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।


জালালাবাদ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিকাশ কান্তি দে বলেন, আমরা অনেক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি, এটা পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে। আমরা বঞ্চিত হতে চাইনা। ঈদগাঁও উপজেলা সদরদপ্তর উপজেলার অধিক্ষেত্রের কোন এক নিভৃতকোণে হোক কিংবা শহুরে আবহে গিজগিজে কোলাহলে হোক, এটা কোন পার্থক্য গড়ে তুলেনা। আমাদের প্রয়োজন উপজেলার সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘরেঘরে পৌঁছানো, সুষম উন্নয়ন মহাসড়কের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় সমান্তরাল ভাবে এগিয়ে যাওয়া।


গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া (১৭৮৬৩)কে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঈদগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।


হাইকোর্টে দায়ের করা রীটপিটিশনটি খারিজ হওয়ার দুইদিনের মধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে ঈদগাঁও উপজেলার সর্বসাধারণের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে। কার কার মিশ্রপ্রতিক্রিয়ায় সংশয় আর আশংকাও ফুটে উঠছে। অনেকে মনে করেন, হাইকোর্টের পর এবার উপজেলাকে সুপ্রিমকোর্টের মুখোমুখি করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উপজেলা বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে বেশ দীর্ঘায়িত করতে পারে।

Share

Leave a Reply

Advertisement

x

Check Also

https://coxview.com/wp-content/uploads/2024/06/Sagar-11-6-24.jpeg

ঈদগাঁও উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৯৬টি পরিবার পাচ্ছেন গৃহ

  এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও : কক্সবাজারে নবসৃষ্ট ঈদগাঁও উপজেলায় এবার ১৯৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার ...

https://coxview.com/coxview-com-footar-14-12-2023/