সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / পুষ্টি ও স্বাস্থ্য / সফেদা ফলের পুষ্টিগুণ

সফেদা ফলের পুষ্টিগুণ

অনলাইন ডেস্ক :

দেশের মানুষের কাছে সফেদা পরিচিত একটি ফল। সফেদা একটি পুষ্টি মান সমৃদ্ধ অত্যান্ত মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুন্দর গন্ধযুক্ত একটি ফল। রসে টইটুম্বুর মজাদার ফল সফেদা। আমরা কম-বেশি সবাই এই ফলটাকে চিনি। রাস্তা-ঘাটে প্রায়শই এই ফলটি বিক্রি করতে দেখা যায়।

সফেদার বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে গাছ রোপণ করা যায়। এ গাছে ফল ধরতে ৭-৮ বছর লেগে যায়। চারা উৎপাদন করতে ২-১ দিন বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর বেলে দো-আঁশ মাটি দেখে বীজ রোপণ করতে হয়। এছাড়া কলম চাষের মাধ্যমেও বংশ বৃদ্ধি করা যায়। সফেদা গাছ ১০০ ফুটের মতো লম্বা হতে পারে। এই গাছ ঝড়-বাতাসে টিকে থাকতে পারে। কলমের গাছ দ্বিতীয় বছর থেকেই ফল দেয়া শুরু করে। পাঁচ বছরের কলমের একটি সফেদা গাছে ৩৫০ থেকে ৫৫০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

সফেদা গাছ বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ। খয়েরি রঙের মিষ্টি, রসালো এ ফল। এর ছালে দুধের ন্যায় সাদা প্রচুর আঠালো কষ থাকে। পাতা সুন্দর, মাঝারি আকারের, সবুজ ও চকচকে। এগুলো একান্তর, উপবৃত্তাকার বা ডিম্বাকার। ফল পরিপক্ক হবার পর তা সংগ্রহ করতে হবে। ফল যখন শক্ত থাকবে তখনই সংগ্রহ করার উপযুক্ত সময়। ফল সংগ্রহের উপযোগী সময় হলে খোসায় কিছুটা কমলা রঙের আভা আসবে। এ সময় ফল কাটলে শাঁসের রঙেও হলুদ আভা দেখা যাবে। ফলের বোঁটা থেকে পাতলা আঠা বের হবে।

সফেদা ফল বড় উপবৃত্তাকার আকৃতির। এর ব্যাস ৪-৮ সেন্টিমিটার হয়। দেখতে অনেকটা মসৃণ আলুর মতো, তামাটে ও খসখসে। এর ভেতরে দুই থেকে পাঁচটি বীজ থাকে। ভেতরের শাঁস হালকা হলুদ থেকে মেটে বাদামি রঙের হয়। বীজ কালো। সফেদা ফলে খুব বেশি কষ থাকে। এটি গাছ থেকে না পাড়লে সহজে পাকে না। পেড়ে ঘরে রেখে দিলে পেকে নরম ও খাওয়ার উপযোগী হয়। নতুন সফেদা গাছে ফল আসতে পাঁচ-আট বছর লাগে। এতে বছরে দুবার ফল আসতে পারে। যদিও গাছে সারা বছর কিছু কিছু ফুল থাকে। সফেদা ফলটি শুধুমাত্র এর স্বাদ ও গন্ধের জন্যই সমাদৃত নয়। সফেদা ফলের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য উপকারিতা।

সফেদা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। সফেদায় গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ ছাড়াও সফেদায় আছে ফাইবার, পলিফেনলিক যৌগ। এতে প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্য উপযোগী অংশে রয়েছে ৭৩.৩ ভাগ জলীয় পদার্থ, ২১.৪ ভাগ শ্বেতসার, ০.৭ গ্রাম আমিষ, ১.১ গ্রাম স্নেহ, ২৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ২ মিলিগ্রাম লৌহ, ৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.০২ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাবিন, ০.০২ মিলিগ্রাম নায়াসিন এবং ৯৭ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন। প্রতি কেজি ফলে ৭০০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।

নেয়া যাক অনেক গুণ সম্পন্ন সফেদার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

১) সফেদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফসফরাস যা হাড়ের গঠন মজবুত করে।

২) সফেদা কনজেশন এবং কাশি থেকে উপশম করতে সাহায্য করে।

৩) সফেদা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। প্রদাহজনক সমস্যা সমাধানে সমাধান করে। অর্থাৎ গ্যাসট্রিটিস ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

৪) সফেদায় বিদ্যমান ভিটামিন এ চোখের সুরক্ষায় কাজ করে। রাতকানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

৫) সফেদা ওজন কমাতে সাহায্য করে। সফেদা নিয়মিত খেলে স্থূলতা জনিত সমস্যার সমাধান হয়।

পুষ্টিগুণ :
সফেদার স্বাদ জানলেও অনেকে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত নন। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য সফেদায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ৮৩ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৯.৯৬ গ্রাম, আমিষ ০.৪৪ গ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৩ ০.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৫ ০.২৫২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৭ মিলিগ্রাম, ফলেট ১৪ আইইউ, ভিটামিন সি ১৪.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৯৩ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, জিংক ০.১ মিলিগ্রাম। আজ জেনে নেব, সফেদার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

Share

Leave a Reply

Advertisement

x

Check Also

দৈনিক যুগান্তরের কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিম উদ্দিনের পিতার মৃত্যু : বিভিন্ন মহলের শোক

  নিজস্ব প্রতিনিধি; ঈদগাঁও : দৈনিক যুগান্তরের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিনের পিতা হাজী নূর ...

https://coxview.com/coxview-com-footar-14-12-2023/