http://coxview.com/wp-content/uploads/2022/01/Supreme-Court-.jpg

‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘অনুসন্ধান কমিশন’ কেন নয়’

অনলাইন ডেস্ক :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের পেছনের ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে একটি স্বাধীন ‘জাতীয় অনুসন্ধান কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ আদেশ দেয়।

সাংবিধানিক চেতনা ও জাতীয় মূল্যবোধ স্বার্থে দ্য কমিশনস অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬ অনুযায়ী একটি জাতীয় অনুসন্ধান গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কমিশন গঠনে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও অর্থ সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দুই বছর আগে কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়ার এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর সোমবার এ রুল দেন বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর দ্বৈত বেঞ্চ।

গত কয়েক বছর ধরে এ দাবির পক্ষে উচ্চকিত অনেকেই। তিন বছর আগে ২০২০ সালে ১৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হয়। সর্বদলীয় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ও কুশীলবদের চিহ্নিত করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবিও তোলা হয় সেদিন।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই বিভিন্ন সময় এ দাবি তুলেছেন। ২০২১ সালে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যায় যারা জড়িত এবং যারা এ হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে ও খুনিদের পাশে ছিল, তারাও সমানভাবে দায়ী। জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হয়েছে। এ হত্যার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদেরও মুখোশ উন্মোচন করা হবে। সেদিন বেশি দূরে নয়, সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের দুই মাস পরই বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিকদের হত্যাকাণ্ড, অন্তর্ধান নিয়ে কমিশন গঠনের উদাহরণ তুলে ধরে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাসের পক্ষে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মো. আসফাকোজ্জোহা।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তি নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তর্ধান নিয়ে ১৯৫৬ সালের ৫ এপ্রিল ও পরে বিভিন্ন সময় গঠন করা কমিশনসহ ১৯৬৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড, শ্রীলংকার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট সলোমন বন্দরনায়েক হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের উদাহরণ তুলে ধরা হয় রিটে।

গত বছর ১৪ আগস্ট রিটটি শুনানির জন্য উঠলে কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে সময় চাইলে আদালত শুনানি মুলতবি রাখেন। পরে কয়েক দফা সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। সর্বশেষ রোববার (২২ জানুয়ারি) পর্যন্ত নেওয়া সময়ের মধ্যে কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ, অগ্রগতি জানাতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর সোমবার শুনানিতে উঠে রিটটি।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ কয়েক দফা সময় নিয়েও কমিশন গঠনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানাতে পারেনি। আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ আছে, অচিরেই করে ফেলবে। তখন আদালত বলেছেন, ঠিক আছে আমরা রুল দিচ্ছি, সরকার কমিশন গঠন করে আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দিলেই হবে। এরপর আদালত রুল জারি করেন।

Share

Leave a Reply

http://coxview.com/wp-content/uploads/2022/07/coxview.com-Footar-09-07-2017-JPG.jpg
%d bloggers like this: