Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / অপরাধ, আইন-আদালত / ফলোআপ: আটক ৭ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা : কারাগারে প্রেরণ

ফলোআপ: আটক ৭ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা : কারাগারে প্রেরণ

 

গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :

জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়কারি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র ৭ সদস্যকে আসামী করে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে ব্যবসায়ী আবদুল গফুর। গত বুধবার মধ্যরাতে টেকনাফ মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার নং-৩৮, জিআর ৭৮৯/১৭ বলে জানা গেছে। তবে দায়েরকৃত মামলার ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ দ:বি ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ডিবি পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ, এএসআই গোলাম মোস্তফা, ফিরোজ আহমদ, আলা উদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তফা আলম ও আল আমিনকে আসামী করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো: মাইন উদ্দিন খান বলেন, গত বুধবার মধ্যরাতে আবদুল গফুর বাদি হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলার অভিযুক্তদের কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মামলাটি টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শফিউল আজম তদন্ত করছেন।

মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিউল আজম বলেন, মামলার ৭ আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি প্রাথমিক পর্যায়ে এবং তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত বলার সময় হয়নি বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজি মো. দিদারুল আলম জানান, কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত টেকনাফের বিচারক মীর মোশাররফ হোসেন আটক ৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ মামলার বাদী ও ঘটনা ভিকটিম টেকনাফ পৌরসভার মধ্যম জালিয়াপাড়ার মৃত হোসেন আহমদের ছেলে আবদুল গফুর জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড সংলগ্ন আল গনি রেস্তোঁরা থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় একই মাইক্রোবাস যোগে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। চোখ বেধে প্রধমে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখানো হয়। পরে কোটি টাকা দাবী করেন। নানা নাটকিয়তার পর বুধবার ভোরে ১৭ লাখ টাকায় আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর পরই সেনা বাহিনীর হাতে আটক হন ডিবি পুলিশের ৭ সদস্য। সেনা বাহিনীর তল্লাশীকালে এসআই মনিরুজ্জামান দৌঁড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আটক ৬ জনকে পুলিশ সুপারের জিম্মায় নেন এবং পালাতক এসআইকে তাদের সাথে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছিল।

এদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপর ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলকে প্রধান করে এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের ৭ সদস্যকে সাময়িক বহিস্কার করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন যথাযত কর্তৃপক্ষকে দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য যে, গত বুধবার টেকনাফের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায় করে টেকনাফের মেরিনড্রাইভ সড়ক দিয়ে ফেরার পথে সদরের দরগার ছড়া সেনাবাহিনীর চেকপোষ্টে টাকাসহ ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যকে আটক করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: