Home / প্রচ্ছদ / পেকুয়ায় ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা তরী রংধনু ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল : চলছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

পেকুয়ায় ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা তরী রংধনু ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল : চলছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

Shagir -22-1-16- (news 5pic) (5)এস.এম ছগির আহমদ আজগরী; পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভ্রাম্যমাণ তরী রংধনু ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল এর মাধ্যমে চলছে চিকিৎসা সেবা। সমাজের অনগ্রস দরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা দিতে জাহাজের মাধ্যমে চলছে চিকিৎসা সেবা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওই চিকিৎসা সেবা নিতে প্রতিদিন শতশত রোগী কুতুবদিয়া চ্যানেলে ভাসমান জাহাজে ভীড় করছে। মানবতার কল্যানের জন্য রংধনু ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল গত এক সপ্তাহ ধরে ওই চ্যানেলে অবস্থান করছেন। ইউরোপের লুক্সমর্বাগ এর একটি ধাতব্য সংস্থা এ চিকিৎসা সেবার জন্য অর্থ ও জনবল নিয়োগ করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের দুর্গম ও সমুদ্রের নিকটতম এলাকা সমুহতে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখেন। রংধনু ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়ার সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোকে সেবা নিশ্চিত করতে গত দু’বছর ধরে কাজ করছেন। এ বছর তারা কুতুবদিয়ার পরিবর্তে পেকুয়ার চিকিৎসার জন্য বদ্ধ পরিকর।

জানা গেছে ১৩ জানুয়ারী থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে রংধনু ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা তরী অবস্থান নেয়। মগনামা জেটিঘাটের অদূরবর্তী স্থানে ভ্রাম্যমান চিকিৎসালয় রংধনু হাসপাতালের তরীটি নোঙ্গার করেন। সেখানে নিয়মিত দেখা হচ্ছে রোগি। গত কয়েকদিনে ওই হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে রোগিদের প্রচন্ড চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। ঘাট এলাকায় শতশত রোগি রংধনু ফ্রেন্ডশীপ তরীতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। একটি ড্যানিস নৌকা দিয়ে ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে রোগিরা সাগর পাড়ি দিয়ে তরিতে পৌছছে।

জানা গেছে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ জন রোগিকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো ওই হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। জটিল ও সার্জারীর জন্য রোগিদের শনাক্ত করা হয়। জটিল রোগিদের ওই দাতব্য সংস্থা থেকে দেশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে নিয়ে গিয়ে তাদের অর্থ থেকে চিকিৎসা করা হয়। চোখের যাবতীয় চিকিৎসা ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নাক, কান, দন্ত চিকিৎসাও সেখানে করা হয়। এমবিএিস, বিডিএস, এফসিফিএসসহ অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট সেখানে নিয়োজিত রয়েছে। সপ্তাহের বিশেষ দিনে বিশেষজ্ঞ ও সার্জারী বিভাগের চিকিৎসকরা আসেন।

জানা গেছে রোগির জটিল চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতাল থেকে সহযোগি অধ্যপক (সার্জান) ডা. মঈনুল হক, বিডিএস ডা.মারিয়া ও ডা.জেমন্স ওই হাসপাতালে রোগি দেখেন। এছাড়া বিদেশ থেকেও চিকিৎসকরা ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে আসেন। ফেন্ডশীপ হাসপাতাল ভ্রাম্যমাণ জাহাজটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সেখানে ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে সহ একটি অত্যাধুনিক ল্যাব আছে। পরীক্ষা নিরীক্ষায় রোগিদের কাছ থেকে কোন ধরনের ফি নেওয়া হয়না। এছাড়া সব ধরনের মেডিসিন ওই হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ দেওয়া হয় রোগিদের। ২৪ঘন্টা হাসপাতালের একটি ফার্মেসী খোলা থাকে। সেখান থেকে প্রেসক্রাইপকৃত সব মেডিসিন দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকজন নার্স নিয়োজিত রয়েছে। তারা নরমালী চিকিৎসাও রোগিদের দিয়ে আসছেন। রংধনু ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ায় মানুষের দৃষ্টি এখন কুতুবদিয়া চ্যানেলের দিকে। সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র ও অনগ্রসর মানুষগুলো সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পেকুয়া ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন রোগিরা। জানতে চাইলে রংধনু ফ্রেন্ডশীপ ভাসমান হাসপাতালের ক্যাপ্টেন (মাষ্টার) আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন মানুষ প্রচুর আসছে। কিন্তু সঠিক সেবার জন্য তাদেরকে সিরিয়াল দিতে হচ্ছে প্রতিদিন ২৫০-৩০০জনকে। রোগীর ভীড় থাকা পর্যন্ত তারা সাগরের ওই পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন। পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান বিনামূল্যের এ চিকিৎসা সেবাদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply