বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

নিজে করুন বিয়ের কার্ডের ডিজাইন

Biyeএই বারের লেখায় আমি সেই সব মেয়েদের নিয়ে কথা বলতে চাইছি যাঁরা আর কয়েক মাসের মধ্যেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ভাবুন। বাইরের সৌন্দর্য তো আছেই, সেই সঙ্গে মনের অবস্থান কেমন হবে সে কথাই আমি বলতে চাইছি এই লেখায়।

আগের থেকে মেলামেশা করে যে বিয়ে হয় সেখানে পাত্র-পাত্রীর আলাপ পরিচয় থাকে, মন জানাজানি হয়, পরষ্পরের পছন্দ–অপছন্দ, ভাল লাগা মন্দ লাগা সম্পর্কে দু’জনেই ওয়াকিবহাল থাকেন। কিন্তু সম্বন্ধ করে বিয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে দেখা হয় মাত্র কয়েক বার। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মন জানাজানি হওয়ার সুযোগ তেমন থাকে না। এ ক্ষেত্রে বিয়ের আগে মানসিক ভাবে নিজেকে তৈরি করার ধারাটা আলাদা।

কেমন করে? বলছি। সম্বন্ধ করে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রের সামাজিক অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিবার সম্পর্কে বিশদ ধারণা তৈরি করুন। সব কিছু জানার চেষ্টা করুন। এগুলো না জানলে বিয়ের পর সমস্যা হতে পারে। সেই সমস্যা এড়ানোর জন্যই আগে থেকে জেনে নিন পাত্রের সম্পর্কে বিস্তারিত খবর। হবু বরের সম্পর্কে যত বেশি জানতে পারবেন, ততই বিয়ের পর নতুন পরিবেশে গিয়ে মানিয়ে নিতে সুবিধে হবে।

তবে বিয়ের আগে মন থেকে নেতিবাচক চিন্তাগুলো ঝেড়ে ফেলাই ভাল। আজকাল সিনেমার মতো বিয়ের আগের অনুষ্ঠান যেমন সঙ্গীত, মেহন্দি, আশীর্বাদ, এই সব খুব জাঁকজমক করে হয়। শাড়ি-গয়নার কেনাকাটাও যেন একটা উত্সব। এই সব অনুষ্ঠানের দিকে মন দিলে আপনার বিয়েটা হয়ে উঠবে ‘বিগ ফ্যাট ইন্ডিয়ান ওয়েডিং’।

আজকাল তাইল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ার মতো ভিন দেশে গিয়ে বিয়ের প্রবণতা বেড়েছে। দেশে বিয়ে হলে সুন্দর রিসর্টে বিয়ে হচ্ছে। বিয়ের এই চমত্কার দিকগুলোকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

বিয়ের প্রস্তুতি

আজকাল মেয়েরা বিয়ের সব খুঁটিনাটি ব্যাপারেই জড়িয়ে থাকতে চান। আমারও মনে হয় বিয়ের প্রস্তুতিতে নিজেকে জড়িয়ে নেওয়াটা বেশ ভালই।

১) হাতে যদি সময় থাকে নিমন্ত্রিত হবেন যাঁরা তাঁদের একটা তালিকা তৈরি করুন। হয় নিজস্ব কমিপউটারে নয়তো বা বড় খাতায় এই তালিকা তৈরি করুন। পরিবার, অফিস, স্কুল, কলেজ, পাড়াপ্রতিবেশীদের মধ্যে থেকে নামগুলো বেছে নিন। এরপর এই সব হবু নিমন্ত্রিতদের এসএমএস করে অথবা মেল করে বিয়ের দিনের তারিখটা ব্লক করতে বলুন।

২) নেমন্তন্নের কার্ডের ডিজাইনে যেন আভিজাত্যের ছোঁয়া থাকে। আজকাল রেডিমেড কার্ডের অজস্র দোকান হয়েছে। সেই সব জায়গায় ঘুরে ডিজাইন দেখে কার্ডের অর্ডার দিন। যদি নিজে ডিজাইন করা কার্ড বানাতে পারেন, এবং তাতে যদি নিজের লেখা বয়ান ব্যবহার করতে পারেন তো সব চেয়ে ভাল। এই ধরনের কার্ড চিরস্থায়ী সম্পদ হয়ে থাকবে।

৩) লোকজন খাওয়ানোর জন্য মনের মতো কেটারারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এমন মেনু তৈরি করুন যাতে লোকে আপনার বিয়ের ভোজ খেয়ে অনেক দিন মনে রাখতে পারে। বিয়ে ঘিরে নানা অনুষ্ঠান থাকে। প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানের খাওয়াদাওয়ার মেনুতে বৈচিত্র তৈরি করুন। খাওয়াদাওয়ার গুণগত মান যেন খুব ভাল হয়।

৪) এ বার আসি ব্যক্তিগত গ্রুমিংয়ের কথায়। শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে বিয়ের আগে নজর দেওয়াটা খুব জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখুন। শরীর টোনিং করার দিকে গুরুত্ব দিন। নিয়ম করে ফেসিয়াল ও সৌন্দর্যচর্চা করুন। চুলের যত্ন নিন। হঠাৎ করে চুল কেটে ফেলবেন না। বিয়ের আগে যেন অনুশোচনা যেন না হয় যে ‘এই রে, চুলটা কেটে ফেললাম!’

৫) বিয়ের কেনাকাটার সময় মনে রাখুন এমন জাঁকজমকের শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ কিনবেন না যা একবার পরে আর পরা যাবে না। এমন পোশাক কিনুন যা বিয়ের পর সাধারণ অনুষ্ঠানে আপনি স্বচ্ছন্দে পরতে পারেন। ভারতের নানা প্রদেশের তাঁতের শাড়ি আছে, সালোয়ার আছে। সেগুলো কিনতে আগ্রহী থাকলে নানা এম্পোরিয়ামে বা বুটিকে ঘুরে কেনাকাটা করতে পারেন। ব্যাগ, অন্যান্য অ্যাকসেসারির ক্ষেত্রে‌ও একই কথা স্মরণে রাখুন। সব সময় খেয়াল রাখবেন যাই কিনুন না কেন বিয়ের পরও যেন ব্যবহার করতে পারেন।

৬) এ বার আসি গয়নার কথায়। আধুনিক গয়নার পাশাপাশি ঐতিহ্যের গয়নাও কিনুন। এমন গয়না কিনবেন যা বছরের পর বছর ব্যবহার করতে পারেন।

৭) বর ও হবু শ্বশুরবাড়ির জন্য কেনাকাটার সময় তাঁদের রুচি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন।

৮) বিয়ে এবং রিসেপশনের অনুষ্ঠানের সাজগোজের জন্য পেশাদার মেক আপ আর্টিস্টকে ডাকুন। হেয়ার স্টাইলিস্টয়ের সঙ্গেও কথা বলে রাখুন। শাড়ি বা লেহঙ্গা আজকালকার বিয়েতে নানা ভাবে পরা হয়। অভিনব কায়দায় শাড়ি পরতে হলে পার্লারে গিয়ে পরে আসুন।

 -বাংলাদেশপ্রেস,ডেস্ক।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com