শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

সামাজিক বনায়ন অস্তিত্ব সংকটে : উখিয়ায় ভূয়া প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড দিয়ে বনভূমি দখল

SAMSUNG CAMERA PICTURESনিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া :

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় অস্তিত্বহীন ভূয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে রীতিমত বাহারি সাইনবোর্ডের আড়ালে সরকারি বনভূমি দখল পূর্বক বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকায় হস্তান্তর প্রবণতা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক বনায়নের মূল্যবান বনসম্পদ লুটপাট করে নির্ধারিত বনভূমিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনা তৈরি করার নেপথ্যে বনবিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে দাবী করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাগান মালিক সদস্যরা প্রধান বন সংরক্ষক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া বনরেঞ্জের ৭টি বনবিট ও ১টি পরীক্ষণ ফাড়ির আওতায় সাড়ে ১৯ হাজার একর রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি কাগজে কলমে থাকলেও কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মতে সংশ্লিষ্ট বনবিট কর্মকর্তাদের উৎকোচ বাণিজ্যের কারণে লুপাট হয়ে যাচ্ছে সামাজিক বনায়নের গাছ-গাছালি সহ সরকারি বনভূমি। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা, হেফজখানা, ক্লাব, সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে বনভূমি দখলের প্রবণতা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

সরেজমিন এ উপজেলার টিএন্ডটি ও হাজেম রাস্তা এলাকা বনভূমি ঘুরে দেখা যায়, শত শত ভূয়া অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে বনভূমি জবর দখল করা হয়েছে। স্থানীয় আব্দুস সালাম সহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এলাকার একদল ভূমিদস্যু বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সাইনবোর্ড দিয়ে বনভূমি দখল করছে। পরে দখলকৃত বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তন সহ ঘেরা বেড়া দিয়ে মোটা অংকের টাকায় দখলবিক্রি করছে। স¤প্রতি এ উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের লম্বাঘোনা, টিএন্ডটি, মাছকারিয়া, কুতুপালং, দোছরী, হরিণমারা ও মধুর ছড়া এলাকায় এভাবে শত শত একর বনভূমি ও সামাজিক বনায়নের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় উখিয়া সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম মিয়া, সদর বনবিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও বালুখালী বনবিট কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান সহ ৩ জন কর্মকর্তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও থামেনি বনভূমি জবর দখল প্রবণতা।

থাইংখালী বনবিটের আওতাধীন ২০১১ সালের সামাজিক বনায়নে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিয়োগকৃত সুফলভোগী সদস্য মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান, নুরুল হক, আজিজুল হক ও ঝুলু সহ একাধিক লোকজন অভিযোগ করে জানান, থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের নির্দেশে সামাজিক বনায়নের গাছ-গাছালি লুটপাট করা হচ্ছে।

তারা আরো জানান, ১০ হাজার টাকায় একেকটি পানের বরজের জায়গার দখল হস্তান্তর করায় সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ওই বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ইতোমধ্যে সামাজিক বনায়নে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি পানের বরজ ও অবৈধ বসত বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, বনভূমির দখল প্রবণতা চলে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক বনায়নের গাছ লুটপাট ও জায়গা দখল, বেদখলের বিষয়টি এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

এদিকে এ উপজেলা বৃহত্তম বন সমৃদ্ধ এলাকা উখিয়ার ঘাট বালুখালী বিটের আওতায় সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও কাঠচোর সন্ত্রাসীদের অসহনীয় দৌরাত্মা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় সামাজিক বনায়নের অংশীদার সুফলভোগীর সদস্যরা জিম্মি হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাস্তবায়িত সামাজিক বনায়নের সুফলভোগীদের সভাপতি বদিউর রহমান জানান, উখিয়ার ঘাট বনবিট কর্মকর্তা রুহুল আমিনের উৎকোচ বাণিজ্যের কারণে প্রায় আড়াই হেক্টর সামাজিক বনায়ন প্রকল্প এখন হুমকির মুখে পড়েছে। সে আরো জানান, থাইংখালী ও বালুখালী এলাকার অবৈধভাবে গড়ে উঠা প্রায় ১০টিরও অধিক সমিলে সামাজিক বনায়নের লুটপাট করা গাছ-গাছালি বিভিন্ন সাইজ করে প্রকাশ্য বাজারজাত করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে অভিযুক্ত করে সুফলভোগী সদস্যরা প্রধান বন সংরক্ষক প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

এ ব্যাপারে জানার জন্য বিট কর্মকর্তা রুহুল আমিনের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মির আহমদ জানান, তিনি উখিয়া বনরেঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাই এ বিষয়ে তার জানার কথা নয়।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com