Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / নারী ও শিশু / পূষ্টিহীনতায় ভুগছে রোহিঙ্গা শিশুরা

পূষ্টিহীনতায় ভুগছে রোহিঙ্গা শিশুরা

ফাইল ফটো

 

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার শহর ও গ্রামগুলো এখন রোহিঙ্গাদের বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কোথাও তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ লাখেরও বেশী নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা লক্ষাধিক।

এদিকে এই সমস্ত অসহায় ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান ও বিত্তবানরা যত্রতত্র খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। কিন্তু এক লক্ষের ছেয়ে বেশী এই রোহিঙ্গা শিশুদের খাবারের দিকে কারো নজর নেই। ফলে বাচ্চারা একেবারেই খাবার বঞ্চিত হয়ে পড়েছে, এতে পুষ্টিহীনতা ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে অনেকে।

বিশেষ করে টেকনাফ উপজেলার পৌর শহরটি রোহিঙ্গাদের জন্য সাম্প্রতিক ত্রাণ বিতরণ পয়েন্টে হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে বাস স্টেশন জামে মসজিদ এলাকায় অবস্থান নিতে আসে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশু। সবার মুখে অজানা আঁকুতি। ১০ থেকে ১২ দিন হাঁটার পর নাফ নদী পেরিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে এদেশে ঢোকেছে এইসব রোহিঙ্গারা। এই রোহিঙ্গাদের ৪/৫ বছরের শিশুরা প্যান্টপরা লোকজন দেখলেই খাবারের জন্য পিছু পিছু ছুটছে। একদিন বা দু’দিন অবস্থান করার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছে। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের কারণে টেকনাফে নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ। গত দুই সপ্তাহ যাবৎ এটাই টেকনাফের নিত্যদিনের চিত্র। ফলে স্থানীয়রা পড়েছে বিপাকে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোহিঙ্গাদের সাহায্য নিয়ে হাত বাড়িয়ে আসছে ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান। গত কয়েকদিন ধরে সরেজমিন ঘুরে ফুটে উঠেছে এধরনের চিত্র। দেখা গেছে, স্বপ্নের আনোয়ারা, হাটহাজারী কলেজ গেইট, বাঁশখালী পুকুরিয়া কওমি মাদরাসা, চকরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা বাসীর নামে ট্রাকে করে বিভিন্ন শুকনো খাবার, ঔষুধ, কাপড়ছোপড় এবং তৈজসপত্রসহ ব্যবহারিক পণ্য বিতরণ করেছে।

অপরদিকে প্রতিদিন ১০/১৫ জনের দল বেঁধে এসে ১৫/২০টিরও বেশী গ্রুপ ত্রাণ বিতরণ করার চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ত্রাণ আসলেও সঠিক বন্টনের আভাবে কেউ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছেনা। ত্রাণ না পেয়ে অধিকাংশ রোহিঙ্গারা ক্ষুধার্ত দিন কাটাচ্ছে। বাস স্টেশন এলাকায় ত্রাণ বিতরণে সরকারী নিয়ম-নীতি চোখে পড়েনি এবং প্রশাসনের সরাসরি তদারকির কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। যত্রতত্র ত্রাণ বিতরণের ফলে স্টেশন এলাকায় যানজট লেগে থাকছে নিয়মিত।

অপরদিকে রোহিঙ্গা প্রতিটি পরিবারের সাথে গড়ে অন্তত ৩/৪ জন বাচ্চা শিশু দেখা গেছে। এদের বয়স শুন্য থেকে ১০ মাস এবং অনেকে এক বছরের বেশী বয়সী। শিশু গুলো মায়ের দুধের সাথে বাড়তি কোন শিশু খাদ্য পাচ্ছে না। ফলে এসব শিশু মারাত্মকভাবে খাদ্য হীনতায় ভূগছে। ত্রাণ বিতরণ কাজে স্থানীয় ভাবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান সক্রিয় আছে এই গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিয়ে কেঊ চিন্তিত নয়।

এছাড়া রোহিঙ্গা সহায়তার নামে সক্রিয় ভাবে বিভিন্ন লোকজন সিন্ডিকেট করে মসজিদকে ব্যবহার করে চলছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকটি সিন্ডিকেট ভ্রাম্যমানভাবে মানবিক সহায়তা করে যাচ্ছে। সর্বোপরি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যারা সাহায্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে আসছে তাদেরকে এই সব রোহিঙ্গা ক্ষুধার্ত ছোট্ট শিশুদের কথা একবার ভেবে দেখা উচিত। তার পাশাপাশি আইনশৃংক্ষলা রক্ষার্থে অন্তত পুলিশের একটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন সচেতনমহল।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিক জানান, নির্দিষ্ট ক্যাম্প ছাড়া ত্রাণ বিতরণ করা যাবে না। যত্রতত্র ভাবে কেউ ত্রাণ বিতরণ করলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: