রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কুতুবদিয়ায় আনন্দ স্কুলের টিসির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভাতা আত্মসাৎ ও শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ!

Anonda Schoolনিজস্ব প্রতিনিধি, কুতুবদিয়া:

বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত রিচিং আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন (রকস্) প্রকল্পের অধীনে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত আনন্দ স্কুলের দায়িত্বরত টিসি আবু ইউছুপ এর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে এলাকায় ঝড় তুলেছে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকার সচেতনমহল। এ ব্যাপারে দক্ষিণ ধূরুং ইউপি সদস্য মোক্তার আহম্মদ ও মাননীয় সাংসদ কর্তৃক নিয়োগ কমিটির প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, ভূক্তভোগীরা প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সুত্রে প্রকাশ, পুরাতন ৪৮টি স্কুলের ১৪৯০ জন শিক্ষার্থীর সরকারীভাবে ২য় সাময়িক পরীক্ষার উপকরণ ভাতা বাবদ পরীক্ষা ভাতা জনপ্রতি ৫০টাকা হারে মোট ৭৪৫০০টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও নতুন ৭৪ টি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এটিসির বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীরা জানায়, টিসি আবু ইউছুপ বিভিন্ন সময় দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে আনন্দ স্কুল সমূহে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছে। লোক দেখানো প্রচারনা ও পরীক্ষার মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে বির্তকের সৃষ্টি করেছে। তাদের অভিযোগ সদ্য স্থাপিত আনন্দ স্কুল সমূহের মধ্যে উপজেলার ২ নং দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের ৪ ওয়ার্ডের মশরফআলী বলীর পাড়া, করিম সিকদার পাড়া ও জুলাখার পাড়া আনন্দ স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘুষ বাণিজ্যের আশ্রয় নিয়েছে টিসি আবু ইউছুপ। কোন ধরনের নীতিমালা না মেনে মনগড়া শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

দক্ষিণ ধুরুং ৪ নং ওয়ার্ডের এমইউপি মোক্তার আহমদ জানায়, এলাকার কোথাও স্কুল স্থাপন না করেই শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে টিসি আবু ইউছুপ সরকারি অর্থের অপচয় করেছে। তিনি আরো জানান, এব্যপারে টিসির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একাধিকবার অভিযোগ দিলে রক্স এর নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মহসিন এবিষয়ে কোনরুপ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো টিসির পক্ষে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে।

তাছাড়া এলাকার সচেতনমহল অভিযোগ করে বলেছে, সবেমাত্র শেষ হওয়া ২য় সাময়িক পরীক্ষায় শিক্ষা উপকরণ ভাতা বাবদ পরীক্ষা ভাতা প্রতিজন ছাত্র/ছাত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ টাকার মধ্যে ৮ টাকা নামমাত্র খরচ দেখিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে টিসি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার ওমর ফারুক জানায়, আনন্দ স্কুল সমূহের ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জনপ্রতি ৩ টাকায় প্রশ্ন সেট সরবরাহ করেছে। বাকি ৪৭ টাকার মধ্যে কাগজ সরবরাহ বাবদ জনপ্রতি ৭ টাকা খরচ ধরলেও বাকি ৪০ টাকা পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার সরকারীভাবে নীতিমালা রয়েছে। টিসি বাকী টাকা কি করছে জানিনা। বাকী টাকা কোনরূপ খরচ ছাড়াই পকেটস্থ করেছে টিসি এমন অভিযোগ এলাকার সচেতন অভিভাবক মহলের। যদি তাই হয় তাহলে জনপ্রতি ৪০ টাকা করে ১৪৯০ জন শিক্ষার্থীর ৫৯৬০০টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ধারনা বিশিষ্টজনদের।

আনন্দ স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানকার শিক্ষদের খাতা কাটা বাবদ কোন ধরনের পারিশ্রমিক দেয়া হয়না। সোমবার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থাপিত আনন্দ স্কুলে সরেজমিনে পরিদশর্ন করে সেখানকার ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১ সপ্তাহ আগে পরীক্ষা শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পর্যন্ত পরীক্ষা ভাতা দেওয়া হয়নি। এ চিত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একই রকম। এসব বিষয়ে টিসি আবু ইউছুপের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি তাই বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com