Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / ক্রীড়া / মুমিনুলের কারণেই রুদ্ধশ্বাস সংবাদ সম্মেলন!

মুমিনুলের কারণেই রুদ্ধশ্বাস সংবাদ সম্মেলন!

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে। ছবি: বিসিবি

 

তখনও দল ঘোষণা হতে ঘন্টাখানেক বাকি। সংবাদকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় ১৪ সদস্যের টেস্ট দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে থাকছেন তো বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক? এতোদিনের ‘অটোমেটিক চয়েস’ এখন দলে জায়গা পাবেন কিনা তা-ই প্রশ্নের মুখে। শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে দিয়ে মুমিনুলকে বাদ দিলো নির্বাচকরা। তাতেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষ হয়ে উঠলো ছোটখাটো কথার যুদ্ধক্ষেত্র!

দল ঘোষণা করছিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এর পরপরই শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। শুরুতেই নির্বাচককে আটকে দিলেন জ্যৈষ্ঠ এক সাংবাদিক। প্রশ্ন ছিলো, মুমিনুলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের? উত্তরে খানিকটা বিব্রত নান্নু জানালেন, সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাদের একার কিছু করার ছিলো না। চাইলেই নির্বাচকরা একা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তিনি বলেন, ‘কোচও নির্বাচক প্যানেলের সদস্য।’

ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, মুমিনুলের বাদ পড়ার পিছনে হাত রয়েছে প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের। চারিদিক থেকে যখন শুধুই মুমিনুল ইস্যু, তখন যেন খানিকটা উত্তেজিত নান্নু। বললেন, ‘একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে যদি এভাবে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে কিন্তু উত্তর দেয়া সম্ভব না।’

তারপরও উত্তর দিতে হয়েছে সাবেক এই ক্রিকেটারকে। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া নান্নু ফিরেছিলেন গণমাধ্যমের চাপের মুখে। ১৮ বছর পর সেই তিনিই এবার নির্বাচকের কাঠগড়ায়। কোচের সিদ্ধান্তের পরও কি নির্বাচকদের উচিত ছিল না ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়ানো? নান্নুর দাবি, সেটাও তিনি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘এটা আমাকে এভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন না। আমাদের হেড কোচ আছে তাকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন। আপনারা ওর স্ট্যাটের দিকে যাচ্ছেন না। গত এক বছরে ওর গড় ২৮ এ নেমে এসেছে। ও যেভাবে ওর ক্যারিয়ার স্টার্ট করেছে সেভাবে কিন্তু খেলতে পারছে না। ওকে নিয়ে কিন্তু আমাদের সামনে অনেক চিন্তা ভাবনা আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ওকে যেন নিতে পারি সেজন্য আলোচনা হয়েছে। এটা না যে ওর ক্যারিয়ার আমরা এখানেই শেষ করে দিচ্ছি।’

অথচ সেই গড়টা ছিলো বিদেশের মাটিতে। টেস্টে দেশের মাটিতে তার গড় রান ৫৮.১০। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সেটা শুধরে দেওয়া হলেই কথার মোড় ঘুরিয়ে নেন তিনি। বলেন, ‘এই টেস্টে বাদ পড়া দুর্ভাগ্যজনক বলতে পারেন না। কারণ ওর চেয়ে পারফরম্যান্সে দুজন ক্রিকেটার একটু ওপরের দিকে আছে। আমি যেটা বিশ্বাস করি একটা খেলোয়াড়কে সব সময় অগ্রাধিকার দেয়া উচিত ওর পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। একটা ব্যাটসম্যান যদি ধারাবাহিকভাবে চার-পাঁচ ম্যাচে রান না করে, তাহলে তার আত্মবিশ্বাসেও কিন্তু ঘাটতি থাকে। আমিও ব্যাটসম্যান ছিলাম, হাবিবুল বাশার সুমনও ব্যাটসম্যান ছিল। আমরা এসব জানি।’

এতো গেল নির্বাচকদের কথা। গণমাধ্যমের প্রশ্নবাণের মুখে পড়েছিলেন কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহেও। তার কাছেও যখন শুধুই মুমিনুলকে নিয়ে প্রশ্ন, তখন এক পর্যায়ে খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘আপনারা শুধু একজনকে নিয়েই কেন চিন্তিত তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের প্রতি আগ্রহ দেখাইনি। যে আপনাকে অবশ্যই যুক্তিটা ধরতে হবে। যে পারছে না, তাকে কেন দলে জায়গা দেওয়া হবে? দলে অনেক শ্রমিক খেলোয়াড় আছে তাদেরকেও সুযোগ দেওয়া উচিত!’

ওয়ানডে থেকে সাদা পোশাকে মুমিনুলকে স্থায়ী করার পিছনেও বড় হাত রয়েছে এই লঙ্কান কোচের। শেষবার শ্রীলঙ্কায় যখন তাকে টেস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো; কোচ কারণ হিসেবে জানালেন অফস্পিন খেলতে পারছে না মুমিনুল। তাই তাকে দলে রাখা হয়নি।

ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২২ টেস্ট খেলেছেন মুমিনুল। তাকে বলা হচ্ছিলো বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান। সবমিলিয়ে ৪৬.৮৮ গড়ে ১৬৮৮ রান করেছেন তিনি। সেঞ্চুরি রয়েছে চারটি, হাফ সেঞ্চুরি ১১টি। টেস্টে যেখানে দলের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে, সেই তিনিই বাদ পড়লেন অফ ফর্মের অজুহাতে!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ঘোষিত ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল:

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, শফিউল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদ।

সূত্র:সামিউল ইসলাম শোভন/priyo.com,ডেস্ক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: