Home / প্রচ্ছদ / চকরিয়া-পেকুয়ার বানবাসিদের খাবারের জন্য ছটপট : আরো ১ নারীর মৃত্যু

চকরিয়া-পেকুয়ার বানবাসিদের খাবারের জন্য ছটপট : আরো ১ নারীর মৃত্যু

Flood -  Chakaria 29.07 (2)মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া:

পাহাড়ি ঢলে চকরিয়ায় আরো একজন নারী মারা গেছে। চকরিয়ার ঢেমুশিয়াস্থ জমিদার পাড়ার প্লাবিত হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার পানির স্রোতে ভেসে যায় সিদ্দিক আহমদের মেয়ে সেতারা বেগম (৪০)। বুধবার তার মরদেহ উদ্ধার করে এলাকার লোকজন। এ নিয়ে বন্যায় চকরিয়ায় নিহতের সংখ্যা ৫জনে দাড়িয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে মাতামুহুরী নদী সংযুক্ত ছড়াখালগুলো ভরাট থাকায় জলাবদ্ধতায় পাহাড় ঘেষা গ্রাম এবং উপকূলীয় এলাকার গ্রামে প্রবেশ করা জোয়ারের পানির কারণে বুধবার পর্যন্ত টানা ৫ দিন পানিবন্দী রয়েছে ৩ লক্ষাধিক মানুষ। বানবাসিরা খাবারের জন্য চটপট করছে। সরকারী ত্রাণ পৌঁছেনি প্লাবিত এলাকায়। উপকূলের মানুষ সাগরের জোয়ার থেকে রক্ষা পেতে উচু বেঁড়িবাঁধ এবং উজানের মানুষ পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পেতে মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজিংসহ ছড়াখালগুলোর খনন দাবী করেছেন।

অন্যদিকে দু’উপজেলায় টানা ৬ দিন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় দূর্ভোগ আরো বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের।

Flood - Mukul (1)৩০ জুলাই বুধবার সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢলের পানি কমে আসা বমুবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী ও হারবাংসহ চকরিয়া পৌর এলাকার রাস্তাঘাট কোথাও ভেঙ্গেছে এবং অসংখ্যা স্থানে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত এমন কোন বসতঘর নেই ক্ষতির শিকার হয়নি। ঘেরা-বেড়া ভেসে গেছে, উপড়ে গেছে গাছ-গাছালি। মারা গেছে গবাদিপশু এবং সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে শতশত ঘর। ছড়াখাল দিয়ে পানি বের হতে না পারায় লক্ষ্যারচর ও কাকারার অন্তত দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। বন্যার শিকার শহীদুল্লাহ বলেন, ছড়াখাল খনন না হওয়ায় পানি রোদে শুকানো ছাড়া আমাদের দুর্ভোগ পোহাবে বলে মনে হচ্ছে না।

বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন চৌধুরী, লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মানিক, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল আজিম ও কাকারার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত ওসমান মানিক অভিন্ন বক্তব্যে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে এখনো শতশত পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। যেখানেই পানি কমছে সেখানেই দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার তোড়ে ক্ষতির দৃশ্যপট। এমন কোন পাড়া-গাঁ নেই যেখানে ক্ষত চিহৃ নেই।

কাকারার প্রবীন সমাজসেবক চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন কন্ট্রাকটর বলেন, এক বর্ষায় দু’দফা ভয়াবহ বন্যা এবারই প্রথম। অতিমাত্রায় ভরাট হয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজিং না করলে নদীতীরবর্তি বাসিন্দারা বন্যা দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে না। তাই বর্তমান সরকার চকরিয়ার ৫ লাখ মানুষের মনের দাবী মাতামুহুরী নদীর ড্রেজিং জরুরী ভিত্তিতে করবেন।

উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীর চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ বলেন, সাগরের জোয়ারের পানি থেকে উপকূলবাসিকে রক্ষা করতে সত্তর প্রয়োজন উচু বেঁড়িবাঁধ নির্মাণ করা।

চকরিয়া-পেকুয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ ইলিয়াছ জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকের বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আরো বলেন, টানা ৫দিন চকরিয়া- পেকুয়ার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এ অবস্থায় খাবার সংকট তীব্র হয়ে উঠলেও সরকারী কোন ত্রান পৌঁছেনি আমার সংসদীয় এলাকায়। তাই এ দু’উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষাণা করে ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

%d bloggers like this: